২০১৫ সালের ১৮ জুন, ভারতের বিপক্ষে ওয়ানডে অভিষেকেই কী দারুণ বোলিং করলেন মোস্তাফিজুর রহমান! ঢাকায় দ্বিপাক্ষিক সিরিজের সেই ম্যাচে ৫ উইকেট নেন তিনি, পরের ম্যাচে আরও উজ্জ্বল- ৬ উইকেট। এরপর আস্তে আস্তে মোস্তাফিজের নিভে যাওয়াই দেখতে পাচ্ছিলেন অনেকে। কিন্তু আবারও ভারতকে পেয়ে জ্বলে হয়ে উঠলেন বাংলাদেশের বাঁহাতি এ পেসার। দুর্দান্ত কাটারে নিলেন ক্যারিয়ারের চতুর্থ ও বিশ্বকাপে প্রথম ৫ উইকেট। ভারতের বিপক্ষে তৃতীয়বার এই সাফল্য পেলেন তিনি।
এর আগে ৫ বার বিশ্বকাপ খেলেছে বাংলাদেশ। কিন্তু কখনও এক ইনিংসে ৫ উইকেট নেওয়ার কীর্তি গড়তে পারেননি কোনও বোলার। আর এবার এক আসরেই দ্বিতীয় বাংলাদেশি হিসেবে এই কীর্তি গড়লেন মোস্তাফিজ। সাউদাম্পটনে আগের ম্যাচে আফগানিস্তানের বিপক্ষে সাকিব আল হাসান নেন ৫ উইকেট। মঙ্গলবার বার্মিংহামে ভারতের বিপক্ষেও একই সাফল্য মোস্তাফিজের।
লোকেশ রাহুল ও রোহিত শর্মার উদ্বোধনী জুটিতে দারুণ শুরু করেছিল ভারত। বিশাল স্কোরের আভাস দিয়েছিল তাদের ব্যাটিং। কিন্তু ৩১৪ রানে তাদের আটকে দেওয়া বাংলাদেশের জন্য ভালোই বলা যায়। যার বেশিরভাগ অবদান দেওয়া যেতে পারে মোস্তাফিজকে। রোহিতকে ফিরিয়ে ১৮০ রানের উদ্বোধনী জুটি ভাঙেন সৌম্য সরকার। রাহুলকে ৭৭ রানে ফেরান রুবেল হোসেন।
এরপর বাকি দায়িত্ব নেন কাটার মাস্টার মোস্তাফিজ। ভারতের বাকি ৭ উইকেটের একটি সাকিব আল হাসানের, অন্যটি রান আউট। অবশ্য রান আউটেও মোস্তাফিজের নাম আছে। বাকি ৫ উইকেট এই বাঁহাতি পেসার নেন ৫৯ রান দিয়ে।
৩৯তম ওভারে বিরাট কোহলিকে (২৬) রুবেলের ক্যাচ বানান মোস্তাফিজ। দুই বল পর হার্দিক পান্ডিয়া শূন্যরানে বিদায় নেন। মোস্তাফিজের তৃতীয় শিকার দিনেশ কার্তিক, তার নবম ওভারে। বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচ খেলতে নেমে সুযোগটা কাজে লাগাতে পারেননি তিনি। মোস্তাফিজের শট লেন্থের বলটি পুল করতে গিয়ে ৯ বলে মাত্র ৮ রান করে মোসাদ্দেকের হাতে ধরা পড়েন নিদাহাস ট্রফিতে বাংলাদেশকে কাঁদানো এই ব্যাটসম্যান।
ইনিংসের শেষ ওভারে আরও তিন উইকেট হারায় ভারত। মোস্তাফিজ তার চার নম্বর উইকেট তুলে নেন মহেন্দ্র সিং ধোনিকে ফিরিয়ে। ১৩৭ কিলোমিটার গতির শট লেন্থের বলটি হুক করতে গিয়ে ৩৫ রানে সাকিবের হাতে ধরা পড়েন উইকেটরক্ষক ব্যাটসম্যান। ওই ওভারের পঞ্চম বলে রান আউট হন ভুবনেশ্বর কুমার। আর শেষ বলে মোহাম্মদ সামিকে বোল্ড করে ভারতের বিপক্ষে তৃতীয়বার ৫ উইকেট নেওয়ার কীর্তি দেখান মোস্তাফিজ। মোস্তাফিজের এই অবদান তখনই সার্থক হবে, যদি তামিম-সাকিবরা ব্যাট হাতে জ্বলে ওঠেন।