বিশ্বকাপে এই লঙ্কানদের বিপক্ষেই কাঙ্ক্ষিত জয়ের লক্ষ্যে মুখিয়ে ছিল মাশরাফিরা। গত বছর আরব আমিরাতে লঙ্কানদের বিপক্ষে জয় পাওয়ায় ব্রিস্টলে একই পুনরাবৃত্তির আশায় ছিলেন তারা। বেরসিক বৃষ্টি তা আর হতে দেয়নি। পুরো দুই পয়েন্ট না পেয়ে বিশ্বকাপে ভুগতে হয়েছে মাশরাফিদের! তাতে করে দুই দলের শক্তিমত্তার ব্যবধানটা নতুন করে দেখা হয়নি ক্রিকেট ভক্তদের।
তবে সেই সুযোগ তারা পেয়ে গেলো বিশ্বকাপ শেষ হওয়ার কয়েক সপ্তাহের ব্যবধানে। বিশেষ করে নিদাহাস ট্রফির উত্তেজনাকর ম্যাচ ও হাথুরুসিংহে শ্রীলঙ্কা দলের দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে দুই দলের ম্যাচকে ঘিরে উত্তেজনার পারদ চড়ছে চরমে। সবমিলিয়ে তাই এই দুই দলের লড়াইটা হয়ে উঠছে উপভোগ্য।
নতুন এই মিশনে অবশ্য শুক্রবারও বাগড়া দিতে পারে বৃষ্টি! কলম্বোর প্রেমাদাসায় ব্রিস্টলের গল্পের পুনরাবৃত্তি হওয়ার জোড় সম্ভাবনা রয়েছে! বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা থেকেই কলম্বোর আকাশে বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। সেই বৃষ্টি বাংলাদেশের অনুশীলনও ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। শুক্রবারের আবহাওয়া রিপোর্টেও হালকা বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। তাই শ্রীলঙ্কান ক্রিকেট ভক্তদের ঘরে ঘরে এখন প্রার্থনা, যেন লাসিথ মালিঙ্গার শেষ ম্যাচটি বৃষ্টিতে ভেসে না যায়। যে ম্যাচ দিয়ে ১৫ বছরের ক্যারিয়ারের ইতি টানবেন তিনি।
যদিও অধিনায়কত্ব নিয়ে খুব একটা রোমাঞ্চিত নন তিনি। ম্যাচপূর্ব সংবাদ সম্মেলনে জানিয়েছেন, ‘বিষয়টা আমি ওইভাবে চিন্তা করিনি। তবে আপনারা (সাংবাদিক) যখন বলছেন অধিনায়ক হিসেবে অভিষেক হচ্ছে, তখন শুনে ভালো লাগছে। অধিনায়কত্বটা তখনই ভালো লাগে যখন দল ভালো খেলে এবং জিততে পারে। আমি এটা নিয়ে মোটেও রোমাঞ্চিত নই। বরং চিন্তা করছি, বোর্ড আমাকে একটা দায়িত্ব দিয়েছে সেটা যেন ভালোভাবে করতে পারি।’
তামিমের কথায় অবশ্য যুক্তি আছে। রোমাঞ্চিত হওয়ার সুযোগ নেই বাংলাদেশের সেরা এই ওপেনারের সামনে। কেননা তামিমের কাঁধে এমন একটি সময়ে দায়িত্বটি অর্পিত হয়েছে যখন দলের ওপর বয়ে যাচ্ছে ঝড়! বিশ্বকাপে প্রত্যাশা মতো পারফরম্যান্স করতে না পারায় তামিম, মাশরাফি থেকে শুরু করে পুরো দলকেই সমালোচনার শিকার হতে হয়েছে। এমন কি চাকুরিচ্যুত করা হয়েছে পুরো কোচিং স্টাফদের!
এই অবস্থায় শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে সিরিজ জয়ই পারে সেই অস্থিরতা কাটাতে। উল্টো ফল হলে তামিমসহ গোটা দলকেই হয়তো পড়তে হবে অনেক প্রশ্নের সামনে। তাই নতুন এই শুরুটায় তামিমের চাপমুক্ত হয়ে নামার সুযোগ নেই। চাপ সামলে তামিম শুরুটা কত সহজে করতে পারেন সেটাই এখন দেখার বিষয়।
সাম্প্রতিক পরিসংখ্যানে শ্রীলঙ্কার সঙ্গে সমানে সমান লড়াই করলেও সবমিলিয়ে তাদের চেয়ে পিছিয়েই আছে বাংলাদেশ। তাদের বিপক্ষে খেলা ৪৫টি ম্যাচের মাত্র ৭টিতে জিতেছে টাইগাররা। বাকি ৩৬টি ম্যাচেই লঙ্কানদের জয়। ২টি ম্যাচে কোনও ফলাফল আসেনি। এতো সব পরিসংখ্যানকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে বাংলাদেশ প্রেরণা নিতে পারে গত বছর দুবাইতে হওয়া শেষ ম্যাচ থেকে। এশিয়া কাপের ওই ম্যাচে ১৩৭ রানের বড় জয় পেয়েছিল মাশরাফিরা।
অপর দিকে দলের সেরা কয়েকজন খেলোয়াড় ছাড়া থাকলেও বাংলাদেশকে কঠিন প্রতিপক্ষ হিসেবে দেখছেন লঙ্কান অধিনায়ক দিমুথ কারুনারাত্নে। বৃহস্পতিবার সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেছেন, ‘গত কয়েক বছর ধরেই দারুণ ক্রিকেট খেলে আসছে বাংলাদেশ। সাকিব এবং মাশরাফি বিশ্বকাপে খুবই ভালো খেলেছে। কিন্তু আমার মনে হয় যে সকল খেলোয়াড়রা তাদের পরিবর্তে এসেছে তাদের দারুণ প্রতিভা রয়েছে। তাদের বিপক্ষে আমাদের সেরা ক্রিকেটই খেলতে হবে। তাদের হালকাভাবে নেওয়ার কোনও সুযোগ নেই। আশা করছি দারুণ একটি ম্যাচ হবে।’