শ্রীলঙ্কা সফরের শর্তে বাংলাদেশ দলের ১৪ দিনের কোয়ারেন্টিন বাধ্যতামূলক করা হয়েছিল। এই সময়টাতে তামিম-মুশফিকরা অনুশীলনের কোনও সুযোগই পেতেন না। শেষ পর্যন্ত এই ইস্যুতে সিরিজটি স্থগিত হয়ে যায়। বিসিবি অবশ্য কোয়ারেন্টিনে কঠোরতা রাখছে না। দলের বিদেশি কোচ ও সাকিব আল হাসানের ইস্যুতে যে পন্থা অবলম্বন করেছে, সেই একই নিয়ম রাখবে ওয়েস্ট ইন্ডিজের ক্রিকেটারদের জন্য।
বাংলাদেশ সফরে আসার পর করোনা টেস্টের আগপর্যন্ত ওয়েস্ট ইন্ডিজ দল কোয়ারেন্টিনে থাকবে। করোনা টেস্টের ফল নেগেটিভ হলেই জৈব সুরক্ষা বলয়ের মধ্যে থেকে ক্রিকেটীয় কার্যক্রমে অংশ নিতে পারবে তারা।
বুধবার মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে সংবাদমাধ্যমকে নিজামউদ্দিন বলেছেন, ‘আমাদের একটা স্ট্যান্ডার্ড প্র্যাক্টিস আছে, বিদেশি খেলোয়াড় বা কোচ যারা অংশগ্রহণ করেছেন তাদের জন্য। সম্প্রতি যে টুর্নামেন্টটা আমরা করেছি সেখানেও কিছু বিদেশি স্টাফ ছিলেন। তাদের ক্ষেত্রে যে প্র্যাক্টিসটা আমরা করেছি, তারা আসার পর কোয়ারেন্টিনে থাকবেন, তাদের টেস্ট করা হবে, ফল নেগেটিভ হলে তাদের আর বাধা থাকবে না। এভাবেই আমরা চেষ্টা করবো। এভাবেই সরকারের সঙ্গে কথা হচ্ছে।’
বাংলাদেশের সঙ্গে কোয়ারেন্টিন ইস্যুতে কঠোর থাকলেও ইংল্যান্ডকে আতিথেয়তা দিতে বেশ নমনীয় লঙ্কান বোর্ড! জানুয়ারিতে দুটি টেস্ট খেলতে শ্রীলঙ্কা সফরে যাচ্ছে ইংল্যান্ড। অথচ ইংলিশদের জন্য নেই কোনও কোয়ারেন্টিনের শর্ত। লঙ্কান গণমাধ্যম জানিয়েছে, সফরে আসার আগে ইংল্যান্ড দল নিজ দেশেই ১৪ দিন কোয়ারেন্টিনে থাকবে। এরপর চার্টার্ড বিমানে করে ৩ জানুয়ারি শ্রীলঙ্কায় পৌঁছাবে। অথচ বিসিবি চেয়েছিল দেশে ৭ দিন এবং শ্রীলঙ্কায় ৭ দিন কোয়ারেন্টিনে থাকতে। সে সময় লঙ্কান ক্রিকেট না বলে দেয় বিসিবিকে।
শ্রীলঙ্কার দ্বিমুখী আচরণ প্রসঙ্গে বিসিবির প্রধান নির্বাহী বলেছেন, ‘বিষয়টি এভাবে দেখলে হবে না। প্রত্যেকটা দেশে সবসময় একই রকম কোভিড পরিস্থিতি থাকে না। আমরা যখন যেতে চেয়েছিলাম তখনকার চেয়ে হয়তো এখন কোভিড পরিস্থিতির উন্নতি করেছে কিংবা তারা তাদের পরিকল্পনায় বদল এনেছে। তার প্রেক্ষিতেই হয়তো ইংল্যান্ডকে হোস্ট করতে প্ল্যান করছে। আমরা যখন যেতে চেয়েছিলাম, তখন কিন্তু তাদের বোর্ড সরকারের সঙ্গে বেশ কয়েকবার মিটিং করেছে। তাদের সর্বোচ্চ চেষ্টাই ছিল। কিছু কারণে হয়তো তারা সরকারকে বোঝাতে পারেনি। এখন হয়তো পরিস্থিতিটা তাদের পক্ষে থাকার কারণে তারা করতে পেরেছে।’