নতুন বছরে নতুন স্বপ্ন তরুণ ক্রিকেটারদের

nonameআর মাত্র কয়েকঘণ্টা পরেই উঠবে নতুন বছরের সূর্য। পুরনো সব ভুলে ‘শুভ’ কিছুর প্রত্যাশায় মেতে উঠবে পৃথিবীর মানুষগুলো। যেখান থেকে পিছিয়ে থাকতে চাইবেন না ক্রিকেটাররাও। ২০১৫ সালে ক্রিকেট ইতিহাসের সবচেয়ে সোনালী বছর কাটিয়েছে বাংলাদেশ। এই বছরই বাংলাদেশের ক্রিকেটে উঠে এসেছে তরুণ অনেক যোদ্ধা। যারা মাঠের লড়াইয়ে ভয়ডরহীন ক্রিকেট খেলতে ছিলেন বদ্ধপরিকর। সেই ধারাবাহিকতায় নতুন বছরেও দলের সাফল্যে অংশীদার হতে প্রস্তুত এই তরুণরা।
বৃহস্পতিবার বিকালে বাংলা ট্রিবিউনের সঙ্গে মুঠোফোনে কথা বলেন তরুণ এই ক্রিকেটাররা। তারই চুম্বক অংশ পাঠকদের জন্য তুলে ধরা হলো-

সৌম্য সরকার : পুরো বছরের মধ্যে বিপিএলটা ভালো যায়নি। তবে যতটুকু হয়েছে অনেক হয়েছে। এক বছরের মধ্যে আমি অনেক কিছু পেয়েছি। বিশ্বকাপ খেলেছি, সেখানে দল সেমিফাইনালে খেলেছে। আমি সন্তুষ্ট। বিপিএলটা ভালো হলে আর আক্ষেপ থাকতো না। আমার ৯৯ ভাগ ভালো গেছে এক ভাগ শুধু খারাপ!  এই বছরে নিজেরে সেরা পারফরম্যান্স নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে প্রথম ওয়ানডে ফিফটি। বিশেষ কোনও পরিকল্পনা এখনও করিনি। নতুন বছর আসুক, নতুন ভাবে পরিকল্পনা করবো। ভক্তদের উদ্দেশ্যে বলবো যারা পাশে ছিলেন সামনের বছরেও থাকবেন; এই প্রত্যাশা করি। যাতে করে আগামী বছর আরও ভালো কিছু করে দেখাতে পারি।

সাব্বির রহমান রুম্মন: আমার এই বছর যেভাবে চেয়েছি সেভাবেই গেছে। আমি সন্তুষ্ট আমার পারফরম্যান্সে। আমার ক্যারিয়ারে এই বছর স্মরণীয় অনেক কিছু ঘটেছে। নিউজল্যিান্ডের বিপক্ষে হাফসেঞ্চুরি। পাকিস্তানের বিপক্ষে ম্যাচ সেরার পুরস্কার এবং বিপিএলে সেমিফাইনালে ৭৯ রানের ইনিংসটি মনে রাখার মতো।  ২০১৬ সাল নিয়ে তেমন কোনও পরিকল্পনা এখনও করিনি। আপাতত পরিকল্পনা আমার দুর্বল পয়েন্টগুলো নিয়ে কাজ করবো। আশা করি জাতীয় দলে যেভাবে বছরটি শেষ করেছি সেভাবে নতুন বছর আবার শুরু করতে পারবো। দেশের জন্য যেন ভালো কিছু দিতে পারি এর জন্য সেরাটাই করবো। নতুন বছরে সবাইকে শুভেচ্ছা।

তাসকিন আহমেদ : সত্যি কথা বলতে বছরটি আমার জন্য অন্যরকম একটি বছর। হয়তো ইনজুরির কারণে বছরের শেষ মুহূর্তটা আমার ভালো কাটেনি। তারপরও বলবো বছরটি আমার জন্য স্মরণীয়। আমি এই বছর বিশ্বকাপের মতো বড় একটি টুর্নামেন্ট খেলতে পেরেছি।ওখানে আমি আমাদের দলের মধ্যে সর্বোচ্চ উইকেট সংগ্রাহক হয়েছিলাম। এই অর্জনগুলো আমাকে অনেক আনন্দিত করে। বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে খেলা এবং ভারতের সঙ্গে প্রথমবারের মতো সিরিজ জেতা আমার কাছে অন্যতম স্মরণীয় মুহূর্ত। আগামী বছর বেশিরভাগ টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটের খেলা। সেভাবেই নিজেকে প্রস্তুত করতে চাই। নতুন বছর নতুন ভাবে নতুন পরিকল্পনায় শুরু করতে চাই। ভক্তদের নববর্ষের শুভেচ্ছা। আপনারা যখন আমাদের ভালো সময় পাশে থাকেন, খারাপ সময়ও পাশে থাকবেন। এটাই প্রত্যাশা করি।

আল আমিন হোসেন : শেষ ভালো যার সব ভালো তার। শেষটা ভালো হওয়ার কারণে পুরোনো বিষয়গুলো খুব যন্ত্রণা দিচ্ছে না আমাকে। একটি বছরে ভালো দিক ও খারাপ দিক দুটিই আসবে। ভালোদিকগুলো আত্মবিশ্বাস যোগায়। আর খারাপ দিকগুলো থেকে আত্মবিশ্বাস নিতে হয়। খারাপ দিকগুলো যা হয়েছে ওখান থেকে শিক্ষা নেওয়ার চেষ্টা করেছি কিভাবে আরও ভালো করা যায়।  আপাতত আমার পরিকল্পনা ফিটনেসের প্রমাণ দেওয়া; সামনে জিম্বাবুয়ে সিরিজের আগে নিজেকে প্রস্তুত করা। যারা আমার খারাপ সময়ে পাশে ছিলেন তাদের প্রতি আমি কৃতজ্ঞ। সেই সঙ্গে নতুন বছরের আগমনে সবাইকে নববর্ষের শুভেচ্ছা।

 /আরআই/এফআইআর/