সদ্যই ওয়ানডে নেতৃত্ব পাওয়া তামিম অধিনায়ক হিসেবে ওয়ানডে সংস্করণের ক্রিকেটে মাঠে নেমেছেন। প্রতিপক্ষ টেস্ট ও টি-টোয়েন্টির অধিনায়ক মুমিনুল ও মাহমুদউল্লাহ।
মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে আগে ব্যাটিং করা প্রাইম ব্যাংকের শুরুটা অবশ্য হতাশায় মোড়ানো ছিল। দীর্ঘদিন জাতীয় দলের বাইরে থাকা এনামুল হক ৩ বল খেলে ফিরে গেছেন শূন্য রানে। শুরু থেকেই নাহিদুল-হাসান মাহমুদের বলে সংগ্রাম করতে থাকা তামিমও বেশিদূর যেতে পারেননি। ব্যক্তিগত ১৯ রানে ড্রেসিংরুমে ফেরেন তামিম। জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি দলে প্রথমবারের মতো সুযোগ পাওয়া বাঁহাতি নাসুম আহমেদের ঘূর্ণির ফাঁদে পড়ে নাহিদ হাসানকে ক্যাচ দিয়ে বিদান নেন বাংলাদেশের সেরা ওপেনার।
তবে তিন নম্বরে খেলে রনি তালুকদার প্রাইম ব্যাংককে খাদের কিনারা থেকে টেনে তোলেন। খেলেন সর্বোচ্চ ৭৯ রানের ইনিংস। ১০৪ বলে ৭ চার ও ২ ছয়ে তিনি তার ইনিংসটি সাজিয়ে মাহমুদউল্লাহর স্পিনে বোল্ড হন। জাতীয় দলের আরেক ক্রিকেটার মোহাম্মদ মিঠুন ২৭ রানের বেশি করতে পারেননি। সপ্তম উইকেটে নাহিদুল (৫৩) ও নাঈম (৪৬) জুটি গড়েন অবিচ্ছিন্ন ৯৬ রানের। এই জুটি না হলে ২৫১ রান তোলা সম্ভব হতো না প্রাইম ব্যাংকের।
৫৩ রানে ৩ উইকেট নিয়ে মাহমুদউল্লাহ গাজী গ্রুপের সেরা বোলার। এছাড়া বাঁহাতি স্পিনার নাসুম নিয়েছেন ২ উইকেট।
২৫২ রানের জবাবে খেলেতে নেমে প্রাইম ব্যাংকের মতো গাজী গ্রুপের শুরুটাও ভালো হয়নি। জাকির হাসান ৫ রানে ফিরে যাওয়ার পর প্রত্যাশা ছিলো সৌম্য সরকারকে ঘিরে। কিন্তু ভালো শুরুর পরও ৪৯ রানের বেশি করতে পারেননি। ৫১ বলে ৫ চার ও ১ ছক্কায় সাজানো ইনিংসটি ডানহাতি স্পিনার নাহিদুলের বোলিংয়ে কাটা পড়ে। সৌম্যর বিদায়ের আগে অবশ্য মুমিনুল ৪২ বলে ২৮ রান করে ফিরে যান। দ্রুততম সময়ে কয়েক উইকেট হারানোর পর অধিনায়ক মাহমুদউল্লাহর কাঁধে দায়িত্ব চাপে। ধীরস্থিরভাবে খেলা মাহমুদউল্লাহ অবশ্য দলকে অথৈ সাগরে ফেলে ৩২ রানে বিদায় নেন। ততক্ষণে ম্যাচ থেকে অনেকটাই ছিটকে গেছে গাজী গ্রুপ।
সাত নম্বরে নামা আকবর আলীর ঝড়ো ইনিংসে আবারো আলো দেখে গাজী গ্রুপ। অলক কাপালির দারুণ থ্রোতে ৩ চার ১ ছক্কায় ২৮ বলে ৩১ রান করে বিদায় নেন যুব বিশ্বকাপ চ্যাম্পিয়ন দলের অধিনায়ক। লেট অর্ডারে তিন ব্যাটসম্যানকে নিয়ে দারুণ সংগ্রাম করেন মেহেদী হাসান। ৪৯ বলে ৬ চার ও ৩ ছক্কায় ৫৬ রানের ইনিংস খেলে অপরাজিত থেকে যদিও দলকে জেতাতে তিনি পারেননি। শেষ ওভারে জয়ের জন্য গাজী গ্রুপের প্রয়োজন ছিল ২১ রান। কঠিন এই কাজটি তারা পারেনি, হেরে যায় ৯ রানের ব্যবধানে।
ব্যাট হাতে ৫৩ রান করার পর বল হাতেও দলের জয়ে অবদান রাখেন প্রাইম ব্যাংকের নাহিদুল ইসলাম। ডানহাতি স্পিনার ৩০ রানে ২ উইকেট নিয়ে দলের সেরা বোলার। এছাড়া মোস্তাফিজ ও অলক কাপালি নিয়েছেন ২টি করে উইকেট।