বিশ্বকাপে নিজেদের উদ্বোধনী ম্যাচে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে লজ্জায় ডুবেছিল পাকিস্তান। বিশ্বকাপ ইতিহাসে নিজেদের দ্বিতীয় সর্বনিম্ন রানের রেকর্ড গড়া দলটি কী চমৎকারভাবেই না ঘুরে দাঁড়ালো। তাও আবার ইংল্যান্ডের বিপক্ষে, যাদের সঙ্গে বিশ্বকাপের আগে পাঁচ ম্যাচের সিরিজে ৪-০ ব্যবধানে হারতে হয়েছিল পাকিস্তানকে।
ট্রেন্ট ব্রিজের ম্যাচে তাই পরিষ্কার ফেভারিট ছিল ইংল্যান্ড। এমনকি সরফরাজ আহমেদরা নির্ধারিত ৫০ ওভারে ৮ উইকেটে ৩৪৮ রান করার পরও ইংলিশদের পক্ষে জয়ের পাল্লা ছিল ভারি। কারণটা বিশ্বকাপের আগের ওয়ানডে সিরিজ। পাকিস্তানের বিপক্ষে ওই সিরিজে প্রায় সব ম্যাচে ৩৫০ প্লাস রান করেছিল ‘থ্রি লায়ন্স’।
তবে ‘আসল’ লড়াইয়ে আর পারলো না ইংল্যান্ড। জো রুট ও জস বাটলারের সেঞ্চুরিতে ৫০ ওভারে ৯ উইকেটে স্বাগতিকদের থামতে হয় ৩৩৪ রানে। তাই বিশ্বকাপে সবচেয়ে বেশি রান তাড়া করে জয়ের রেকর্ড গড়া হয়নি ইংল্যান্ডের।
মরগানকে ঠিক নিজের স্বভাবে পাওয়া যায়নি। শুরু থেকে দেখেশুনে খেললেও ইংলিশ ওপেনার টিকতে পারেননি। মোহাম্মদ হাফিজের বলে বোল্ড হয়ে ফিরতে হয় তাকে মাত্র ৯ রান করে। এরপর ইংল্যান্ডের চাপ আরও বাড়ে শোয়েব মালিকের শিকার হয়ে ১৩ রান করা বেন স্টোকস ফিরলে।
কঠিন লক্ষ্যে খেলতে নেমে ১১৮ রানে ৪ উইকেট হারিয়ে যখন ধুঁকছে ইংল্যান্ড, তখনই শুরু জো রুট ও জস বাটলারের প্রতিরোধ। চমৎকার ব্যাটিংয়ে পঞ্চম উইকেট জুটিতে ১৩০ রান যোগ করে জয়ের স্বপ্ন দেখান তারা। এবারের বিশ্বকাপ প্রথম সেঞ্চুরিও দেখে ফেলে রুটের সৌজন্যে।
সময় উপযোগী ব্যাটিংয়ে রুট পূরণ করেন ওয়ানডে ক্যারিয়ারের ১৫তম সেঞ্চুরি। শাদাব খানের বলে আউট হওয়ার আগে খেলে যান ১০৭ রানের ঝলমলে ইনিংস। ইংলিশদের পথে ফেরাতে ১০৪ বলের ইনিংসে ১০ চারের সঙ্গে মারেন এক ছক্কা।
তার আউটের পর মঈন আলী (১৯), ক্রিস ওকস (২১) ও মার্ক উড (১০*) চেষ্টা করলেও লক্ষ্যে পৌঁছাতে পারেনি ইংল্যান্ড।
দুর্দান্ত এই জয়ে ওয়াহাব রিয়াজ ৮২ রান দিয়ে পেয়েছেন ৩ উইকেট। ২টি করে উইকেট শিকার মোহাম্মদ আমির ও শাদাব খানের। আর একটি করে উইকেট নিয়েছেন মোহাম্মদ হাফিজ ও শোয়েব মালিক।
এর আগে এবারের বিশ্বকাপের সর্বোচ্চ স্কোর গড়ে পাকিস্তান। সোমবার ট্রেন্ট ব্রিজে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে তিন হাফসেঞ্চুরিতে নির্ধারিত ৫০ ওভারে পাকিস্তান ৮ উইকেটে করে ৩৪৮ রান।
রবিবার ২০১৯ বিশ্বকাপের সর্বোচ্চ স্কোর গড়েছিল বাংলাদেশ। দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে টাইগারদের করা ৩৩০ রান টপকে গেছে পাকিস্তান। মোহাম্মদ হাফিজের ৮৪, বাবর আজমের ৬৩ ও অধিনায়ক সরফরাজ আহমেদের ৫৫ রানে ভর দিয়ে রানের পাহাড় গড়েছে ১৯৯২ সালের চ্যাম্পিয়নরা।
টস হেরে ব্যাটিংয়ে নেমে দারুণ শুরু পায় পাকিস্তান। উদ্বোধনী জুটিতে ইমাম-উল-হক ও ফখর জামান যোগ করেন ৮২ রান। ফখরের আউটে পাকিস্তান হারায় প্রথম উইকেট। এই ওপেনার ৪০ বলে করে যান ৩৬, আর ইমামের ব্যাট থেকে আসে ৪৪ রান।
তাদের গড়ে দেওয়া ভিতের ওপর দাঁড়িয়ে বড় জুটি গড়েন বাবর ও হাফিজ। তৃতীয় উইকেটে ৮৮ রানের জুটি গড়ার পথে দুজনই পূরণ করেন হাফসেঞ্চুরি। ফর্মের তুঙ্গে থাকা বাবর ওয়ানডে ক্যারিয়ারের ১৩তম হাফসেঞ্চুরি পূরণ করে খেলেন ৬৩ রানের ইনিংস। মঈন আলীর বলে ক্রিস ওকসের হাতে ধরা পড়ে শেষ হওয়া ৬৬ বলের ইনিংসটি তিনি সাজান ৪ বাউন্ডারি ও ১ ছক্কায়।
হাফিজের দেখানো পথে হেঁটে আক্রমণাত্মক ব্যাটিংয়ে হাফসেঞ্চুরি তুলে নেন সরফরাজও। পাকিস্তানি অধিনায়ক ১১তম ফিফটি পূরণ করে ৪৪ বলে ৫ বাউন্ডারি করে খেলে যান কার্যকরী ৫৫ রানের ইনিংস। আসিফ আলীর ব্যাট থেকে আসে ১১ বলে ১৪। তবে সুবিধা করতে পারেনি এবারের আসরে প্রথমবার মাঠে নামা শোয়েব মালিক (৮)।
যদিও শেষ দিকে হাসান আলী (৫ বলে ১০*) ও শাদাব খান (৪ বলে ১০*) ঝড়ো ব্যাট করলে ৫০ ওভারে ৮ উইকেটে স্কোরে ৩৪৮ রান জমা করে পাকিস্তান।
পাকিস্তানি ব্যাটসম্যানদের দাপটের দিনে ইংল্যান্ডের সবচেয়ে সফল বোলার মঈন। এই স্পিনার ১০ ওভারে ৫০ রান দিয়ে পেয়েছেন ৩ উইকেট। ক্রিস ওকসের শিকারও ৩ উইকেট, তবে ৮ ওভারে খরচ করেছেন তিনি ৭১ রান। ২ উইকেট পেয়েছেন মার্ক উড।