৩টি চার দিনের ম্যাচে একটি করে সেঞ্চুরি ও হাফসেঞ্চুরি সহ ২৪৭ রান তার সংগ্রহে। অন্যদিকে ৮ ওয়ানডেতে ৪৬.৬০ গড়ে দুটি হাফ সেঞ্চুরি সহ ২৩৩ রান করেছেন। কঠোর পরিশ্রম করে এগিয়ে চলা ১৮ বছর বয়সী ব্যাটসম্যানের দৃষ্টি এখন জাতীয় দলে।
সম্প্রতি অনূর্ধ্ব-১৯ দলের হয়ে ব্যাট হাতে আলো ছড়িয়েছেন মাহমুদুল। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে দ্বিতীয় যুব টেস্টে দুটো চমৎকার ইনিংস এসেছে তার ব্যাট থেকে। প্রথম ইনিংসে ৭৪ রানের পর দ্বিতীয় ইনিংসে তার অবদান ১১৪ রান। মাহমুদুলের দুর্দান্ত ব্যাটিংয়ে ৩৩৩ রানের কঠিন লক্ষ্যে নামা বাংলাদেশ পেয়েছে ৩ উইকেটের স্মরণীয় জয়। যুব টেস্টের আগে ওয়ানডে সিরিজ আর একমাত্র টি-টোয়েন্টিতেও জ্বলে উঠেছেন তিনি। তিনটি ওয়ানডেতে করেছেন ৩৩, অপরাজিত ৫৮ ও ৫৭ রান, আর টি-টোয়েন্টিতে ৪৪ রান। মাহমুদুলের ব্যাটে অনুপ্রাণিত বাংলাদেশ প্রতিটি ম্যাচেই বিজয়ী।
ইংল্যান্ডের বিপক্ষে দুর্দান্ত সাফল্যে মাহমুদুল উচ্ছ্বসিত। বাংলা ট্রিবিউনকে তিনি বলেছেন, ‘ওরা তো আমাদের কন্ডিশনে খেলে অভ্যস্ত নয়। আমরা এই সুযোগই কাজে লাগিয়েছি। নিজেদের কন্ডিশন কাজে লাগিয়ে সাফল্য পেয়েছি আমরা।’
চাঁদপুরের ক্লেমন ক্রিকেট একাডেমিতে দুই বছর অনুশীলনের পর বিকেএসপিতে ভর্তি হন মাহমুদুল। তার স্বপ্ন, ‘সাকিব ভাই, তামিম ভাইদের মতো বড় ক্রিকেটার হওয়ার স্বপ্ন দেখি। ২০১২ সালে চাঁদপুরের ক্লেমন ক্রিকেট একাডেমিতে আমার ক্রিকেট জীবন শুরু। দুই বছর পর বিকেএসপিতে ভর্তি হই। এখন এইচএসসি প্রথম বর্ষে পড়ছি।’
বিকেএসপির সৌজন্যে ‘বড়’দের ক্রিকেটে নিজেকে প্রমাণের দারুণ সুযোগ তার সামনে। এ মৌসুমে ঢাকা প্রিমিয়ার লিগে খেলবে বিকেএসপি, যে লড়াইয়ে প্রতিষ্ঠানটির অন্যতম সঙ্গী মাহমুদুল। লিগে খেলার সুযোগ পেয়ে তিনি দারুণ খুশি, ‘এই প্রথম প্রিমিয়ার লিগে খেলার সুযোগ পেয়েছি, সেটাও আমার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের হয়ে। ভালো খেলার চেষ্টা করবো। লিগে সিনিয়রদের সঙ্গে খেলে নিজেকে পরিণত করতে চাই।’
চাঁদপুর জেলার কোচ শামীম ফারুকির কাছে দুই বছর প্রশিক্ষণ নিয়েছেন মাহমুদুল। সাবেক শিষ্য অনেক দূর যাবে বলেই কোচের বিশ্বাস, ‘মাহমুদুল ঠাণ্ডা স্বভাবের পরিশ্রমী ছেলে। ও খুব জেদি, কোনও কিছু করতে চাইলে সেটা করবেই।’