গত মার্চে বিশ্বকাপ থেকে ফিরে গ্রামের বাড়ি শেরপুরে চলে যান নিগার। করোনাভাইরাসের কারণে গ্রামেই ঘরবন্দি হয়ে আছেন তিনি। ঘরে হালকা অনুশীলন ছাড়াও বাড়ির পাশের খোলা জায়গাতে রানিং ও ব্যাটিং অনুশীলন করে নিজেকে তৈরি রাখছেন। নিগারের বাবা মেয়ের জন্য পিচ তৈরি করে সেখানে নিয়মিত ব্যাটিং অনুশীলন করাচ্ছেন।
বাংলা ট্রিবিউনের সঙ্গে আলাপকালে জাতীয় দলের এই উইকেটকিপার ব্যাটসম্যান জানালেন, ‘প্রথম দিকে আমি ফ্রি হ্যান্ডেই কাজ করতাম। তবে বাবা আমাকে ডাম্বেল বানিয়ে দিয়েছে। ইউটিউব ঘেঁটে নিজেই বানিয়েছেন। এজন্য বাবাকে ধন্যবাদ। এই মুহূর্তে ওয়েট নিয়ে আমার কোনও চিন্তা নেই। এটা ছাড়াও বাড়ির সামনের খোলা জায়গাতে রানিং করি। বাবা আমাকে ব্যাটিং করার জন্য কংক্রিটের পিচও বানিয়ে দিয়েছেন। নেটও লাগিয়ে দিয়েছেন। ওখানে আব্বু বোলিং করে, আমি ব্যাটিং করি। যা হচ্ছে, এর চেয়ে ভালো আর সম্ভব নয়।’
টানা ঘরবন্দি থেকে অস্থির হয়ে উঠেছিলেন নিগার। তবে বুঝতে পেরেছেন পরিস্থিতির সঙ্গে মানিয়ে নিতে না পারলে বেঁচে থাকা কঠিন হয়ে যাবে। নিজেই জানালেন সে কথা, ‘এখন যে পরিস্থিতি এর সঙ্গে মানিয়ে নিতে না পারলে নিজেরই ক্ষতি। শুরুর দিকে মানসিকভাবে খুব দুর্বল হয়ে পড়েছিলাম। আপাতত খুব স্বস্তিতে আছি। যেভাবেই হোক সময়গুলো কাটানোর চেষ্টা করছি। ফিটনেস নিয়ে কাজ করার পাশাপাশি ধর্মকর্ম করছি। আম্মুকে রান্নায় সাহায্য করছি। মুভি দেখছি। নেটফ্লিক্স তো আমার এখন অন্যতম বন্ধু। এটা ছাড়া আসলে থাকতে পারতাম না। আমার ফাইটিং মুভি পছন্দ। এর বাইরে সায়েন্স ফিকশন, এনিমেশন মুভি আমার ভালো লাগে।’
করোনাকালের শুরুর দিকে রান্নার ‘ভূত’ চেপেছিল নিগারের মাথায়। সেই গল্প ৭৩টি আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলা ক্রিকেটার শোনালেন এভাবে, “শুরুর দিকে রান্নার ভূত চেপেছিল মাথায়। আব্বুকে জ্বালিয়ে মেরেছি এটা এনে দাও, ওটা এনে দাও। আব্বু আমাকে বলতো, ‘তুমি একেবারে বলো কী কী বানাতে চাও, আমি সব একসঙ্গে এনে দেবো।’ আমি বিশাল লিস্ট দিয়েছিলাম আব্বুকে। প্রথম দিকে বিভিন্ন ধরনের রেসিপির চেষ্টা করেছি। কিছু ভালো হয়েছে, কিছু আবার অখাদ্য ছিল। মিষ্টি জাতীয় আইটেমগুলো আমার ভালো হয়েছিল।”