পাকিস্তান সফরে তামিমের ভূমিকা কী?

নেটে তামিমের অনুশীলনবিশ্বকাপ থেকেই ছন্দহীন তামিম ইকবাল। তার মন্থর ব্যাটিং দলকে ভোগাচ্ছে। সদ্যই শেষ হওয়া বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগেও (বিপিএল) ঔজ্জ্বল্য ছড়াতে পারেননি তামিম। বিপিএলে তিনশো রান করা ব্যাটসম্যানদের মধ্যে সবচেয়ে কম স্ট্রাইকরেট তার।

কিন্তু তামিমের ব্যাটিং তো এমন ছিল না! মাঠে তার আগ্রাসন দেখে ভড়কে যেত প্রতিপক্ষ দলের বোলাররা। সেই তামিম এখন খোলসবন্দী। প্রায় ৬ মাস পর জাতীয় দলে খেলতে নেমে তামিমের ভূমিকা কী হবে? প্রধান কোচ রাসেল ডমিঙ্গো প্রশ্নটাকে ‘ডাক’ করেননি, বলেছেন বাংলাদেশের সেরা ওপেনারের ভূমিকাটা ঠিক করে দেবেন তার সঙ্গী।

পাকিস্তান সফরে বাংলাদেশ দলে ওপেনার নেওয়া হয়েছে চারজন। সেখানে তামিমের স্ট্রাইকরেট সবার থেকে কম। বিপিএলে তামিম ৩৯.৬০ গড়ে ১০৯.৩৯ স্ট্রাইক রেটে ৩৯৬ রান করেছেন। রাজশাহীর ওপেনার লিটন দাস ৪৫৫ রান করেছেন ১৩৪.৩১ স্ট্রাইক রেটে। একমাত্র স্থানীয় ক্রিকেটার হিসেবে সেঞ্চুরি হাঁকানো নাজমুল হোসেন শান্তর ব্যাট থেকে এসেছে ৩০৮ রান, তার স্ট্রাইক রেট ১৪৩.৯২। নাঈম শেখ ৩৫৯ রান করেছেন  ১১৫.৪৩ স্ট্রাইক রেটে। তামিমের এই ধরনের ব্যাটিং নিয়ে আগের কোচ স্টিভ রোডসের আপত্তি ছিল না। চলতি বিপিএলে ঢাকা প্লাটুনের কোচ মোহাম্মদ সালাউদ্দিনও তামিমের ব্যাটিং নিয়ে কোনও আপত্তি তোলেননি। তাদের দাবি ছিল, দলীয় পরিকল্পনার অংশ হিসেবেই তামিম এমন ব্যাটিং করছেন!

তবে কি পাকিস্তানে সফরেও এরকম ‘ধরে’ খেলার দায়িত্ব থাকবে তামিমের ওপর? ডমিঙ্গোর অধীনে বাংলাদেশ খেলেছে তিনটি সিরিজ। তিনটির একটিতেও ছিলেন না তামিম। চোটের কারণে শুরুতে খেলা হয়নি আফগানিস্তান ও ত্রিদেশীয় সিরিজে। পরে পারিবারিক কারণে যাননি ভারত সফরে। পাকিস্তান সফর দিয়েই তামিমকে পাচ্ছেন ডমিঙ্গো। প্রথমবারের মতো আজই দুজনকে পাওয়া গেল একসঙ্গে। তার আগেই অবশ্য সংবাদমাধ্যমকে কোচ  তামিমের দায়িত্ব  সম্পর্কে জানিয়ে দিয়েছেন, ‘এটা তামিমের সঙ্গে আমার প্রথম কাজ হতে যাচ্ছে। আরও একটু গভীরভাবে তার সম্পর্কে আমার জানতে হবে। আমি জানি বিপিএলে তামিমের ভূমিকা ছিল একরকম এবং জাতীয় দলে তার ভূমিকা কী হবে, সেটা নিয়ে আলোচনা হবে। এখন পর্যন্ত আমাদের কোনও আলোচনা হয়নি।’

তবে আলোচনা না হলেও তামিমের ভূমিকা কী হতে পারে, সেটা নিয়ে একটি ধারণা দিলেন ডমিঙ্গো, ‘তামিম কীভাবে খেলবেন, সেটা নির্ভর করে তার সঙ্গীর ওপর। আক্রমণাত্মক কোনও ব্যাটসম্যানের সঙ্গে ইনিংস শুরু করলে তামিমকে হয়তো বিপিএলের মতোই ভূমিকা দেওয়া হবে। আর অনভিজ্ঞ কেউ তামিমের সঙ্গী হলে তাকেই (তামিম) হয়তো অগ্রণী ভূমিকা নিতে হবে। তার সঙ্গে বসে এই আলোচনাগুলো করতে হবে।’

পাকিস্তানের টি-টোয়েন্টি সিরিজের জন্য ঘোষিত ১৫ সদস্যের দলে আছেন তামিম ইকবাল, সৌম্য সরকার, লিটন দাস, নাঈম শেখ, নাজমুল হোসেন শান্ত ও আফিফ হোসেন যারা বিপিএলে ওপেনার হিসেবে খেলেছেন।  শেষ পর্যন্ত জাতীয় দলের হয়ে ওপেনিংয়ে কারা খেলবেন সেটাই এখন আলোচ্য বিষয়। ওপেনিং শক্তিশালী হলেও মিডল অর্ডার কিছুটা হলেও দুর্বল হয়ে গেছে মুশফিকের অনুপস্থিতিতে। এমনিতেই নেই সাকিব আল হাসান। মোহাম্মদ মিঠুন ও মাহমুদউল্লাহ  ছাড়া মিডল অর্ডার সামলানোর ব্যাটসম্যান নেই। তাই  মিডল অর্ডার কিংবা লেট অর্ডারে ওপেনারদের দিয়েই কাজটা চালাতে হবে।

এ প্রসঙ্গে ডমিঙ্গো বলেছেন, ‘সেরা খেলোয়াড়েরা যেকোনও কন্ডিশনে, যেকোনও পজিশনে খেলতে পারে। আপনি যদি মরগানকে তিন থেকে ছয়ের মধ্যে নামান দেখবেন সব জায়গায় সে সফল। আপনি যদি কেন উইলিয়ামসনকে তিন থেকে পাঁচের মধ্যে কোথাও নামান দেখবেন সে একটা পথ খুঁজে নিয়েছে। লিটনের মতো খেলোয়াড় একটা ম্যাচের জন্য চার নম্বরে কিংবা দুইয়ে খেলতে পারে, সেটা ভালো। মিঠুন তিন নম্বরে ব্যাট করতে পারে, এটাও ঠিক আছে। আফিফ ছয় নম্বর থেকে ওপেনিং আসতে পারে।’

ঠিক কীভাবে পরিকল্পনা সাজাতে পারেন সেটিরও একটি ধারণা দিয়েছেন ডমিঙ্গো, ‘আমাদের কিছু খেলোয়াড় রয়েছে যেমন সৌম্য ভারতে তিন নম্বরে ব্যাট করেছে, হয়তো সে পাকিস্তানে ছয় নম্বরে ব্যাট করতে পারে। মাহমুদউল্লাহ হয়তো পাঁচ নম্বরে খেলতে পারে। আফিফ ভারতে সাত নম্বরে খেলেছে। সে হয়তো তিন কিংবা চার নম্বরে খেলতে পারে। শান্তও ভালো করেছে। আমাদের সব বিকল্প ভালোভাবে দেখতে হবে।’