অথচ ক্লাবগুলো কোটি কোটি টাকা খরচ করে দল গড়ে। বছরের পর বছর গেলেও নিজস্ব অবকাঠামো গড়ে তুলতে পারেনি তারা। বিসিবির নিজস্ব মাঠে প্রায় প্রতিটি ক্লাবকেই অনুশীলন করতে হচ্ছে। টানা অনুশীলনের ফলে উইকেটের মানও ঠিক থাকছে না। মানহীন উইকেটে ক্রিকেটারদের অনুশীলন করে আদতে লাভটা কিছুই হচ্ছে না। বিশেষ করে দিনের শেষভাগে অনুশীলন করা দলগুলো উইকেট থেকে কিছুই পাচ্ছে না।
জিম্বাবুয়ে সিরিজ শেষ হতেই এই লিগকে ঘিরে গত ৭২ ঘণ্টা ধরে হঠাৎ সরব মিরপুরের একাডেমি মাঠ। ৮-৯ টি ক্লাব ঘুরেফিরে অনুশীলন করেছে এখানে। তাও আবার তড়িঘড়ি করে দুই-তিন ঘণ্টা অনুশীলন করে অন্য ক্লাবকে সুযোগ করে দিতে হচ্ছে। খুব কম সময়ের মধ্যেই সেরে নিতে হবে রানিং, ওয়ার্মআপ, ক্যাচিং, ফিল্ডিং ও ব্যাট-বলের অনুশীলন। এমন অবস্থায় মনের মতো অনুশীলন করতে পারছেন না কোন ক্রিকেটারই! এক ক্রিকেটার অধৈর্য হয়ে বলেছেন, ‘কি করবো ভাই? যেভাবে অনুশীলন করাচ্ছে, সেভাবেই করতে হবে। এভাবে আসলে নিজের কাজটুকু ঠিকমতো করা যায় না।’
বিপিএল না হয় বিসিবির তত্ত্বাবধানে হয়। ঠাসা সূচির কারণে বিসিবিও পারে না একাধিক ভেন্যুতে ম্যাচ আয়োজন করতে। কিন্তু ঢাকা লিগ তো ক্লাব ক্রিকেট। ফলে ক্রিকেটারদের ক্লাবের মাঠেই অনুশীলন করার কথা। ক্রিকেট খেলুড়ে অন্য দেশগুলোতে তেমনটাই দেখা যায়। অবশ্য বাংলাদেশের ক্লাবগুলোর মাঠ থাকলে তো! মাঠ দূরের কথা, ন্যূনতম অনুশীলন-সুবিধাও নেই অনেক ক্লাবের। যার কারণে বিসিবির মাঠ তারা টাকা দিয়েই ব্যবহার করে। কিন্তু সেও তো বিসিবির অনুদানের টাকা থেকেই আসে।
আরেক ঐতিহ্যবাহী ক্লাব মোহামেডানের মাঠ নেই। অনুশীলন সুবিধা থাকলেও সেটা নাকি প্রিমিয়ার লিগের ক্রিকেটারদের জন্য উপযোগী নয়। মোহামেডানের কর্মকর্তা সাবেক ক্রিকেটার সাজ্জাদ আহমেদ জানালেন নিজেদের অসহায়ত্বের কথা, ‘আমাদের বড় মাঠ তো নেই। শুধু একাডেমির অনুশীলনের জন্য খানিকটা ব্যবস্থা আছে। ওখানে আসলে অনুশীলন করা সম্ভব নয়। যে কারণে আমরা বাধ্য হয়েই বিসিবির মাঠ ব্যবহার করি।’
বড় দুটি ক্লাব যেখানে বিসিবির মাঠ ব্যবহার করছে, সেখানে দুই-একটি ক্লাব ব্যতিক্রমী উদাহরণও গড়েছে। শেখ জামাল ধারমন্ডি ক্লাবে অবকাঠামোর উন্নতি হয়েছে কয়েক বছর আগেই। এই ক্লাবের ক্রিকেটাররা নিজেদের মাঠেই অনুশীলন করছেন। গাজী গ্রুপ ক্রিকেটার্স শনিবার মিরপুরের একাডেমিতে অনুশীলন করলেও বেশ কয়েকদিন নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় বিকেএসপিতেও অনুশীলন করেছেন। খেলাঘর সমাজকল্যাণ সমিতি ইউল্যাবের মাঠ ব্যবহার করেছে।
সময়সীমা বেঁধে দেওয়ার পর কোনও কোনও ক্লাবের ক্রিকেটারদের ঠায় দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়। অন্য দলের অনুশীলনের পরই তাদের সুযোগ আসে। কেন এমন হচ্ছে? বিসিবির গ্রাউন্ডস কমিটির ব্যবস্থাপক আবদুল বাতেন বাংলা ট্রিবিউনকে বলেছেন, ‘বিদেশে প্রতিটি ক্লাবের নিজস্ব মাঠ আছে। থাকাটাই স্বাভাবিক। কিন্তু আমাদের নেই। মাঠ পাবে কোথায়? তাই আমাদেরই সব ব্যবস্থা করতে হয়। যারা একটু আগে আগে চলে আসে তাদের সমস্যা। সময় মেনে এলে তাদের অপেক্ষা করার কথা না।’
হতাশ কণ্ঠে আরেক ক্রিকেটার বলেন, ‘আমাদের ক্লাব ক্রিকেটের সংস্কৃতি না বদলালে আমাদের ক্রিকেট এক জায়গাতেই আটকে যাবে। সময় এসেছে ক্লাবের সংস্কৃতি পাল্টানোর। ক্লাবগুলো অনুশীলনের সুযোগ-সুবিধা দিলে ক্রিকেটারদের প্রস্তুতি নিতে সমস্যা হয় না। দেখা যায় বিসিবি সব সময় অনুশীলনের সুবিধা দেয় না। অফসিজনে তাই ক্লাবের নেটে অনুশীলন করে নিজেকে প্রস্তুত করা যায়। আসলে সময় এসেছে ক্লাবগুলোর এ বিষয়ে ভাবার।’
তবে বিসিবি জানিয়েছে তাদের অবস্থান। ভবিষ্যতে আরও অবকাঠামো প্রস্তুত করে সমস্যার সমাধান করা হবে, বললেন বিসিবির প্রধান নির্বাহী নিজামউদ্দিন চৌধুরী, ‘সবগুলো ক্লাবকে একসঙ্গে অনুশলীনের ব্যবস্থা করা আমাদের জন্য চ্যালেঞ্জিং। অনুশীলনের জন্য ক্লাবগুলোর কিছুটা দায়িত্ব আছে। আমরা যেহেতু আয়োজক, আমাদেরও কিছু দায়িত্ব আছে। সেই জায়গা থেকেই আমরা তাদের অনুশীলনের ব্যবস্থা করছি। এরপরও আমরা আমাদের অবকাঠামো উন্নয়নের প্রক্রিয়ার মধ্যে আছি। ফতুল্লা স্টেডিয়ামের উন্নতি করছি। ওই স্টেডিয়ামটি হয়ে গেলে একাডেমির ওপর কিছুটা হলেও চাপ কমবে। এর বাইরেও কিছু অবকাঠামো উন্নয়নের কাজ চলছে।’