লারার জন্মদিনে মুশফিকের শুভেচ্ছা

ব্রায়ান লারার সঙ্গে মুশফিকুর রহিম১৯৮৭ সালে ওয়েস্ট ইন্ডিজ যুব ক্রিকেট টুর্নামেন্টে কার্ল হুপারের করা ৪৮০ রানের রেকর্ড ভেঙে ৪৯৮ রানের নতুন রেকর্ড গড়েছিলেন ব্রায়ান লারা। ওই বছরই জন্ম মুশফিকুর রহিমের। ১৯৯২ সাল থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত টেস্ট ক্রিকেটে ছিল লারার রাজত্ব। শৈশবে ক্যারিবিয়ান কিংবদন্তির স্কিল দেখে মুগ্ধ মুশফিক নিজেও হয়ে ওঠেন ক্রিকেটার।

১৯৬৯ সালের আজকের (২ মে) দিনে ত্রিনিদাদ অ্যান্ড টোবাগোর স্যান্টা ক্রুজে জন্ম লারার। ক্রিকেট দেবতার আশীর্বাদপুষ্ট এই ব্যাটসম্যানকে বলা হয় ‘ক্রিকেটের বরপুত্র’। ৫১তম জন্মদিনে সাবেক ও বর্তমান অনেক ক্রিকেটারের শুভেচ্ছায় সিক্ত হয়েছেন লারা। তার মধ্যে আছেন মুশফিকও। আজ (শনিবার) সকালে বাংলাদেশের উইকেটকিপার ব্যাটসম্যান ফেসবুকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন এই কিংবদন্তিকে।

ফেসবুকে মুশফিক লিখেছেন, ‘শুভ জন্মদিন আমার শৈশবের হিরো, সুপার হিরো। অনেকদিন বেঁচে থাকুন।’

ব্যাটিংকে রীতিমতো শিল্পের পর্যায়ে নিয়ে ‍গিয়েছিলেন লারা। প্রথম শ্রেণির ক্রিকেট ও টেস্টে সর্বোচ্চ রানের রেকর্ডটি তার দখলেই। টেস্ট ক্রিকেটে তার নয়টি ডাবল সেঞ্চুরির সঙ্গে আছে দুটি ট্রিপল সেঞ্চুরি।

১৯৮৭ সালে ওয়েস্ট ইন্ডিজ যুব ক্রিকেট টুর্নামেন্টে কার্ল হুপারের করা ৪৮০ রানের রেকর্ড ভেঙে দিয়ে ৪৯৮ রানের নতুন রেকর্ড গড়েন তিনি। পরের বছর প্রথম শ্রেণির ম্যাচে অভিষেক হয় লারার। ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় ম্যাচেই ম্যালকম মার্শাল ও জোয়েল গার্নারদের বোলিং আক্রমণের বিপক্ষে করেন ৯২ রান।

১৯৯০ সালে টেস্ট ক্রিকেটে অভিষেক তার। পাকিস্তানের শক্তিশালী বোলিং আক্রমণের বিপক্ষে ভালো করতে পারেননি তিনি। তবে নিজেকে মেলে ধরতে সময় লাগেনি তার, ১৯৯২-৯৩ সালের অস্ট্রেলিয়া সফরে শুরু তার দাপট। এরপরই শুরু লারা-যুগ, যা চলেছে ২০০৬ সাল পর্যন্ত। এই বছরে টেস্ট থেকে বিদায় নিলেও আরও এক বছর ছিলেন ওয়ানডের সঙ্গে।

লারার ১৭ বছরের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ার শেষ হয় ২০০৭ সালে। ১৩১ টেস্টে ৫২.৮৮ গড়ে তার সংগ্রহ ১১ হাজার ৯৫২ রান। ৩৪টি সেঞ্চুরি নিয়ে টেস্টে সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহকের তালিকায় তিনি ষষ্ঠ স্থানে। ওয়ানডেতে ২৯৯ ম্যাচে করেছেন ১০ হাজার ৪০৫ রান, সেঞ্চুরি ১৯টি। প্রথম শ্রেণির ক্রিকেট লারার রয়েছে ইতিহাসের সর্বোচ্চ ৫০১ রানের ব্যক্তিগত ইনিংস।

১৯৯৪ সালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ট্স্টে ব্যক্তিগত সর্বোচ্চ ৩৭৫ রানের অকল্পনীয় এক রেকর্ড গড়েন লারা। যা ২০০৩ সালে ৩৮০ রান করে ভেঙে দিয়েছিলেন অস্ট্রেলিয়ার ম্যাথু হেইডেন। যদিও ছয় মাস পরই সেই ইংল্যান্ডের বিপক্ষেই অধিনায়ক হিসেবে লারা খেলেন ৪০০ রানের অপরাজিত ইনিংস।

২০০৭ সালের ১৯ এপ্রিল সব ধরনের ক্রিকেট থেকে অবসর নেওয়া কিংবদন্তি ব্যাটসম্যান ওয়ানডেতে সর্বোচ্চ ১৬৯ রানের ইনিংসটি খেলেন শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে, ১৯৯৫ সালে।