বাংলাদেশের আশা বাঁচিয়ে রেখেছেন আকবর-রাকিবুল

আকবরের ব্যাটে পথেই আছে বাংলাদেশঅনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপের চ্যাম্পিয়ন হতে বাংলাদেশের চাই ১৭৮ রান। ভারতের বিপক্ষে ৪১ ওভারে ৭ উইকেটে ১৬৩ রান করেছে তারা। ৫৪ বলে দরকার ১৫ রান। ক্রিজে আছেন আকবর আলী ও রাকিবুল হাসান।

পারভেজ হোসেন হাফসেঞ্চুরির আক্ষেপ নিয়ে বিদায় নিলেও আকবর আলী ও রাকিবুল হাসানের ধীর ব্যাটিংয়ে বাংলাদেশের আশা বেঁচে আছে।

হাফসেঞ্চুরি হলো না পারভেজের

১০২ রানে ৬ উইকেট হারানোর পর আকবর আলী ও পারভেজ হোসেনের ব্যাটে লড়াইয়ে ফেরে বাংলাদেশ। ষষ্ঠ উইকেট যাওয়ার পর মাঠে নামেন ২৫ রানে রিটায়ার্ড হার্ট হওয়া পারভেজ। হাফসেঞ্চুরির খুব কাছে ছিলেন। কিন্তু পারেননি। ৪৭ রানে যশস্বী জয়সাওয়ালের বলে আকাশ সিংয়ের ক্যাচ হন। ৪১ রানের জুটি গড়ে বিদায় নেন বাংলাদেশি ওপেনার। ৭৯ বলে ৭ চারে সাজানো ছিল পারভেজের ইনিংস।

জীবন পাওয়ার পরই আউট অভিষেক

২৩তম ওভারে সুশান্ত মিশ্রের দ্বিতীয় বলে অভিষেক দাসের শটে শূন্যে ভেসে বল ব্যাকওয়ার্ড পয়েন্টে রবি বিশনয়ের হাতের ফাঁক দিয়ে মাটিতে পড়ে। পরের বলে চার মেরেছিলেন বাংলাদেশি ব্যাটসম্যান। আরেকবার জীবন পান অভিষেক, এবার ক্যাচ ছাড়েন তিলক ভার্মা। ৩ বলের ব্যবধানে দুইবার জীবন পেয়েও সুযোগটা কাজে লাগাতে পারেননি। পরের বলে হুক করতে গিয়ে ডিপ স্কয়াল লেগ থেকে দৌড়ে আসা কার্তিক ত্যাগীর হাতে ধরা পড়েন তিনি। ৭ বলে মাত্র ৫ রান করেন অভিষেক। তার বিদায়ের পর মাঠে নামেন রিটায়ার্ড হার্ট হওয়া পারভেজ হোসেন।

বিশনয়ের স্পিনে চাপে বাংলাদেশ

রবি বিশনয়ের লেগ ব্রেকে কাঁপছে বাংলাদেশ। ভারতীয় স্পিনার তার পঞ্চম ওভারে চতুর্থ উইকেট তুলে নিলেন। প্রথম ওভারে উদ্বোধনী জুটি ভাঙেন, পরের ওভার কোনও উইকেট পাননি। এরপর টানা তিন ওভারে বাংলাদেশের ৩ ব্যাটসম্যানকে ফেরান। আগের দুই ওভারে মাহমুদুল হাসানকে বোল্ড ও তৌহিদ হৃদয়কে এলবিডাব্লিউ করেন। এরপর শাহাদাত হোসেন স্টাম্পিং হন মাত্র ১ রান করে। ব্যাটিং সীমানার বাইরে ছিল তার পা, স্টাম্প ভেঙে দেন উইকেটকিপার ধ্রুব জুরেল।

৬৫ রানে ৪ উইকেট হারানোর ধাক্কা কাটিয়ে ওঠার আগেই শামীম হোসেন মাঠ ছাড়েন। বিশনয়ের স্পিন দাপটের পর আকবরের সঙ্গে তার ২০ রানের জুটি ভাঙেন সুশান্ত মিশ্র। ১৮ বলে ৭ রান করে যশস্বী জয়সাওয়ালের ক্যাচ হন শামীম।

ফাইনালে ব্যর্থ মাহমুদুল, আহত হয়ে মাঠ ছাড়লেন পারভেজ

সেমিফাইনালে দুর্দান্ত এক শতকে বাংলাদেশকে ফাইনালে তুলেছিলেন মাহমুদুল হাসান। কিন্তু শিরোপা লড়াইয়ের ম্যাচে ব্যর্থ তিনি। রবি বিশনয়ের বলে বোল্ড হন মাত্র ৮ রান করে, ১২ বল খেলেন মাহমুদুল।

এই উইকেট হারানোর পর আরেকটি ধাক্কা বাংলাদেশ খেয়েছে ওপেনার পারভেজ হোসেন ২৫ রানে রিটায়ার্ড হার্ট হলে। দশম ওভারে আকাশ সিংয়ের বলে পায়ে চোট পান তিনি, মাঠে প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়ে কয়েক ওভার খেললেও মাঠ ছাড়তে হয়েছে।

