বৃষ্টির হস্তক্ষেপ ছিল গাজী গ্রুপ ক্রিকেটার্স ও উত্তরা স্পোর্টিং ক্লাবের ম্যাচেও। মিরপুরে ৪৯ রানে ম্যাচটি জিতেছে গাজী গ্রুপ। বৃষ্টি আইনে চার ম্যাচ পর জয়ের মুখ দেখেছে তারা।
শাইনপুকুর-প্রাইম ব্যাংক
আগের তিন ম্যাচে দুটি জয় ও একটি টাইয়ে আত্মবিশ্বাস বাড়িয়ে নিয়েছিল শাইনপুকুর। মঙ্গলবার ফতুল্লায় তার ফল পেয়েছে প্রাইম ব্যাংককে হারিয়ে।
এই জয়ে শাইনপুকুর ৮ ম্যাচে ৭ পয়েন্ট নিয়ে সপ্তম স্থানে উঠে গেছে। ১২ পয়েন্ট নিয়ে তিন নম্বরে প্রাইম ব্যাংক।
আগে ব্যাট করে তারা দুই ফিফটিতে ৮ উইকেটে করে ২৪৫ রান। প্রাইম ব্যাংকের ইনিংসের শুরুতে বৃষ্টি নামলে টার্গেট দাঁড়ায় ২০ ওভারে ১৪৯ রান। তারা থামে ৯ উইকেটে ১০০ রানে।
টস জিতে আগে ব্যাট করতে নেমে ১১ রানে ২ উইকেট হারায় শাইনপুকুর। সাদমান ইসলাম ও তৌহিদ হৃদয়ের ১২৫ রানের জুটিতে সেই ধাক্কা সামাল দেয় তারা। ৭৮ রানে সাদমান আউট হন ৬ চার ও ১ ছয় মেরে। ১১৭ বলে চারটি চার ও একটি ছয়ে ইনিংস সেরা ৮৩ রান করেন হৃদয়।
নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারাতে থাকা শাইনপুকুরকে লড়াই করার স্কোর এনে দেন শুভাগত হোম। ২৮ বলে ৬ চারে ৪৪ রানে অপরাজিত ছিলেন তিনি।
প্রাইম ব্যাংকের পক্ষে সর্বোচ্চ ৩ উইকেট নেন আরিফুল হক। দুটি করে পান আল আমিন হোসেন ও মনির হোসেন।
ইনিংস বিরতির সময় ঝড়ো বৃষ্টি নামে। প্রায় আড়াই ঘণ্টার পর শুরু হয় খেলা। তাতে ম্যাচের দৈর্ঘ্য কমে যায়। আর শুরু থেকে উইকেট হারাতে থাকে প্রাইম ব্যাংক। প্রথম বলেই এনামুল হক বিজয়ের বিদায়ের পর দ্বিতীয় ওভারে দেলোয়ার হোসেন জোড়া আঘাত হানেন। ৩০ রানে প্রথম ৫ ব্যাটসম্যান ফিরে গেলে ৩৯ রানের ইনিংস খেলে কেবল প্রতিরোধ গড়েন অভিমন্যু ঈশ্বরণ। আর কোনও ব্যাটসম্যান থিতু হতে পারেননি।
দেলোয়ার সর্বোচ্চ ৩টি উইকেট নেন। দুটি পান সাব্বির হোসেন। ম্যাচসেরা হৃদয়।
গাজী গ্রুপ-উত্তরা
টস হেরে ব্যাট করতে নেমে গাজী গ্রুপ লোয়ার অর্ডারে ধসের কারণে সুবিধা করতে পারেনি। ভালো শুরু করেও ৯ উইকেটে ২৩৫ রান করে তারা। বৃষ্টির কারণে সময় নষ্ট হলে ৩৩ ওভারে ১৮৮ রানের টার্গেট পায় উত্তরা। কিন্তু দুই ওভার আগেই ১৩৮ রানে গুটিয়ে যায় তারা।
৮ ম্যাচে তৃতীয় জয়ে ৬ পয়েন্ট নিয়ে অষ্টম স্থানে গাজী গ্রুপ। ৪ পয়েন্ট নিয়ে ১১ নম্বরে উত্তরা।
মায়শুকুর রহমান ও মেহেদী হাসানের ৮১ রানের উদ্বোধনী জুটিতে ভালো শুরু করে গাজী গ্রুপ। দুজনেই বিদায় নেন সমান ৪৪ রানের ইনিংস খেলে। এরপর শামসুর রহমান ৫১ রান করে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন। শেষ দিকে ৮ রানের ব্যবধানে গাজী গ্রুপ ৪ উইকেট হারালে স্কোরবোর্ড প্রত্যাশা পূরণ করতে ব্যর্থ হয়।
উত্তরার আব্দুর রশিদ সর্বোচ্চ ৩ উইকেট শিকার করেন। দুটি করে নেন আসাদুজ্জামান পায়েল, আনিসুল ইসলাম ইমন ও শেখ হুমায়ুন।
লক্ষ্যে নেমে দারুণ শুরু করে উত্তরা। কিন্তু পঞ্চম ওভারে নামে বৃষ্টি। খেলা বন্ধ হওয়ার আগে ৪.৩ ওভারে বিনা উইকেটে ৪২ রান করে তারা। প্রায় দুই ঘণ্টা পর খেলা শুরু হলে ৬২ রানে উদ্বোধনী জুটি ভাঙলে ধসের মুখোমুখি হয় উত্তরা।
৯৩ রানে ৫ উইকেট হারায় দলটি। শেষ ৫ ব্যাটসম্যান ফিরে যায় মাত্র ১৫ রানের ব্যবধানে।
সানজিৎ সাহা গাজী গ্রুপের পক্ষে সর্বোচ্চ ৪ উইকেট নেন। মেহেদী ও কামরান গুলাম পান দুটি করে উইকেট। ব্যাটে-বলে অলরাউন্ড পারফর্ম করে ম্যাচসেরা হয়েছেন মেহেদী।