সাকিব আল হাসান ও রাহুল দ্রাবিড় তার প্রিয় ক্রিকেটার। তাদের মতোই দলের প্রাণভোমরা হওয়ার স্বপ্ন দেখেন মাহমুদুল হাসান জয়। যে স্বপ্নের সিঁড়ি গড়তে বয়সভিত্তিক ক্রিকেটে সেরাটা উজাড় করে দিচ্ছেন ডানহাতি এই ব্যাটসম্যান। গত এক বছরের পারফরম্যান্সে মিলেছে উজ্জ্বল ভবিষ্যতের আভাস। আপাতত চাঁদপুরের তরুণের ভাবনায় শুধুই অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ।
চার ভাই-বোনের মধ্যে তৃতীয় মাহমুদুল ছোট থেকেই ডানপিটে। প্রাইমারিতে থাকতে বাবা-মায়ের চোখ ফাঁকি দিয়ে মাঠে তো যেতেন, কিন্তু এলাকার বড় ভাইয়েরা ব্যাটিং দিতো না তাকে। শুধু ফিল্ডিং করে মন খারাপ নিয়ে বাসায় ফেরার পথে ভাবতেন, একদিন বড় ব্যাটসম্যান হয়ে দেখিয়ে দেবেন বড় ভাইদের। এখন স্মৃতির সাগরে ঝাঁপ মারলে অন্যরকম ঢেউ খেলে যায় তার মনে।
আইসিসি অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপে বাংলাদেশের ১৫ যোদ্ধাকে নিয়ে ধারাবাহিক প্রতিবেদন প্রকাশিত হচ্ছে বাংলা ট্রিবিউনে। আজ (শনিবার) থাকছে টপ অর্ডার ব্যাটসম্যান মাহমুদুল হাসান জয়ের একান্ত সাক্ষাৎকার-
বাংলা ট্রিবিউন: অন্য অনেক খেলা থাকতে ক্রিকেট কেন বেছে নেওয়া?
মাহমুদুল হাসান: একদম ছোটবেলা থেকেই টেপ টেনিসে পাড়ার স্কুলে ক্রিকেট খেলতাম। যদিও খেলার সুযোগ পেতাম না বড় ভাইদের জন্য। তারা আমাকে ব্যাটিং দিতো না, কেবল ফিল্ডিং করাতো। আমি হতাশ হয়ে বাড়ি ফিরতাম। তখন মনে জেদ চাপতো, আমিও ভালো ব্যাটসম্যান হয়ে বড় ভাইদের দেখিয়ে দেবো।
বাংলা ট্রিবিউন: বাবা-মা বাধা দিতো না?
মাহমুদুল: প্রথম প্রথম বাসা থেকে বকাঝকা করতো। তারপরও আমি এলাকার মাঠে লুকিয়ে ক্রিকেট খেলতে যেতাম। পরে যখন বিকেএসপিতে ভর্তি হই, তখন থেকে বাবা-মা উৎসাহ দেওয়া শুরু করে।
বাংলা ট্রিবিউন: এ তো গেল ক্রিকেট বেছে নেওয়ার গল্প। এবার ক্রিকেট শুরুর গল্পটা শুনি...
মাহমুদুল: আমার এক আঙ্কেল বিজিবিতে চাকরি করেন, তার পোস্টিং ছিল রাঙামাটি। আমি তখন ছোট, ১৩ বছর বয়স হবে। ওই সময় আব্বু আমাকে নিয়ে রাঙামাটি ঘুরতে গিয়েছিল। সেখানে ওই আঙ্কেলের কাছে আমার নামে বিচার দেয়। আব্বু আঙ্কেলকে বলে, আমি সারাদিন স্কুল মাঠে ক্রিকেট খেলে বেড়াই। এসব শুনে আঙ্কেল আব্বুকে বলেন, আমাকে বিকেএসপিতে ভর্তি করানোর কথা। প্রথমে ২০১৩ সালে আমি চাঁদপুরের ক্লেমন ক্রিকেট একাডেমিতে ভর্তি হই। শামীম স্যারের কাছে দুই বছর অনুশীলন করি। এরপর ২০১৪ সালের শেষের দিকে বিকেএসপিতে ভর্তি হই। ওখানে বয়সভিত্তিক ধাপগুলো পেরিয়ে এই পর্যন্ত এসেছি।
বাংলা ট্রিবিউন: শামীম ফারুকির হাত ধরে আপনার উঠে আসা, তার কাছে কী শিখেছেন?