ভালো শুরুর পর তানজিদের বিদায়

তানজিদ হাসান ও পারভেজ হোসেনের উদ্বোধনী জুটিতে শুরুটা দারুণ করে বাংলাদেশ। প্রথম ওভারে ১৩ রান সংগ্রহে তানজিদ দুটি চার মারেন। পরের ওভারে একটি বাউন্ডারি মারেন পারভেজ। দুজনের জুটি ৫০ ছুঁতেই ভেঙে গেছে। ২৫ বলে ১৭ রান করে রবি বিশনয়ের বলে কার্তিক ত্যাগীর ক্যাচ হন তানজিদ। নবম ওভারের দ্বিতীয় বলে ছয় মেরে দলীয় স্কোর পঞ্চাশে নেন তিনি।

শিরোপা জিততে ১৭৮ রান চাই বাংলাদেশের

অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ ফাইনালে ভারতকে ৪৭.২ ওভারে ১৭৭ রানে অলআউট করেছে বাংলাদেশ। প্রথমবার বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন হতে আকবর আলীদের চাই ১৭৮ রান।

দক্ষিণ আফ্রিকার পচেফস্ট্রুমে টস জিতে ভারতকে ব্যাটিংয়ে পাঠায় বাংলাদেশ। সতর্ক শুরু করে গতবারের চ্যাম্পিয়নরা। সপ্তম ওভারে দিব্যাংশ সাক্সেনাকে (২) ফেরান অভিষেক দাস। ব্যাকওয়ার্ড পয়েন্টে ভারতীয় ওপেনারের ক্যাচ নেন মাহমুদুল হাসান জয়।

এরপর যশস্বী জয়সাওয়াল ও তিলক ভার্মা ক্রিজ আঁকড়ে পড়ে ছিলেন। তাদের ৯৪ রানের শক্ত জুটি ভাঙেন তানজিম হাসান সাকিব। তার বলে ৩৮ রানে শরিফুল ইসলামের ক্যাচ হন তিলক। অধিনায়ক প্রিয়ম গর্গ বেশিক্ষণ ক্রিজে থাকতে পারেননি। ৭ রানে তানজিদ হাসানের ক্যাচ হন, উইকেটটি নেন রাকিবুল হাসান।

ভারতকে অল্প রানে আটকে রাখতে বড় ভূমিকা শরিফুলের। ৪০তম ওভারের পঞ্চম বলে জয়সাওয়ালের গুরুত্বপূর্ণ উইকেট তুলে নেন। ৮৯ বলে ফিফটি করা ওপেনার টানা দ্বিতীয় সেঞ্চুরির পথে ছিলেন। কিন্তু শরিফুলের স্লোয়ারে শর্ট মিডউইকেটে তানজিদের সহজ ক্যাচ হন। ১২১ বলে ৮ চার ও ১ ছয়ে ৮৮ রানে থামেন জয়সাওয়াল। পরের বলে সিদ্ধেশ বীরকেও এলবিডাব্লিউ করেন বাঁহাতি পেসার।

এই ধাক্কায় ভেঙে পড়ে ভারতের ব্যাটিং অর্ডার। টানা দুই ওভারে দুটি রান আউট হয়। ৪৩তম ওভারে রাকিবুলকে পয়েন্টে মেরেছিলেন ধ্রুব জুরেল। রান নেওয়ার জন্য তিনি দৌড়ালেও নন স্ট্রাইকে থাকা অথর্ব আনকোলেকার দৌড়াননি। তাতে দুজনই একপ্রান্তে ছিলেন, আর স্ট্রাইকিং প্রান্তে শামীম হোসেনের থ্রোয়ে উইকেটকিপার আকবর স্টাম্প ভাঙেন। তাতে সেট ব্যাটসম্যান জুরেল ২২ রানে আউট হন। কে আউট হয়েছেন, সেটা জানতে থার্ড আম্পায়ারের বেশ সময় লাগে। পরের ওভারে রবি বিশনয়কে (২) রান আউট করেন শরিফুল।

অভিষেক পরের ওভারের প্রথম ও শেষ বলে দুটি উইকেট নেন। বোল্ড হন আনকোলেকার (৩)। কার্তিক ত্যাগী রানের খাতা না খুলে আকবরের গ্লাভসে ধরা পড়েন। উইকেট হারানোর মিছিল কিছুক্ষণের জন্য থেমেছিল আকাশ সিংয়ের সঙ্গে সুশান্ত মিশ্রের জুটিতে। অবশ্য ৫ রানের বেশি তারা যোগ করতে পারেননি। ৪৮তম ওভারে সাকিবের দ্বিতীয় বলে ডিপ থার্ড ম্যানে সুশান্তের (৩) দারুণ ক্যাচ ধরেন শরিফুল। তাতে ২০০ রানের অনেক আগেই গুটিয়ে যায় চারবারের চ্যাম্পিয়ন ভারত।

বাংলাদেশের পক্ষে অভিষেক সর্বোচ্চ ৩ উইকেট নেন। দুটি করে পান সাকিব ও শরিফুল।