আর্জেন্টাইন আর ব্রাজিলিয়ানের গোলে সেমিতে বসুন্ধরা

আগের ম্যাচে চট্টগ্রাম আবাহনীর বিপক্ষে জয়ের নায়ক ছিলেন আর্জেন্টাইন স্ট্রাইকার রাউল বেসেরা। ফেডারেশন কাপ ফুটবলে নক আউট পর্বেও দলের জয়ে অবদান রাখলেন এই আর্জেন্টাইন। পাশাপাশি শেষমুহূর্তে ব্যবধান বাড়িয়ে দিয়েছেন ব্রাজিলিয়ান রবিনিয়োও। দুই লাতিন ফরোয়ার্ডের নিশানাভেদে তৃতীয় দল হিসেবে সেমিফাইনালের টিকিট কেটেছে বসুন্ধরা। রবিবার কোয়ার্টার ফাইনালে অস্কার ব্রুজনের দল ২-০ গোলে হারিয়েছে শেখ জামাল ধানমন্ডিকে।

আগামী ৭ জুন সেমিফাইনালে বসুন্ধরা লড়বে আবাহনী লিমিটেড ও উত্তর বারিধারার মধ্যেকার বিজয়ী দলের বিপক্ষে।

ম্যাচের শুরু থেকেই বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে আধিপত্য ছিল বসুন্ধরার। ৪-১-৪-১ ফর্মেশনে একের পর এক আক্রমণ শাণিয়ে খেলেছে তারা। এর ফলে ব্রাজিল-আর্জেন্টিনার খেলোয়াড়দের সমন্বয়ে গোল পেতে বেশি সময় লাগেনি তাদের।

তৃতীয় মিনিটেই সুযোগ ছিল বসুন্ধরার। ব্রাজিলিয়ান রবিনিয়োর ফ্রি-কিক থেকে হেড করেছিলেন আর্জেন্টাইন রাউল বেসেরো। কিন্তু সেটি চলে যায় দূরের পোস্ট দিয়ে। কিন্তু ৭ মিনিট পর আর তাদের পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। প্রতি আক্রমণ থেকে গোল আসে। বিশ্বনাথের থ্রু থেকে আরেক ব্রাজিলিয়ান ফের্নান্দেজের ডানপ্রান্তের ক্রসে ফাঁকায় দৃষ্টিনন্দন টোকায় লক্ষ্যভেদ করেন আর্জেন্টাইন রাউল বেসেরা।

ব্যবধান বাড়িয়ে নিতে ব্রুজনের দল কম চেষ্টা করেনি। কিন্তু এই অর্ধে আর সফল হয়নি গতবারের চ্যাম্পিয়নরা। ম্যাচের ২৪ মিনিটে বক্সের বাইর থেকে মাশুক মিয়া জনির জোরালো শট ক্রস বারের ওপর দিয়ে গেছে চলে। ৩৪ মিনিটে রবিনিয়োর সঙ্গে দেওয়া নেওয়া করে ফেরনান্দেজ শট নিলেও সেটি গোললাইন থেকে ক্লিয়ার করেছেন ডিফেন্ডার মোজাম্মেল হোসেন।

এক গোলে পিছিয়ে থেকে বিরতিতে যাওয়ার শেষ ১০ মিনিট আগে শেখ জামাল গোল শোধে চেষ্টা চালিয়েছে। ৪২ মিনিটে ওতাবেকের ফ্রি-কিকে জাহিদ হোসেনের হেড পোস্টের বাইরে দিয়ে চলে গেলে সাফল্য পায়নি তারা। এর একটু পরই গাম্বিয়ান ওমর জোবে ১:১ পজিসনে গোলকিপার আনিসুর রহমান জিকোকে পেয়ে ক্রস বারের ওপর দিয়ে মেরে সুবর্ণ সুযোগ নষ্ট করেন।

এক গোলে এগিয়ে থেকে বসুন্ধরা বিরতির পর আবারও গোছানো আক্রমণ করতে থাকে। তাতে চাপ বাড়লেও লক্ষ্য ভেদ হচ্ছিলো না। ৬৩ মিনিটে বিশ্বনাথের ক্রস থেকে মাহবুবুর রহমান সুফিলের হেড গোলকিপার মামুন খান পাঞ্চ করে ফিরিয়েছিলেন, ফিরতি বলে বেসেরা চেষ্টা করেও ব্যবধান বাড়াতে পারেননি। গোললাইন থেকে ডিফেন্ডার আলাউদ্দিন বিপদমুক্ত করেন বল।

চার মিনিট পর বেসেরা থেকে রবিনিয়ো বক্সের ভিতরে বল পেয়ে ক্রস বারের ওপর দিয়ে মেরে সুযোগ হারান।
শেষ পর্যন্ত ম্যাচ শেষ হওয়ার দুই মিনিট আগে ব্যবধান বাড়ায় বসুন্ধরা। রবিনিয়ো ফ্রি-কিক থেকে নিচু শটে ব্যবধান বাড়িয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেন শেখ জামালকে।