ডানহাতি ওপেনার লিটন দাস দিয়েছেন সেই উত্তর, ‘ভারতের বিপক্ষে প্রস্তুতি ম্যাচে হার আমাদের আত্মবিশ্বাসে কোনও প্রভাব ফেলবে না। আমরা খুব ভালোভাবেই প্রস্তুতি নিয়েছি। আয়ারল্যান্ডে ত্রিদেশীয় সিরিজ ছিল আমাদের প্রস্তুতির মূল মঞ্চ। এই মুহূর্তে বাংলাদেশ দলের ১৫ জন ক্রিকেটার তৈরি মাঠে তাদের সেরাটা দিতে।’
ঠিক তাই, প্রস্তুতি ম্যাচে হার-জিত কোনও বড় ব্যাপার নয়। ম্যাচটি জিতলে হয়তো বাংলাদেশ খানিকটা আত্মবিশ্বাস নিয়ে বিশ্বকাপে নামতে পারতো। কিন্তু জিতেনি বলে যে মূল মঞ্চে পারবে না, এটা ভাবার কোনও সুযোগ নেই। ২০১৫ সালের বিশ্বকাপে দুই প্রস্তুতি ম্যাচের দুটিতেই হেরেছিল মাশরাফিরা। তবুও বিশ্বকাপের মঞ্চে প্রথমবার কোয়ার্টার ফাইনাল খেলেছিল তারা। পুরোনো এই সাফল্য মনে করে হয়তো উজ্জীবিত হতে চাইবেন ক্রিকেটাররা!
দুবাইয়ে এশিয়া কাপের ফাইনালে ভারতের বিপক্ষে ১২১ রানের চোখ ধাঁধানো ইনিংস খেলা লিটন আছেন তুখোড় ফর্মে। কিন্তু একাদশে তাকে সুযোগ দেওয়ার জায়গাই খুঁজে পাচ্ছে না টিম ম্যানেজমেন্ট। ওপেনার হিসেবে তামিমের সঙ্গে সৌম্য সরকারের থাকাটা অনেকটাই নিশ্চিত। তাহলে লিটন খেলবেন কোথায়? এটাই এখন আলোচনার শীর্ষে। টিম ম্যানেজমেন্ট সূত্রে শোনা যাচ্ছে সাকিবকে এক ধাপ নামিয়ে লিটনকে তিন নম্বরে খেলানো চিন্তা আছে। সেক্ষেত্রে মিডল অর্ডারে নিয়মিত খেলা মোহাম্মদ মিঠুনের কপাল পুড়তে পারে!
যদিও এনিয়ে দ্বিমত রয়েছে সাবেক ক্রিকেটার গাজী আশরাফ হোসেন লিপুর। তিনি বাংলা ট্রিবিউনকে বলেছেন, ‘লিটন হয়তো খুব ভালো খেলছে। কিন্তু লিটনকে সুযোগ দিতে গিয়ে মিঠুনকে সরিয়ে দেওয়াটা ঠিক হবে না। বিশ্বকাপ শুরুর আগ মুহূর্তে এমন চর্চা কোনও দলের জন্যই ভালো নয়। এমন পরীক্ষা-নিরীক্ষাগুলো আগেই করা যেত। বিশ্বকাপে একজন ওপেনারকে নিচের দিকে খেলিয়ে বাকিদের নামিয়ে দেওয়াটা ঠিক হবে না। সাকিব তিন নম্বরে আস্থার প্রতীক হয়ে উঠেছেন। তার ওপরই আস্থা রাখা উচিত। এছাড়া মিঠুন শেষ ম্যাচে খারাপ করলেও নিউজল্যান্ডের মতো কঠিন কন্ডিশনে রান করেছেন, কেবল একটি প্রস্তুতি ম্যাচ দেখে লিটনকে বাদ দেওয়া সঠিক সিদ্ধান্ত হবে না। আমি মনে করি ওপেনার হিসেবেই লিটনকে সুবিধাজনক ম্যাচে খেলানো উচিত। নিচের দিকে নয়।’