মাহমুদুল: ২০১৩ সালে ক্রিকেট বলে শুরুটাই তো হয়েছে তার হাত ধরে। তার কাছে ব্যাট-বল ধরা শেখা আমার। উনিই আমাকে প্রাথমিক বিষয়গুলো শিখিয়েছেন। তার কাছে দুই বছর ব্যাটিংয়ে পাওয়া শিক্ষা পরবর্তীতে বিকেএসপিতে কাজে লাগাতে পেরেছি।
মাহমুদুল: দলের প্রস্তুতি ভালো। আমাদের ভালো একটি কম্বিনেশন দাঁড়িয়ে গেছে। গত দেড় বছর ধরে আমরা একসঙ্গে আছি। আগের সিরিজগুলো আমাদের ভালো হওয়াতে আত্মবিশ্বাস খানিকটা বেশি।
বাংলা ট্রিবিউন: দক্ষিণ আফ্রিকার কঠিন কন্ডিশনে আপনি কতটা প্রস্তুত?
মাহমুদুল: দক্ষিণ আফ্রিকার মতোই অনেকটা নিউজিল্যান্ডের উইকেট। আমি নিউজিল্যান্ড সিরিজে মোটামুটি ভালো ক্রিকেট খেলেছি। একটি সেঞ্চুরির পাশাপাশি একটা ৯৯ রানের ইনিংস ছিল। সব মিলিয়ে বলব আমি আত্মবিশ্বাসী।
বাংলা ট্রিবিউন: দক্ষিণ আফ্রিকার কন্ডিশনে খেলার প্রস্তুতি নিয়েছেন কিভাবে?
মাহমুদুল: আমার আউটসাইড অফস্টাম্পে কিছুটা সমস্যা আছে। সেগুলো নিয়ে কাজ করেছি। আমরা বগুড়াতে ক্যাম্প করেছি। ওখানকার উইকেটে বেশ বাউন্স আছে। ফলে আমাদের প্রস্তুতিটা ভালো হয়েছে।
বাংলা ট্রিবিউন: এক ক্যালেন্ডারে ৯১৫ রান করেছেন। যুব বিশ্বকাপে ইয়ন মরগানের সর্বোচ্চ রানের (৬০৬) রেকর্ডটি সম্পর্কে জানেন নিশ্চয়?
মাহমুদুল: না, মাত্রই জানলাম। যেহেতু আমি টপ অর্ডার ব্যাটসম্যান, এমন কিছু করার সুযোগ তো আমার আছেই। তবে দায়িত্ব থাকবে গেম প্লান অনুযায়ী ব্যাটিং করার। ওই কাজটা করতে পারলেই আমি খুশি। তবে মরগানের রেকর্ড ভাঙতে পারলে সেটি হবে আমার বিশাল অর্জন।
বাংলা ট্রিবিউন: বলছিলেন দ্রাবিড় ও সাকিব আপনার প্রিয় ক্রিকেটার। কেন?
মাহমুদুল: দ্রাবিড়কে ‘দ্য ওয়াল’ বলা হতো। আমিও আমার দলের ‘ওয়াল’ হতে চাই। দেশের মধ্যে সাকিব ভাইয়ের খেলা ভালো লাগে। তার মধ্যে থাকা আক্রমণাত্মক মনোভাব আমাকে মুগ্ধ করে।
নাম: মাহমুদুল হাসান
ডাকনাম: জয়
জন্ম: ১৩ নভেম্বর, ২০০০
জন্মস্থান: ফরিদগঞ্জ, চাঁদপুর
উচ্চতা: ৫ ফুট ৮ ইঞ্চি
লেখাপড়া: এইচএসসি দ্বিতীয়বর্ষ
প্রথম ক্লাব: ক্লেমন ক্রিকেট একাডেমি, চাঁদপুর
বর্তমান ক্লাব: শাহীনপুকুর ক্রিকেট ক্লাব
ব্যাটিং স্টাইল: ডানহাতি
প্রিয় শট: স্টেইট ড্রাইভ
প্রিয় মানুষ: পরিবারের সব সদস্য
প্রিয় ক্রিকেটার: রাহুল দ্রাবিড় ও সাকিব আল হাসান
ক্যারিয়ারের সেরামুহূর্ত: অনূর্ধ্ব-১৯ চ্যালেঞ্জ সিরিজে ইস্টজোনের হয়ে সেন্ট্রাল জোনের বিপক্ষে ১০০ রানের অপরাজিত ইনিংস।
ছবি: সাজ্জাদ হোসেন