ব্রায়ান লারার ইতিহাস গড়া ৫০১ রানের স্মৃতি সংরক্ষিতইংল্যান্ডের অন্যতম ঐতিহ্যবাহী ক্রিকেট মাঠ বার্মিংহামের এজবাস্টন। ১৮৮২ সালে প্রতিষ্ঠিত এই স্টেডিয়াম কাউন্টি ক্রিকেট ক্লাব ওয়ারউইকশায়ারের হোম ভেন্যু। এজবাস্টনে ঢুকে ব্রায়ান লারার কথা মনে পড়বে না তা কী হয়! এই মাঠেই তো ক্যারিবিয়ান গ্রেটের ব্যাটে ক্রিকেট ইতিহাসের অন্যতম স্মরণীয় ইনিংসের জন্ম। ১৯৯৪ সালে কাউন্টি ক্রিকেটে ডারহামের বিপক্ষে অপরাজিত ৫০১ রান করেছিলেন লারা। প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে এটাই ব্যক্তিগত সর্বোচ্চ ইনিংস।
স্টেডিয়ামের গেট ধরে কিছুটা এগোলে চোখে পড়বে সেই ম্যাচের স্কোরকার্ডের ছবি। স্কোরবোর্ডের সামনে ব্যাট হাতে হাসিমুখে দাঁড়িয়ে আছেন লারা। একই ছবি শোভা পাচ্ছে মূল গেট দিয়ে ঢুকতেই ডানপাশে।
লারার মতো আরেক ‘কীর্তিমান’ আছেন ওয়ারউইকশায়ারে। লেগস্পিনার এরিক হোলিস পুরো ক্যারিয়ার কাটিয়েছেন এখানে। ১৩ টেস্টের ক্যারিয়ারে উইকেট মাত্র ৪৪টি। তবে তার মধ্যে একটির সঙ্গে জড়িয়ে অনন্ত আক্ষেপ। ১৯৪৮ সালের আগস্টে জীবনের শেষ টেস্টে হোলিসের গুগলিতে বিভ্রান্ত ব্র্যাডম্যান বোল্ড হয়ে যান শূন্য রানে। মাত্র ৪ রান করতে পারলেই ১০০ গড় নিয়ে ক্যারিয়ার শেষ করতে পারতেন অস্ট্রেলীয় কিংবদন্তি। স্পর্শ করতেন ৭ হাজার রানের মাইলফলকও।
ওপর থেকে এজবাস্টনের দৃশ্যওয়ানডে ইতিহাসের অন্যতম শ্বাসরুদ্ধকর ম্যাচেরও সাক্ষী এজবাস্টন। ১৯৯৯ বিশ্বকাপের দ্বিতীয় সেমিফাইনালে এই মাঠেই মুখোমুখি হয়েছিল অস্ট্রেলিয়া ও দক্ষিণ আফ্রিকা। ২১৪ রানের টার্গেটে ব্যাট করতে নামা প্রোটিয়াদের শেষ ওভারে প্রয়োজন ছিল ৯ রান। ড্যামিয়েন ফ্লেমিংয়ের প্রথম দুই বলে ল্যান্স ক্লুজনার চার মারলে স্কোর হয়ে যায় সমান। কিন্তু ৪ বলে ১ রান নিতে পারেননি ক্লুজনার। তৃতীয় বলে কোনও রকমে রান আউট থেকে বেঁচে যান নন-স্ট্রাইক প্রান্তে থাকা অ্যালান ডোনাল্ড। চতুর্থ বলে একটি রান নিতে গিয়ে ক্লুজনার রান আউট, অর্থাৎ ম্যাচ টাই! কিন্তু সুপার সিক্সে মুখোমুখি লড়াইয়ে জয়ের সুবাদে অস্ট্রেলিয়া চলে যায় ফাইনালে।
এবারের বিশ্বকাপে ৫টি ম্যাচের ভেন্যু এজবাস্টন। লিগ পর্বের নিউজিল্যান্ড-দক্ষিণ আফ্রিকা, নিউজিল্যান্ড-পাকিস্তান, ভারত-ইংল্যান্ড এবং বাংলাদেশ-ভারত ম্যাচের পর ১১ জুলাই দ্বিতীয় সেমিফাইনাল হবে এই ঐতিহ্যবাহী মাঠে।
১৮৮২ সালে প্রতিষ্ঠিত হলেও আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে এজবাস্টনের অভিষেক ১৯০২ সালে, ইংল্যান্ড-অস্ট্রেলিয়া টেস্ট দিয়ে। ১৯৭২ সালে এই মাঠের প্রথম ওয়ানডে ম্যাচেও মুখোমুখি হয়েছিল ক্রিকেটের দুই পুরোনো ‘শত্রু’। দুই বছর আগে ইংল্যান্ডের মাটিতে প্রথম দিবা-রাত্রির টেস্টও হয়েছিল এখানে।
ওয়ারউইকশায়ারের অনেক সাফল্যের সাক্ষী এজবাস্টনএমনিতে ইংল্যান্ডের ক্রিকেটপ্রেমীরা ভদ্র, শান্ত। কিন্তু এজবাস্টন এদিক দিয়ে আলাদা। এই মাঠের গ্যালারি হৈচৈ-চিৎকারে সরগরম থাকে সব সময়। ইংল্যান্ডের অধিনায়ক অ্যালেক স্টুয়ার্টের একটি মন্তব্যেই বোঝা যাবে ব্যাপারটা, ‘এজবাস্টনের দর্শক ধারণ ক্ষমতা ২৫ হাজার। তবে এক লাখ ধারণ ক্ষমতার ইডেন গার্ডেন্সের সঙ্গে পাল্লা দিতে পারবে এখানকার গ্যালারি। এজবাস্টনের গ্যালারি যে কোনও দলকেই উদ্বুদ্ধ করতে পারে।’ ইংল্যান্ডের সাবেক উইকেটরক্ষক গেরাইন্ট জোন্সের মন্তব্যও কাছাকাছি, ‘এজবাস্টনে দর্শকরা অনেক হৈচৈ করে খেলা উপভোগ করে।’
এখানেই ২০১৭ চ্যাম্পিয়নস ট্রফির সেমিফাইনালে ভারতের মুখোমুখি হয়েছিল বাংলাদেশ। মঙ্গলবার একই মাঠে টাইগারদের সামনে একই প্রতিপক্ষ। মাঠের লড়াইয়ে যা-ই হোক, গ্যালারিতে এগিয়ে থাকবে ভারতীয়রা। প্রবাসীরা বাংলাদেশিরা জানালেন, বড় জোর ১০ হাজার টাইগার সমর্থক থাকতে পারে মাঠে। বাংলাদেশিরা অবশ্য ম্যাচটা দেখতে মরিয়া। চার/পাঁচ গুণ বেশি দামেও টিকিট কিনেছেন তারা।