ব্যাকআপ ওপেনার হিসেবে বিশ্বকাপে সুযোগ পাওয়া লিটন দলে অনিয়মিত। যখনই সুযোগ পাচ্ছেন সেটা কাজে লাগাচ্ছেন দারুণভাবেই। ত্রিদেশীয় সিরিজে আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে ৭৩ রান করেছিলেন। এছাড়া কার্ডিফে ভারতের বিপক্ষে প্রস্তুতি ম্যাচে ছিল ৭৬ রানের ইনিংস। বাংলাদেশের সেরা ওপেনার তামিমও আছেন দুর্দান্ত ফর্মে। ব্যথার কারণে ভারতের বিপক্ষে খেলতে পারেননি তিনি। সবশেষ ৫টি আন্তর্জাতিক ম্যাচে তার রান সংখ্যা ৩৭৬ রান। এই সময়ে হ্যামিলটনে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ১২৬ রান করেন, ত্রিদেশীয় সিরিজে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে তার ব্যাটে এসেছিল ৮০ রান।
টপ অর্ডারের মতো মিডল অর্ডার নিয়েও দুশ্চিন্তা নেই বাংলাদেশের টিম ম্যানেজমেন্টের। মিডল অর্ডারকে বলা হয় দলের মেরুদণ্ড। আর বাংলাদেশের সেই মেরুদণ্ডের একটি শক্ত অংশ হলেন মুশফিকুর রহিম। পাশাপাশি সাকিব ও মাহমুদউল্লাহ আছেন সেরা ছন্দে। সেই অর্থে মিডল অর্ডারে থাকা কেবল মিঠুনই কিছুটা পিছিয়ে আছেন। তবে নিউজিল্যান্ডের কঠিন কন্ডিশনে যেভাবে খেলেছেন, তাতে করে মিঠুনের রানে ফেরা সময়ের ব্যাপার মাত্র। অন্যদিকে শেষ দিকে থাকা মোসাদ্দেক তো ত্রিদেশীয় সিরিজের ফাইনাল জিতিয়েছেন আগ্রাসী ব্যাটিং করে। সাব্বির রহমানের ফর্ম নিয়েও কিছুটা দুশ্চিন্তা আছে।
খেলোয়াড়রা দুর্দান্ত ফর্মে থাকলেও লিপু বিশ্বকাপের পারফরম্যান্স নিয়ে চিন্তিত, ‘ত্রিদেশীয় সিরিজ আর বিশ্বকাপের মঞ্চ এক নয়। ওখানে কঠিন কোনও পরিস্থিতির মুখে পড়তে হয়নি মাশরাফির দলকে। কিন্তু ইংল্যান্ডে অনেক চ্যালেঞ্জের সামনে পড়তে হবে। সবার প্রত্যাশা বাংলাদেশ ভালো করবে। আমিও সেটা চাই। কিন্তু বাস্তবতা চিন্তা করলে শক্তিশালী প্রতিপক্ষের বিপক্ষে খেলে বাংলাদেশ পঞ্চম কিংবা ষষ্ঠ হলেই আমি সন্তুষ্ট। বিশ্বকাপে প্রায় প্রতি ম্যাচেই বাংলাদেশকে তিনশ রান ছাড়াতে হবে। এই জায়গায় আসলে পিছিয়ে বাংলাদেশ। আশা করি সেরা কম্বিনেশন নিয়েই বাংলাদেশ মাঠে নামবে। তবে নতুন করে কোনও কিছু চিন্তা ভাবনা না করাই ভালো।’
তবে দুশ্চিন্তায় নেই বাংলাদেশের ক্রিকেটাররা। তারা এখন সুখী পরিবার। কার্ডিফ থেকে ফিরেই পুরো দল ছুটি কাটিয়েছে। যে যার মতো ঘুরে বেড়ালেন। তবে বেশিরভাগ ক্রিকেটারই অক্সফোর্ডের ভিস্তা ভিলেজ গিয়েছেন শপিং করতে। আজ শুক্রবার স্থানীয় সময় সকাল দশটায় অনুশীলন করবে বাংলাদেশ। এই প্রস্তুতি দিয়েই বিশ্বকাপের লড়াই শুরু হচ্ছে স্বাগতিকদের।