ক্রিকইনফোর মন্তব্যের মন্তাজে অধিনায়ক মাশরাফির বিদায় ও অন্যান্য

519A4092আরেকটি সিরিজে প্রতিপক্ষকে ধবলধোলাই করার আগাম আনন্দ। অধিনায়ক হিসেবে বাংলাদেশের সবচেয়ে অনুপ্রেরণাদায়ী অধিনায়ক মাশরাফি মুর্তজার বিদায়ী ম্যাচ। সারা দেশজুড়েই আনন্দ এবং বিষণ্নতার যুগলবন্দি। অধিনায়কের চোখের কোণে জমে থাকা অশ্রুকণা, গলার ভেতর দলা পাকিয়ে থাকা ব্যথা। ওয়ানডেতে দুই তরুণের অভিষেক। টেস্টে তিনটি ডাবল সেঞ্চুরির মালিক এবং মিডল অর্ডারে পরম নির্ভরতার নাম মুশফিকুর রহিমের ‘নির্বাসন দণ্ড’। তামিম-লিটনের ভয়ঙ্কর সুন্দর ব্যাটিং।

এই হলো সিলেটের লাকাতুরা চা-বাগানের পাশের শ্যামল স্টেডিয়ামে বাংলাদেশ-জিম্বাবুয়ে তৃতীয় ও সিরিজের শেষ ওয়ানডে ম্যাচটির নির্যাস।

দেশের প্রতিটি কোণে কান পাতলে এসবই শোনা গেছে। আমরা বরং এ দেশ তো বটেই, ক্রিকেট বিশ্বেরই নানা প্রান্তে এ ম্যাচ কতটা ঢেউ তুললো সেটির কিছুটা জানাতে পারি। কীভাবে, এই প্রশ্নের উত্তরে জানাই আমরা ভিত্তি হিসেবে নিয়েছি আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের পূর্ণাঙ্গ ওয়েবসাইট ইএসপিএন-ক্রিইনফোর ধারাবিবরণী। আর তার মধ্যেই ভেসে ওঠে পাঠকের মন্তব্যের মন্তাজ। বাংলাদেশ, জিম্বাবুয়ে, ভারত, অস্ট্রেলিয়া, ইংল্যান্ড – বিশ্বের নানা প্রান্ত থেকে ক্রিকেট মনস্ক পাঠকের মন্তব্যের চেয়ে ভালো দর্পণ বোধ হয় আর পাওয়া যায় না।

ম্যাচ শুরুর আগে পাঠকের মাশরাফি-বন্দনা-------

এমএসজেড: অধিনায়কের ম্যাশের শেষ ম্যাচ। আমি সত্যিই মনে করি ভবিষ্যৎ খেলোয়াড়েরা নেতৃত্বগুণ অনুসরণ করবে। খেলোয়াড়েরা হয়তো সহজেই উঠে আসে, নেতারা নয়। এমএসডি(ধোনি) এবং ম্যাশ সেই উদাহরণ গড়েছেন যে কীভাবে দলের অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে উঠতে হয়।

সালেক সুফি: ক্যারিশম্যাটিক বাংলাদেশ অধিনায়ক টিম টাইগার্সের হয়ে শেষবারের মতো টস করবেন। তার গতিশীল নেতৃত্ব বাংলাদেশকে খুবই সাধারণ মানের দল থেকে দারুণ প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ওয়ানডে দলে তুলে দিয়েছে। তিনি সবসময়ই দলকে সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছেন। প্রচলিত ধারণার বাইরে গিয়ে সবসময়ই কিছু একটা করেছেন, সঙ্গীদের ভেতর থেকে সেরাটা বের করে এনেছেন। নেতৃত্বের একটি প্রহেলিকাময় যুগ শেষ হতে চলেছে।

লাভমোর গুয়েঞ্জি: দল যখন ক্রমশই উন্নতির পথে হাঁটছে, ঠিক সেই সময়ে বাংলাদেশ অধিনায়ক মাশরাফি মুর্তজার প্রস্থানের সিদ্ধান্তকে অভিনন্দন জানাই। আফ্রিকার বেশির ভাগ রাষ্ট্রপতিই মহান এই নেতার কাছ থেকে শিখতে পারেন, যারা দেশের অর্থনীতির বারোটা বাজিয়েও পদত্যাগের কথা ভাবতে পারেন না।

