লায়ন ঘূর্ণিতে ইংল্যান্ডকে উড়িয়ে অ্যাশেজ শুরু অস্ট্রেলিয়ার

আবারও উইকেট নাথান লায়নের, উদযাপনে তিনি কোলেই উঠে গেলেন ম্যাথু ওয়েডের!নাথান লায়নের বাঁক নেওয়া এক একটি বল বুকে কাঁপন তুলছিল ইংলিশ ব্যাটসম্যানদের। পঞ্চম দিনের পিচে ঘূর্ণি বল বুঝেই উঠতে পারছিলেন না তারা। দেখে মনে হচ্ছিল যেন উপমহাদেশের পিচে হচ্ছে অ্যাশেজের প্রথম টেস্ট! প্যাট কামিন্সের গতি ঝড় কিন্তু বলছিল আবার অন্য কথা। লায়নের ঘূর্ণি আর কামিন্সের পেসের যুগলবন্দীতে কুপোকাত ইংল্যান্ড। বিশ্বকাপ পরবর্তী অ্যাশেজের প্রথম ম্যাচ অস্ট্রেলিয়া জিতেছে ২৫১ রানের বিশাল ব্যবধানে।

দক্ষিণ আফ্রিকা সফরে বল টেম্পারিং কাণ্ডের পর প্রথম টেস্ট খেলতে নেমে নিজের ‘ক্লাস’ দেখালেন স্টিভেন স্মিথ। প্রথম ইনিংসে চাপের মুখে সেঞ্চুরি করা এই ব্যাটসম্যান দ্বিতীয় ইনিংসেও পান শতকের দেখা। তার দুর্দান্ত ব্যাটিংয়ে ইংল্যান্ডকে ৩৯৮ রানের লক্ষ্য দেয় অস্ট্রেলিয়া। চতুর্থ দিনের শেষ বিকেলে ব্যাটিংয়ে নামা ইংল্যান্ড পঞ্চম দিনের ‍চা বিরতির আগেই অলআউট হয়ে গেছে মাত্র ১৪৬ রানে।

লায়নের স্পিন বিষেই নীল ইংল্যান্ড! লাঞ্চের আগে ও পরে ইংলিশ ব্যাটিং লাইনআপ ধসিয়ে মাত্র ৪৯ রানে এই স্পিনারের শিকার ৬ উইকেট। স্পিনের সঙ্গে পেসে আগুন ঝরিয়েছেন কামিন্স। ৩২ রান দিয়ে ৪ উইকেট তুলে নিয়ে অস্ট্রেলিয়াকে এনে দিয়েছেন তিনি সহজ জয়।

শেষ দিনে জিততে ইংল্যান্ডের দরকার ছিল ৩৮৫ রান। ১০ উইকেট হাতে নিয়ে শেষ দিন শুরু করা ইংল্যান্ড দাঁড়াতেই পারেনি লায়ন-কামিন্সের সামনে। উইকেট উদযাপনটা শুরু করেছিলেন কামিন্স। ররি বার্নসকে (১১) ফেরান তিনি লায়নের হাতে ক্যাচ বানিয়ে। বোলিংয়ে সেই লায়নই লাঞ্চের আগে তুলে নেন ৩ উইকেট। জেসন রয়কে (২৮) বোল্ড করে উইকেটে খাতা খোলা এই স্পিনার ফেরান জো ডিনলি (১১) ও জো রুটকে (২৮)।

লাঞ্চ থেকে ঘুরে এসে আবারও উইকেট উদযাপন অস্ট্রেলিয়ার। জস বাটলারকে (১) ফিরিয়ে জয়ের ভিত তৈরি করেন কামিন্স। খানিক পর বেন স্টোকসকে (৬) আউট করে লায়ন টেস্ট ক্যারিয়ারের ১৪তম ৫ উইকেট পূরণ করেন মঈন আলীকে (৪) ফিরিয়ে। লায়নের এই কীর্তির আগেই অবশ্য জনি বেয়ারস্টোকে (৬) প্যাভিলিয়নে ফেরত পাঠান কামিন্স।

৫ উইকেট নিয়েও ক্ষুধা মেটেনি লায়নের। স্টুয়ার্ট ব্রডও (০) তার শিকার। কঠিন পরিস্থিতির মধ্যে শেষ দিকে লড়াই চালানো ক্রিস ওকসকে স্লিপে স্মিথের হাতে ক্যাচ বানিয়ে সফরকারীদের বিশাল জয় এনে দেন কামিন্স। দ্বিতীয় ইনিংসে ইংল্যান্ডের সর্বোচ্চ ৩৭ রান এসেছে ওকসের ব্যাট থেকেই।

এজবাস্টন টেস্টের প্রথম ইনিংসে ব্যাটিং বিপর্যয়ের মাঝে ১৪৪ রানের ইনিংস খেলে স্মিথ অস্ট্রেলিয়ার রান নিয়ে গিয়েছিলেন ২৮৪-তে। জবাবে ররি বার্নসের সেঞ্চুরিতে (১৩৩) ইংলিশরা প্রথম ইনিংসে লিড নেয় স্কোরে ৩৭৪ রান যোগ করে।

দ্বিতীয় ইনিংসে আরেকবার অস্ট্রেলিয়ার ওপেনাররা ব্যর্থ হলেও স্মিথ (১৪২) ও ম্যাথু ওয়েডের (১১০) সেঞ্চুরিতে ৭ উইকেটে ৪৮৭ রানে ইনিংস ঘোষণা করে তারা। তাতে ইংল্যান্ডের লক্ষ্য ঠিক হয় ৩৯৮ রানের। সেই লক্ষ্যে খেলতে নেমে ৫২.৩ ওভারে স্বাগতিকরা অলআউট ১৪৬ রানে।

প্রথম ইনিংসে ৩টির পর দ্বিতীয় ইনিংসে লায়নের শিকার ৬ উইকেট। এরপরও দুই ইনিংসে দারুণ দুটি সেঞ্চুরি করা স্মিথের হাতেই মানায় ম্যাচসেরার পুরস্কার। ক্রিকইনফো

সংক্ষিপ্ত স্কোর:

অস্ট্রেলিয়া: প্রথম ইনিংসে ৮০.৪ ওভারে ২৮৪ (স্মিথ ১৪৪, সিডল ৪৪, হেড ৩৫; ব্রড ৫/৮৬, ওকস ৩/৫৮) ও দ্বিতীয় ইনিংসে ১১২ ওভারে ৪৮৭/৭ (ডিক্লে.) (স্মিথ ১৪২, ওয়েড ১১০, হেড ৫১; স্টোকস ৩/৮৫, মঈন ২/১৩০)।

ইংল্যান্ড: প্রথম ইনিংসে ১৩৫.৫ ওভারে ৩৭৪ (বার্নস ১৩৩, রুট ৫৭, স্টোকস ৫০; কামিন্স ৩/৮৪, লায়ন ৩/১১২) ও দ্বিতীয় ইনিংসে ৫২.৩ ওভারে ১৪৬ (ওকস ৩৭, রুট ২৮, রয় ২৮; লায়ন ৬/৪৯, কামিন্স ৪/৩২)।

ফল: অস্ট্রেলিয়া ২৫১ রানে জয়ী।

ম্যাচসেরা: স্টিভেন স্মিথ।