২২ নভেম্বর কলকাতার ইডেন গার্ডেন্সে শুরু হবে বাংলাদেশ-ভারত দিবা-রাত্রির টেস্ট। কৃত্রিম আলো আর গোলাপি বলে এটাই প্রথম টেস্ট দুই দলের। টি-টোয়েন্টি সিরিজ খেলতে বাংলাদেশ দল এখন ভারতে। টি-টোয়েন্টি দলে ইমরুল কায়েস সুযোগ পাননি, তবে হাত গুটিয়ে বসেও নেই বাঁহাতি ওপেনার। বেশ আগেই প্রস্তুতি শুরু করা ইমরুল মিরপুর শেরে বাংলা স্টেডিয়ামে অনুশীলন করেছেন গোলাপি বলে। যেখানে তার সঙ্গী ছিলেন টেস্ট দলের আরেক সদস্য মেহেদী হাসান মিরাজ।
মিরপুরেই জাতীয় ক্রিকেট লিগে খুলনা-রংপুরের লড়াই শেষ হয়েছে মঙ্গলবার। তার দল খুলনা ১ উইকেটের রোমাঞ্চকর জয় পেলেও ব্যাট হাতে ইমরুল সুবিধা করতে পারেননি, দুই ইনিংসে করেছেন ৬ ও ৩ রান। লাঞ্চের আগে খেলা শেষ হওয়ার সুযোগ তিনি কাজে লাগিয়েছেন গোলাপি বলে অনুশীলন করে। অনুশীলন শেষে সংবাদ মাধ্যমকে বলেছেন, ‘এই প্রথম গোলাপি বলে অনুশীলন করলাম। একটু অন্যরকম লেগেছে। খেলতে বেশ সমস্যা হচ্ছিল। আসলে লাল বল আর গোলাপি বলের মুভমেন্ট ভিন্ন। মনে হলো গোলাপি বল একটু বেশিই সুইং করে। কয়েকদিন অনুশীলন করলে হয়তো এই বলে অভ্যস্ত হয়ে উঠবো।’
এই বলের সমস্যার কথাও জানালেন তিনি, ‘সিম তো একই রকম হয়। সমস্যা হচ্ছে, বলটা যখন পিচে পড়ে তখন ব্যাটে একটু অন্যভাবে আসে। লাল বলের পলিশ নষ্ট হতে কিছুটা সময় লাগে। সেই তুলনায় গোলাপি বলের পলিশ দ্রুত নষ্ট হয়ে যায়। কিন্তু যতক্ষণ পলিশ থাকে, ততক্ষণ সুইং বেশি হয়।’
ইমরুলের জীবনে প্রথম হলেও বাংলাদেশের ক্রিকেটে গোলাপি বলের আগমন বেশ আগে। ২০১৩ সালে বাংলাদেশ ক্রিকেট লিগের (বিসিএল) ফাইনাল হয়েছিল গোলাপি বল আর কৃত্রিম আলোয়। ইমরুল অবশ্য সেই ম্যাচ খেলেননি। ‘পূর্ব অভিজ্ঞতা ছাড়া গোলাপি বলে টেস্ট খেলতে সমস্যা হবে না?’ প্রশ্নে ইমরুলের জবাব, ‘আগে খেললে তো অবশ্যই ভালো হতো। তবে ভারতও কখনও খেলেনি। তাই দুই দলই সমান জায়গায় দাঁড়িয়ে। শুধু একটা কথা বলতে পারি, আমরা গোলাপি বলে টেস্ট খেলার সম্ভাবনায় রোমাঞ্চিত।’
ছেলের অসুস্থতার কারণে আফগানিস্তানের বিপক্ষে একমাত্র টেস্টে খেলতে পারেননি ইমরুল। তবে ভারত সফরের টেস্ট দলে প্রত্যাশিতভাবেই তিনি আছেন। জাতীয় লিগের এই রাউন্ডে ব্যর্থ হলেও আগের রাউন্ডে ৯৩ রানের ইনিংস এসেছিল তার ব্যাট থেকে। এর আগের ম্যাচে খেলেছিলেন অপরাজিত ২০২ রানের দুর্দান্ত ইনিংস।