অবশেষে অস্ট্রেলিয়ার জার্সিতে স্মিথ-ওয়ার্নার

নিষেধাজ্ঞা কাটিয়ে প্রথমবার অস্ট্রেলিয়ার জার্সিতে স্টিভেন স্মিথ ও ডেভিড ওয়ার্নারঅস্ট্রেলিয়ার জার্সিতে তারা ফিরছেন, বিষয়টি জানা গিয়েছে আগেই। বিশ্বকাপ দিয়ে আবারও জাতীয় দলের দরজার খোলে এক বছর নিষেধাজ্ঞার শাস্তিতে বাইরে থাকা স্টিভেন স্মিথ ও ডেভিড ওয়ার্নারের। তবে ক্রিকেটের বিশ্ব আসরে নামার আগেই অস্ট্রেলিয়ার হলুদ জার্সিতে দেখা দিলেন সময়ের অন্যতম সেরা দুই ব্যাটসম্যান।

সোমবার বিশ্বকাপ প্রস্তুতিতে নিউজিল্যান্ড একাদশের বিপক্ষে মাঠে নেমেছিল অস্ট্রেলিয়া। ব্রিসবেনের এই ম্যাচ দিয়ে প্রায় ১৪ মাস পর আবারও অস্ট্রেলিয়ার জার্সি গায়ে জড়ালেন স্মিথ ও ওয়ার্নার। গত বছরের মার্চে দক্ষিণ আফ্রিকা সফরে বল টেম্পারিং কেলেঙ্কারিতে জাতীয় দল ও অস্ট্রেলিয়ার ঘরোয়া লিগে এক বছরের জন্য নিষিদ্ধ হন এই দুই ক্রিকেটার। গত মার্চে নিষেধাজ্ঞা শেষ হওয়ার পর সোমবার তাদের প্রথমবার অস্ট্রেলিয়ার হলুদ জার্সিতে দেখা গেল।

জাতীয় দলের জার্সিতে ফেরাটা বেশি একটা ভালো হয়নি স্মিথ-ওয়ার্নারের। ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগে (আইপিএল) রানের বৃষ্টি ঝরিয়ে এলেও ওয়ার্নারের নামা হয়নি ওপেনিংয়ে। তার নিষেধাজ্ঞার সময় গত কয়েক মাস ওপেনিংয়ে দুর্দান্ত পারফর্ম করা উসমান খাজাকে নিয়েই ইনিংস শুরু করেন ফিঞ্চ।

অবশ্য ব্যাটিংয়ে নামার জন্য বেশিক্ষণ অপেক্ষা করতে ‍হয়নি ওয়ার্নারকে। ইনিংসের পঞ্চম বলেই ওয়ান ডাউনে নামেন বাঁহাতি ব্যাটসম্যান। শুরুতে ‘জীবন’ পাওয়া ওয়ার্নার ৪৩ বলে ৬ বাউন্ডারি ও ১ ছক্কায় করেন ৩৯ রান। স্পিনার টড অ্যাস্টলের বলে ডারিল মিচেলের হাতে ধরা পড়ে ফেরেন প্যাভিলিয়নে।

ওয়ার্নারের আউটের পরই ব্যাট হাতে নামেন স্মিথ। সাবেক অস্ট্রেলিয়ান অধিনায়ক ব্যাট করেছেন ধীরগতিতে। এরপরও ইনিংস লম্বা করতে পারেননি। অস্ট্রেলিয়ার হলুদ জার্সিতে প্রত্যাবর্তন ম্যাচে ৪৩ বলে ২ বাউন্ডারিতে করেন ২২ রান। ম্যাট হেনরির বলে উইকেটরক্ষক টম ল্যাথামের গ্লাভসবন্দী হয়ে ফেরেন প্যাভিলিয়নে।

ওয়ার্নারের আউটের পরই নামেন স্মিথব্যক্তিগত পারফরম্যান্সের সঙ্গে একটু হলে ম্যাচটিও হারতে বসেছিলেন স্মিথ-ওয়ার্নার। ব্রিসবেনে নিউজিল্যান্ড একাদশ ৪৬.১ ওভারে মাত্র ২১৫ রানে গুটিয়ে গেলেও এই লক্ষ্যই কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছিল অস্ট্রেলিয়ার। শেষ দিকে নাথান কোল্টার-নাইল ৩৪ রানের ইনিংস না খেললে বড় লজ্জার সামনেই পড়তে হতো স্বাগতিকদের।

হোক না প্রস্তুতি ম্যাচ, এরপরও বিশ্বকাপের আগে হেরে গেলে আত্মবিশ্বাসে বড় আঘাতই লাগতো অস্ট্রেলিয়ায়। তবে কোল্টার-নাইলের পর শেষ জুটিতে জেসন বেহরেনডর্ফ ও অ্যাডাম জাম্পা ১০ বল আগে ১ উইকেটের জয় নিশ্চিত করে অস্ট্রেলিয়ার।

বোলিংয়ের আগে কোল্টার-নাইল ৪৪ রান দিয়ে নেন ৩ উইকেট। পেস বোলিংয়ে অস্ট্রেলিয়ার প্রস্তুতিটা দারুণ হয়েছে প্যাট কামিন্স (৩-৩৬) ও জেসন বেহরেনডর্ফও (৩-৩৪) জ্বলে ওঠায়। নিউজিল্যান্ড একাদশের সর্বোচ্চ রান করেছেন টম ব্লানডেল (৭৭)। আর অস্ট্রেলিয়া ইনিংসে সর্বোচ্চ স্কোরার অধিনায়ক ফিঞ্চ (৫২)। ক্রিকইনফো, ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া ডটকম