শনিবার টিম হোটেল হায়াট রিজেন্সির সামনে সংবাদ মাধ্যমকে তিনি বলেছেন, ‘আমরা এখন টুর্নামেন্টের এমন জায়গায় আছি, যেখানে ভারত বা অন্য কোনও দলের বোলিং নিয়ে চিন্তা করার কিছু নেই। ভারত অবশ্যই শক্তিশালী প্রতিপক্ষ। তবে ভালো খেলতে পারলে ফল আমাদের পক্ষে আসবে।’
বাংলাদেশ দলে রিস্ট স্পিনার বা লেগস্পিনার নেই। অথচ আধুনিক ওয়ানডে ক্রিকেটে লেগস্পিনারের প্রয়োজনীয়তা অপরিসীম। এ বিষয়ে মোসাদ্দেকের অভিমত, ‘বর্তমানে যেসব স্পিনার ভালো করছে, তাদের বেশির ভাগই রিস্ট স্পিনার। ভারতীয় দলেও রিস্ট স্পিনার আছে আর তারা দারুণ টার্ন করাতে পারে। তারা উইকেট থেকে ভালোই সহায়তা পাচ্ছে। বার্মিংহামেও পাবে হয়তো। এক্ষেত্রে বাংলাদেশের বিশেষ কিছু করার নেই।’
ইংল্যান্ডের উইকেট নিয়ে অবশ্য তার কোনও অভিযোগ নেই, ‘এখানকার উইকেট আমাদের দেশের থেকে অনেক ভালো। শুরুতে কিছুটা মুভমেন্ট থাকলেও ১৫/২০ ওভার পর উইকেট ভালো হয়ে যায়। আশা করি, ভারতের বিপক্ষে ব্যাট করতে সমস্যা হবে না।’
বাংলাদেশের লোয়ার অর্ডারে ইদানীং ভরসার প্রতীক হয়ে উঠছেন মোসাদ্দেক। দক্ষিণ আফ্রিকা, ইংল্যান্ড আর আফগানিস্তানের বিপক্ষে ২৬, ২৬ ও ৩৫ রানের তিনটি কার্যকর ইনিংস এসেছে তার ব্যাট থেকে। বিশ্বকাপে ৪ ইনিংসে ২৪.৫০ গড়ে ৯৮ রান করেছেন তিনি, স্ট্রাইক রেট ১১৯.৫১। বল হাতেও পারফরম্যান্স খারাপ নয়। ৫.৫৭ ইকোনমি রেটে উইকেট নিয়েছেন তিনটি।
নিজের ব্যাটিং-বোলিং নিয়ে মোসাদ্দেকের বিশ্লেষণ, ‘সাত নম্বরে নেমে বড় ইনিংস খেলা খুব কঠিন। ওই সময় নিজের চেয়ে দলের রান বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে যায়। চিন্তা করতে হয়, স্ট্রাইক রেট যেন ১০০র বেশি থাকে। বল হাতে ৫/৬ ওভার করার সুযোগ পাই। উইকেট শিকারের চেয়ে ডট বল করার দিকে বেশি মনোযোগ থাকে আমার।’
নিচে ব্যাট করা মেনে নিয়ে তার উপলব্ধি, ‘প্রিমিয়ার লিগে আমি ওপরেই ব্যাট করি। কিন্তু জাতীয় দলে যারা ওপরে ব্যাট করেন, তারা আমার চেয়ে অনেক বেশি যোগ্য। তাদের পারফরম্যান্স খুবই ভালো। তাই আপাতত ওপরে ব্যাট করার আশা বাদ দিয়েছি। আশা করি, ভবিষ্যতে ব্যাটিং অর্ডারের শুরুর দিকে জায়গা করে নিতে পারবো।’