ক্লার্কের গায়ে জ্বালা কেন, প্রশ্ন বোল্টের

ট্রেন্ট বোল্ট ও মাইকেল ক্লার্কসোমবারই দক্ষিণ আফ্রিকা থেকে তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজে হোয়াইটওয়াশ হয়ে ফিরেছে অস্ট্রেলিয়া দল। কিন্তু বিশ্রাম তাদের মিলছে না। তিনদিন পরই আবার নামতে হচ্ছে মাঠে।

এবার অবশ্য ঘরের মাঠে তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজ, প্রতিপক্ষ তাসমান সাগরপারের প্রতিবেশী নিউজিল্যান্ড। ১৩ মার্চ সিডনি ক্রিকেট গ্রাউন্ডে প্রথম ম্যাচ, দু’দিন পর দ্বিতীয় ম্যাচও সেখানে। শেষ ম্যাচ হোবার্টে, ২০ মার্চ।

দক্ষিণ আফ্রিকায় ওয়ানডে সিরিজে হোয়াইটওয়াশ হওয়ার পর অস্ট্রেলিয়া কোচ জাস্টিন ল্যাঙ্গারই বলেছিলেন তার খেলোয়াড়েরা মানসিক অবসাদে ভুগছেন।

প্রায় ওই বক্তব্যেরই প্রতিধ্বনি তুলে সাবেক অস্ট্রেলীয় অধিনায়ক মাইকেল ক্লার্ক নিউজিল্যান্ডের সঙ্গে এই সিরিজ আয়োজনের সমালোচনা করেছেন। ক্রিকেট মৌসুম শেষ, তাই  দর্শকাগ্রহ তলানিতে থাকবে বলে এটি আয়োজনের কোনও যুক্তি দেখেন না তিনি। তার চোখে প্রতীকী মূল্য ছাড়া এই সিরিজ গুরুত্বপূর্ণ শুধু টাকা কামানোর জন্য। ক্লার্ক এ কথা বলেছেন বিগ স্পোর্টস ব্রেকফাস্ট পত্রিকায়।

না, অস্ট্রেলিয়া ক্রিকেট বোর্ডের (ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া) কিছু বলতে হয়নি ক্লার্ককে। জবাবে ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার  হয়েই (!) যেন সাবেক অজি অধিনায়ককে ধুয়ে দিলেন নিউজিল্যান্ড পেসার ট্রেন্ট বোল্ট। বাঁহাতি কিউই পেসার ক্লার্কের মন্তব্যে প্রচণ্ড ক্ষুব্ধ, অকল্যান্ড বিমানবন্দরে সোমবার সাংবাদিকদের বলেছেন, ‘মাইকেল ক্লার্কের অখুশি হওয়ার কিছু কারণ থাকতেই পারে, কিন্তু আমি জানি না তার গায়ে কেন জ্বালা ধরে গেল।’ বোল্ট ভেবে পাচ্ছেন না সিরিজটি কেন প্রতীকী বলা হচ্ছে, ‘আমি জানি না সিরিজটি কেন প্রতীকী। দুই দল একটি ট্রফির জন্য লড়বে, আমরা জিতবো বলেই আশায় উন্মুখ হয়ে আছি। ক্রিকেট খেলাটার জন্য অস্ট্রেলিয়া অসাধারণ এক জায়গা। আমাদের তুলনায় সেখানকার স্টেডিয়ামগুলো বড়। আমি নিশ্চিত, সমর্থন দিতে  অনেক দর্শককে আসতে দেখবো।’

ক্লার্কের মন্তব্যকে পাত্তা দিতে চান না কিউই পেসার, ‘আমি প্রস্তুত হয়ে আছি যে সেখানে গিয়ে কিছু স্লেজিং শুনবো এবং আরও অনেক কিছুর মুখোমুখি হবো। খুবই উত্তেজনাপূর্ণ সিরিজ হতে যাচ্ছে এটি। কিছু মানুষ কী বললো তাতে কিছু এসে যায় না।’

এর আগে জেনে নেওয়া যেতে পারে বিগ স্পোর্টস ব্রেকফাস্টকে দেওয়া ক্লার্কের সাক্ষাৎকারের বাকিটা।

অস্ট্রেলিয়াকে ২০১৫ বিশ্বকাপ জেতানো অধিনায়ক এই সিরিজ আয়োজন দেখে একটু অবাক হয়েই বলেছেন, ‘সত্যি বললে, বিশ্বাস করতে পারছি না। আমি নিখাদ একজন ক্রিকেট-ভক্ত। কিন্তু যারাই এটি আয়োজনের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন সেটি ফুটি (অস্ট্রেলিয়ান রুলস ফুটবল) মৌসুমে। ক্রিকেট মৌসুম তো শেষ। মেয়েদের বিশ্বকাপ জয় দিয়ে কী দারুণভাবেই না সেটি শেষ হয়েছে। এই ম্যাচ দেখতে কোনও দর্শক মাঠে গেলে আমি খুব অবাক হবো।’