‘ভারতের টুর্নামেন্টটি আত্মবিশ্বাস বাড়িয়ে দিয়েছে’

উইমেন্স টি-টোয়েন্টি চ্যালেঞ্জ টুর্নামেন্টে অংশ নিয়ে রবিবার বিকেলে ভারত থেকে দেশে ফিরেছেন জাহানারা আলম। টুর্নামেন্টে তার পারফরম্যান্স ভালোই, বিশেষ করে ফাইনালে। শিরোপা লড়াইয়ে বাংলাদেশের এই পেসার ৪ ওভারে ২১ রানের বিনিময়ে নিয়েছেন দুই উইকেট। দুটোই ছিল বোল্ড। তবে ভেলোসিটির জার্সিতে শিরোপা জিততে না পেরে তিনি বেশ হতাশ। বাংলা ট্রিবিউনের সঙ্গে জাহানারার আলাপচারিতায় অবশ্য শুধু হতাশা নয়, উঠে এলো অর্জনের গল্পও।

টুর্নামেন্টে নিজের পারফরম্যান্সে জাহানারা সন্তুষ্টবাংলা ট্রিবিউন: ভারতে কেমন কাটলো সময়টা?

জাহানারা: গত এক সপ্তাহ অসাধারণ কেটেছে। ভেলোসিটির খেলোয়াড় থেকে শুরু করে টিম ম্যানেজমেন্ট খুব আন্তরিক। সুযোগ-সুবিধার দিক থেকে টুর্নামেন্টটিকে বিশ্বমানের বলা যায়। এ ধরনের সুযোগ-সুবিধা এর আগে শুধু বিশ্বকাপেই পেয়েছি।

বাংলা ট্রিবিউন: টুর্নামেন্ট থেকে আপনার ব্যক্তিগত অর্জন কী?

জাহানারা: পাঁচটা দেশের খেলোয়াড়দের সঙ্গে অনুশীলন করেছি। তাদের সঙ্গে অনেক কিছু শেয়ার করেছি। ভিন্ন কন্ডিশনে, ভিন্ন ধরনের উইকেটে খেলে আত্মবিশ্বাস কিছুটা হলেও বেড়েছে। ভবিষ্যতে কোনও বড় দলের বিপক্ষে এই আত্মবিশ্বাস কাজে লাগাতে পারবো।  

বাংলা ট্রিবিউন: প্রথম ম্যাচে সুযোগ পাননি, বসে থাকতে হয়েছিল। তখন আপনার মনের অবস্থা কী হয়েছিল?

জাহানারা: আমি জানতাম যে সুযোগ পাবোই। আসলে প্রথম ম্যাচের আগে হঠাৎ করেই আমাকে না খেলানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। টিম ম্যানেজমেন্ট হয়তো টেকনিক্যালি আমাকে না খেলানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। আমি অবশ্য শুধু ভেবেছি সুযোগ পেলে নিজের সেরাটা দিতে হবে।

বাংলা ট্রিবিউন:  ভেলোসিটির দ্বিতীয় ম্যাচে খেললেও জ্বলে উঠতে পারেননি। তবু ফাইনালে কীভাবে সাফল্য পেলেন?

জাহানারা:  টুর্নামেন্টে নিজের প্রথম ম্যাচে প্রত্যাশামতো পারফর্ম করতে পারিনি। তবে সেই ম্যাচের অভিজ্ঞতা পরের ম্যাচে কাজে লেগেছে। আসলে নতুন কন্ডিশনে হঠাৎ নেমে ভালো করা কঠিন। টি-টোয়েন্টি ম্যাচে আমার সব সময় লক্ষ্য থাকে যত বেশি সম্ভব ডট বল করার। ফাইনালে নিজের প্রথম তিন ওভার ভালোই করেছি, দুটি উইকেটও পেয়েছি। শেষ ওভারে আরেকটু টাইট বল করতে পারলে দলের জন্য ভালো হতো।

নাটালি স্কাইভারকে বোল্ড করে জাহানারার উল্লাসবাংলা ট্রিবিউন: নাটালি স্কাইভারকে বোল্ড করা বলটি টুর্নামেন্টের সেরা ডেলিভারি হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে। কেমন লাগছে?

জাহানারা: এ ধরনের অর্জন আত্মবিশ্বাস অনেক বাড়িয়ে দেয়। কারণ এমন পরিস্থিতিতে বিশ্বের সেরা ব্যাটারদের আউট করা অবশ্যই বিশেষ কিছু। যদিও তখন বুঝতে পারিনি এই বলটাকে ওরা টুর্নামেন্টের সেরা বল হিসেবে স্বীকৃতি দেবে। বাংলাদেশের একজন ক্রিকেটার হিসেবে এমন অর্জনে আমি উচ্ছ্বসিত। এটা আমার জন্য বিশাল অর্জন। বোর্ড সভাপতি এজন্য আমাকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। তিনি আমার ম্যাচ দেখেছেন। এটা আমার জন্য বিশাল প্রাপ্তি।

বাংলা ট্রিবিউন: শেষ ওভারের জন্য খারাপ লাগছে?

জাহানারা: অবশ্যই খারাপ লাগছে। আমার শেষ ওভারে ৪/৫ রান হলে ম্যাচের ফল অন্যরকম হতে পারতো। তবে ব্যক্তিগতভাবে আমি সন্তুষ্ট। হারমানপ্রীত কৌর আগেও তার দলকে জিতিয়েছে। তার বিপক্ষে বল করা ভীষণ চ্যালেঞ্জিং। আমি চেষ্টা করেছি, কিন্তু শেষ ওভারে সফল হতে পারেনি। সফল হতে পারলে ভালো লাগতো। জয়ের নায়ক হতে কার না ভালো লাগে!