দুজনেরই খেলোয়াড়ি জীবন শুরু চাঁদপুর ক্লেমন ক্রিকেট একাডেমিতে। হাতেখড়ি কোচ শামীম ফারুকীর কাছে। এখন দুজনই বিকেএসপির ছাত্র। যুব বিশ্বকাপের ট্রফি জেতার পথে সেমিফাইনালে দুর্দান্ত সেঞ্চুরি করেছেন মাহমুদুল। দলের প্রয়োজনে নিচের দিকে ব্যাটিং করায় খুব একটা সুবিধা করতে পারেননি শামীম, তবে বোলিংয়ে তার অবদান আছে।
মাহমুদুলের বাড়ি ফরিদগঞ্জের গোবিন্দপুর দক্ষিণ ইউনিয়নের পশ্চিম লাড়ুয়া গ্রামে। ব্যাংকার বাবা আবদুল বারেক চাঁদপুর নতুন বাজার শাখায় কর্মরত। মা হাছিনা বেগম গৃহিনী। চার ভাই-বোনের মধ্যে মাহমুদুল তৃতীয়।
রামপুর প্রাইমারি স্কুল শেষ করে মাহমুদুল ভর্তি হন রামপুর মাদ্রাসায়। সেখানে সপ্তম শ্রেণি পর্যন্ত পড়ে শামীম ফারুকীর হাত হয়ে বিকেএসপিতে ভর্তি। সেখানেই উচ্চ মাধ্যমিক দ্বিতীয় বর্ষে পড়ছেন মানবিক বিভাগে।
বাবা আবদুল বারেক ও মা হাছিনা বেগম গর্বিত। ছেলের সাফল্যে ভীষণ খুশি মাহমুদুলের বাবা, ‘ও অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ খেলেছে, আমরা টিভিতে খেলা দেখেছি। বাংলাদেশ এই প্রথম বিশ্বকাপ জয় করেছে, এজন্য দেশবাসীর মতো আমিও আনন্দিত। বিশ্বকাপজয়ী বাংলাদেশের যুবাদের প্রতি আমি অনেক কৃতজ্ঞ এবং একই সঙ্গে গর্বিত।’ ছেলেকে জাতীয় দলে দেখার অপেক্ষায় আবদুল বারেক, ‘আশা করি ভবিষ্যতে জাতীয় দলে খেলার সুযোগ পাবে জয়। দেশবাসীর কাছে দোয়া চাই যেন ভবিষ্যতে সে জাতীয় দলের হয়ে খেলতে পারে।’
ফরিদগঞ্জ উপজেলার আরেক কৃতিসন্তান শামীম। গোবিন্দপুর উত্তর ইউনিয়নের ধানুয়া গ্রামের হামিদ পাটওয়ারী ও রিনা বেগমের পাঁচ সন্তানের মধ্যে সবার ছোট। গ্রামের স্কুলে প্রাথমিক এবং ধানুয়া জনতা উচ্চবিদ্যালয়ে নবম শ্রেণি পর্যন্ত পড়াশোনা করে চলে যান বিকেএসপিতে। উচ্চ মাধ্যমিক দ্বিতীয় বর্ষে পড়ছেন মানবিক বিভাগে।
শামীমের বড় ভাই মামুন জানালেন, সিএবি দলের বিপক্ষে ২২৬ রানের ইনিংস দিয়ে অনূর্ধ্ব-১৯ দলে জায়গা পাকাপোক্ত হয় শামীমের। বাবা হামিদ পাটওয়ারী ও মা রিনা বেগম ছেলের ও দেশের অর্জনে ভীষণ খুশি।
উচ্ছ্বসিত চাঁদপুর ক্লেমন ক্রিকেট একাডেমির প্রধান শামীম ফারুকী, ‘আমার এই দুই ছাত্রের মধ্যে শামীম সহজাত প্রতিভাবান। আর জয় পরিশ্রমী। তারা এবার বিশ্বকাপে যেভাবে খেলেছে, আমি আশাবাদী যে এই ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে পারলে অনেক দূর যাবে।’