একসঙ্গে দুই পদে, গাঙ্গুলিকে বিসিসিআইয়ের নোটিশ

সৌরভ যখন দিল্লি ক্যাপিটালসের পরামর্শকক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশন অব বেঙ্গলের (সিএবি) সভাপতির দায়িত্বে আছেন, এবার আবার দীর্ঘদিন পর সৌরভ গাঙ্গুলি আইপিএলে যোগ দিয়েছেন দিল্লি ক্যাপিটালসের পরামর্শক হয়ে। একসঙ্গে দুটি পদে কাজ করায় সাবেক ভারতীয় অধিনায়কের বিরুদ্ধে স্বার্থ সংঘাতের অভিযোগ উঠেছে। ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিসিআই) ন্যায়পাল সাত দিনের মধ্যে জবাব চেয়েছে গাঙ্গুলির কাছ থেকে।

বিসিসিআইয়ের ন্যায়পাল ডিকে জেইন নিশ্চিত করেছেন খবরটি। তিনি জানিয়েছেন, গাঙ্গুলির স্বার্থ সংঘাতের অভিযোগে তারা একটি চিঠি পেয়েছেন, তারই ভিত্তিতে সাবেক ভারতীয় অধিনায়ককে নোটিশ পাঠিয়েছেন তারা। জেইন বলেছেন, ‘হ্যাঁ, অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে সৌরভ গাঙ্গুলির কাছ থেকে জবাব চাওয়া হয়েছে। রাজ্য ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতির সঙ্গে দিল্লি ক্যাপিটালসের পরামর্শক হিসেবে কাজ করায় তার বিরুদ্ধে স্বার্থ সংঘাতের অভিযোগ উঠেছে।’

অভিযোগ তুলে বিসিসিআইয়ের কাছে চিঠি দিয়েছেন তিনি ‘ক্রিকেট ভক্ত’- বিশ্বতি সানুতা, রঞ্জিত শিল ও অভিজিৎ মুখার্জি। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ‘এই সময়’-এর খবর, ১২ এপ্রিল ইডেন গার্ডেন্সে হতে যাওয়া কলকাতা নাইট রাইডার্স ও দিল্লি ক্যাপিটালসের ম্যাচ নিয়েই তোলা হয়েছে অভিযোগ। ওই ম্যাচে দিল্লির ডাগ আউটে গাঙ্গুলির উপস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে।

শুধু তা-ই নয়, সংবাদমাধ্যমটি এও ছেপেছে, যারা অভিযোগ করে চিঠি পাঠিয়েছেন, তারা সিএবি’র বিরোধী কর্তার ঘনিষ্ঠ লোক। গাঙ্গুলিকে বিপদে ফেলতেই এই কাজ করা হতে পারে বলে তাদের খবর। আইপিএলে পিচের দায়িত্ব যেহেতু দেওয়া থাকে রাজ্য ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশনকে, তাই গাঙ্গুলি সিএবি’র সভাপতি হিসেবে নিজের দল দিল্লির জন্য সুবিধাজনক পিচ তৈরি করতে পারেন বলেও অভিযোগ উঠেছে।

জেইন অবশ্য নির্দিষ্ট কোনও ম্যাচকে সামনে আনেননি। তিনি বলেছেন, ‘আমি নির্দিষ্ট কোনও ম্যাচ নিয়ে মোটেও ভাবছি না। স্বার্থ সংঘাত নিয়ে তার বিরুদ্ধে সাধারণ অভিযোগ এটি, আর এই বিষয়টি তাকে (গাঙ্গুলি) পরিষ্কার করতে হবে।’

ক্রিকেটবিষয়ক ওয়েবসাইট ‘ক্রিকইনফো’র খবর, বিসিসিআই সাত দিনের মধ্যে জবাব চাইলেও গাঙ্গুলি ৭ এপ্রিল পাঠিয়ে দিচ্ছেন নোটিশের জবাব। এর আগেই অবশ্য গাঙ্গুলি নিশ্চিত করেছিলেন, ‘যে কয়েকটি পদে স্বার্থের সংঘাত হতে পারতো, সবগুলোর দায়িত্ব আমি ছেড়ে দিয়েছি। রাজ্য ক্রিকেটের সভাপতির পদে থাকার পর আইপিএলের কোনও দায়িত্ব নিলে স্বার্থের সংঘাত হওয়ার কথা নয়।’

দিল্লির পরামর্শকের দায়িত্ব সবদিক ভেবেই নিয়েছিলেন তিনি। এরপরও স্বার্থ সংঘাতের অভিযোগের তীর থেকে রেহাই মিললো না ‘প্রিন্স অব ক্যালকাটা’র!