ক্রিকেটকে বিদায় বললেন ইরফান

ইরফান পাঠানশেষ আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলেছেন ৮ বছর আগে, ভারতের ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেট আইপিএলেও দেখা গেছে তিন বছর আগে। ভারতের ক্রিকেট থেকে ইরফান পাঠানের নাম ধীরে ধীরে মুছেই যেতে শুরু করেছিল। অবশেষে তিনি নিজেকে আনুষ্ঠানিকভাবে সরিয়ে নিলেন ক্রিকেট থেকে। অবসরের ঘোষণা দিলেন আজ শনিবার।   

দুর্দান্ত সুইংয়ে ব্যাটসম্যানদের মনে ভয় জাগাতেন ইরফান। ব্যাটিংয়েও ছিলেন বেশ চমৎকার। কিন্তু ইনজুরি আর সুইংয়ে ধার কমে যাওয়ায় অনিয়মিত হয়ে পড়েন। শেষ আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলার ৮ বছর পর আজ শনিবার সব ধরনের ক্রিকেটকে বিদায় বললেন ভারতের এই অলরাউন্ডার।

২০০৩ সালের ডিসেম্বরে অ্যাডিলেড টেস্টে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ার শুরু। প্রায় ৯ বছরের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারে ইরফান খেলেছেন ২৯ টেস্ট, ১২০ ওয়ানডে ও ২৪ টি-টোয়েন্টি। ভারতের জার্সিতে ২০১২ সালে সর্বশেষ ম্যাচ খেলেন কুড়ি ওভারের ক্রিকেটে। আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারে তার উইকেট ৩০১টি। ব্যাট হাতেও রেখেছেন অবদান, টেস্টে ৩১ গড়ে ১১০৫ রান এবং ওয়ানডেতে ২৩.৩৯ গড়ে ১৫৪৪ রান।

জাতীয় দলে নিয়মিত হতে খুব বেশি সময় লাগেনি ইরফানের। ২০০৪ সালে পাকিস্তান সফরে নজর কাড়েন তিনি তিন টেস্টে ১২ উইকেট নিয়ে। ক্যারিয়ারের সেরা মুহূর্ত এই পাকিস্তানের বিপক্ষে। ২০০৬ সালে করাচি টেস্টে প্রথম ওভারেই সালমান বাট, ইউনুস খান ও মোহাম্মদ ইউসুফকে ফিরিয়ে হ্যাটট্রিক করেন। পরের বছর প্রথম টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ফাইনালেও পাকিস্তানকে পেয়ে জ্বলে ওঠেন তিনি। চ্যাম্পিয়ন হওয়ার ম্যাচে ১৬ রান খরচায় ৩ উইকেট নিয়ে হন ম্যাচসেরা।

২০০৮ সালে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ভারতের ঐতিহাসিক পার্থ টেস্ট জয়ে ৫ উইকেট নেন এবং ব্যাটিংয়ে ৭৪ রান করে হন ম্যাচসেরা। ওই বছরই দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ক্যারিয়ারের শেষ টেস্ট খেলেন ইরফান। পাঁচ দিনের ক্রিকেটে হয়ে পড়েন অনিয়মিত। সীমিত ওভারের সিরিজ খেলেছেন আরও চার বছর। কিন্তু ফর্ম হারাতে থাকায় ২০১২ সালের পর থেকে আর দেখা যায়নি আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে।

১০৩টি আইপিএল ম্যাচের শেষটি খেলেছেন ২০১৭ সালে। পরের বছর ঘরোয়া ক্রিকেট ক্লাব বারোদা থেকে খেলোয়াড় ও পরামর্শক হিসেবে যোগ দেন জম্মু-কাশ্মিরে। সর্বশেষ প্রতিযোগিতামূলক ক্রিকেট তিনি খেলেছেন গত বছরের ফেব্রুয়ারিতে, জম্মু-কাশ্মিরের হয়ে সৈয়দ মুশতাক আলী ট্রফিতে।