একই দলে খেলবেন আমির-হাফিজ!

mohammad-hafeez-pti_mবিপিএল তৃতীয় আসরে চিটাগং ভাইকিংসের হয়ে দুরন্ত পারফরম্যান্স করে চলছেন পাকিস্তানের ক্রিকেটার মোহাম্মদ আমির।  তাকে জাতীয় দলে ফেরানোর কথা বেশ করেই ভাবছেন পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের (পিসিবি) কর্তা ব্যক্তিরা।
মঙ্গলবারও তিনি বল হাতে আগুন ঝড়িয়েছেন। ৪ ওভারে ১৮ রান দিয়ে নিয়েছেন ৩টি উইকেট। তার এমন সাফল্যের পর চিটাগং ভাইকিংসের অধিনায়ক তামিম ইকবালও মনে করেন কয়েক মাসের মধ্যেই জাতীয় দলে খেলবে আমির।
মঙ্গলবার ম্যাচ শেষে তামিম বলেন, ‘আমি নিশ্চিত, আসছে কয়েক মাসের মধ্যেই আমির-হাফিজ একই দলে খেলবে।’
কয়েক মাস আগে ন্যাশনাল ক্রিকেট একাডেমির প্রধান কোচ মোহাম্মদ আকরাম নেটে পাকিস্তানি খেলোয়াড়দের বিপক্ষে আমিরকে বোলিং করতে বলেছিলেন। কিন্তু কলঙ্কিত কোনও খেলোয়াড়ের সঙ্গে খেলবো না বলে পরিষ্কার জানিয়ে দেন হাফিজ। কিছুদিন আগে এক সংবাদ মাধ্যমকে হাফিজ বলেছিলেন আমির বিপিএলে চিটাগং ভাইকিংসের হয়ে খেলছে বলেই তিনি বিপিএল খেলছেন না।  হাফিজ বলতে চেয়েছেন ফিক্সিংয়ে জড়িত কোনও ক্রিকেটার যেখানে খেলছে সেখানে তিনি খেলবেন না। পরে অবশ্য পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড এই বিষয়ে হাফিজকে কারণ দর্শাতে বলে। শেষ পর্যন্ত চিটাগং ভাইকিংসে না খেললেও মোহাম্মদ হাফিজ ঠিকই বিপিএল খেলছেন ঢাকা ডায়নামাইটসের হয়ে।
মঙ্গলবার প্রথম ম্যাচে মাঠে নেমেছেন তিনি। তাইতো আমির-হাফিজ লড়াই দেখতে সবাই উন্মুখ হয়েছিলেন। যদিও বিপিএলের প্রথম ম্যাচে সুবিধা করতে পারেননি হাফিজ। ১ রান করে মোহাম্মদ আমিরের বলে এনামুল হক বিজয়ের তালুবন্দী হয়ে সাজঘরের পথ ধরেন। তখনই আমির যেনো বুনো উল্লাসে মেতে উঠেন। যদিও এটাকে স্বাভাবিক উল্লাস মনে করছেন অধিনায়ক তামিম ইকবাল।
এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘এই দুইজনের তিক্ততা নিয়ে মিডিয়ায় আলোচনা হয়েছে, এটা নিয়ে আমির কখনো ভাবেনি। সে খুব স্বাভাবিক ছিল। উইকেট নেওয়ার পর ওর উদযাপন একদমই স্বাভাবিক ছিল। এমন নয় যে, ও হাফিজের কাছে গিয়ে কিছু বলেছে। ওই সময় আমাদের একটি উইকেট দরকার ছিল। হাফিজকে দ্রুত ফেরানো দরকার ছিল। আমির আমার স্ট্রাইক বোলার, ওকেই আনা হয়েছে। আগের কোনও ঘটনার কারণে নয়। খেলার মধ্যে এত কিছু মাথায় থাকে না।’

 

আমির-হাফিজ প্রসঙ্গ নিয়ে তামিম আরও বলেন, ‘আমার কাছে মনে হয় না ওকে (হাফিজ) নিয়ে আমিরের মনে খারাপ কিছু আছে। আমি নিশ্চিত হাফিজেরও আমিরকে নিয়ে খারাপ কিছু নেই। আমার ধারণা এসব ঠিক হয়ে যাবে।’

উল্লেখ্য, ২০১০ সালে স্পট ফিক্সিংয়ের দায়ে ৫ বছরের জন্য আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে নিষিদ্ধ হয়েছিলেন আমির। গত সেপ্টেম্বরে শেষ হয়েছে তার নিষেধাজ্ঞার মেয়াদ। এরপর পাকিস্তানের ঘরোয়া লিগে দুর্দান্ত পারফর্ম করে ২৩ বছর বয়সী এই পেসার জানিয়ে দিয়েছেন, বিরতি পড়লেও বোলিংয়ে এতটুকু মরিচা ধরেনি তার।

/আরআই/এফআইআর/