দিশারী: মাশরাফির মতো চরিত্ররা একজীবনে একবারই আসে। মাশরাফি সত্যিকারের একজন ভালো ও উদার-হৃদয় মানুষ। সত্যিই তার দেওয়ার মানসিকতা আছে, সে দলের কথা ভাবে, মানুষের কথা ভাবে, বাংলাদেশের মতো দেশের মাশরাফিকে নিয়ে গর্ববোধ করা উচিত। সে এই খেলাটির এবং তার দেশের মহান এক দূত (২০১৮ সালে মাশরাফির শল্যবিদ ডেভিড ইয়াংয়ের কথা)।

অ্যাভেইর: একটা পুরোনো ঘটনা বলি। ২০১৭ সালে রংপুর রাইডার্সকে বিপিএল জেতালেন অধিনায়ক হিসেবে, ফ্র্যাঞ্চাইজির মালিকেরা মাশরাফিকে রেঞ্জ রোভার গাড়ি ও একটি রোলেক্স ঘড়ি দিতে চেয়েছিলেন। তিনি তা নিতে অস্বীকার করে তাদের বলেন, তার শহর নড়াইলের মানুষের জন্য তারা যদি একটি অ্যাম্বুলেন্স দেন তাতেই খুশি হবেন।

সাইদুর: বাংলাদেশের সফলতম ওয়ানডে অধিনায়কের শেষ ম্যাচ এটি। মনে হচ্ছে আকাশও এমন এক নেতার জন্য কাঁদছে। আশ্চর্য! বিসিবি এমন সফল অধিনায়কের জন্য স্মরণীয় কিছু আয়োজন করল না।

 কে নেবে মাশরাফির দায়িত্ব----------

আসিফ ইকবাল: সাম্প্রতিক পারফরম্যান্সের পর গা ছাড়া ভাব না এলে আমি মনে করি লিটন পরবর্তী অধিনায়ক হিসেবে ভালো পছন্দ। সৌম্য, সাইফউদ্দিনেরও নাম বলতে পারি আমি। সাকিব ফিরে না আসা পর্যন্ত কাজটা চালিয়ে যান মাহমুদউল্লাহ।

মোস্তাকিম: ভবিষ্যতের অধিনায়ক হিসেবে আমার বাজি সাইফউদ্দিন। ব্যাট ও বল দুইদিকেই পারফর্ম করার সামর্থ্য তার আছে। সাইফকে দেখে আমার মাশরাফির কথা মনে পড়ে।

সরকার: আমি মনে করি না ফিক্সিংয়ের প্রস্তাব পেয়ে তা না জানানোয় এক বছরের নিষেধাজ্ঞা পাওয়া সাকিবের নৈতিকভাবে অধিনায়ক হিসেবে ফিরে আসা উচিত।

জেমস: অবশ্যই কিছুটা সময় লাগবে, তবে আমি আকবর আলীকে ( অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপজয়ী অধিনায়ক) দেখার জন্য রোমাঞ্চিত হয়ে আছি। কাঁধের ওপর ক্ষুরধার এক মস্তিষ্ক তার। খেলার মেজাজটাও আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের জন্য আদর্শ।

এমএএইচনীল: ২০২৩ বিশ্বকাপে আমার অধিনায়ক অবশ্যই মাহমুদউল্লাহ।

মুশফিকুর রহিমের না খেলতে পারা-------

ফুয়াদ: মাশরাফির অধিনায়কত্বের শেষ ম্যাচে মুশি খেলতে পারলেন না। কতটা কঠিন এটা?

লিটনের ব্যাটিং নিয়ে-------

তৌহিদুল: মাঝের ওভারগুলোতে লিটন ২০ বলে ৪ রান করেছেন। কয়েক ওভার আগেই তিনি বল প্রতি রান তুলে ৬৯ রান করেছেন। খুব বাজে! আমরা প্রায় সময়ই তামিমের সমালোচনা করি, কিন্তু এই সমস্যা তো অন্যদের নিয়েও।

জুবায়ের মোস্তফা: লিটন তুমি ২০০-র কাছাকাছি। কী করলে তুমি! বেশির ভাগ দিনই তো তুমি লং-অনের ওপর তুলে মারতে ( লিটন ১৭৬ রানে আউট হওয়ার পর)।

জয়নুল: আমি আর বেশি চ্যাঁচাতে পারছি না। ছক্কার উল্লাস আমার গলা পুরোপুরিই ধসিয়ে দিয়েছে। তবুও আমি চ্যাঁচাবো।