কী চমৎকারভাবেই না শুরু হয়েছিল দিন। প্রথম ডেলিভারিতেই আসে সাফল্য। এরপর লাঞ্চের আগে আরও ২ উইকেট তুলে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে চেপে ধরে চট্টগ্রাম টেস্টের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের কাছে রাখে বাংলাদেশ। কিন্তু দ্বিতীয় সেশনে পাল্টে যায় দৃশ্যপট। জার্মেইন ব্ল্যাকউড ও জোশুয়া দা সিলভার প্রতিরোধে উল্টো বাংলাদেশই পড়ে চাপে! অবশেষে এই জুটি ভেঙে স্বস্তি ফেরালেন নাঈম হাসান।
বাংলাদেশের এই ডানহাতি স্পিনার জোশুয়াকে ফিরিয়ে ভেঙেছেন ৯৯ রানের জুটি। নাঈমের বল ক্যারিবিয়ান ব্যাটম্যানের ব্যাটে লেগে জমা পড়ে উইকেটকিপার লিটন দাসের গ্লাভসে। তাতে ওয়েস্ট ইন্ডিজ হারায় ষষ্ঠ উইকেট।
প্যাভিলিয়নে ফেরার আগে জোশুয়া সত্যিকার টেস্ট মেজাজে ব্যাট করে খেলেছেন ৪২ রানের ইনিংস। ১৪১ বলের ইনিংসটি সাজান তিনি ৩ বাউন্ডারি ও ১ ছক্কায়। তবে হাফসেঞ্চুরি পূরণ করে চমৎকার ব্যাটিংয়ে এগিয়ে চলেছেন ব্ল্যাকউড।
প্রথম সেশনে প্রাপ্তি ৩ উইকেট
তৃতীয় দিনের প্রথম বলেই উইকেট তুলে নিলেন তাইজুল ইসলাম। এরপর উইকেট উদযাপন করলেন নাঈম হাসান ও মেহেদী হাসান মিরাজ। এই তিন স্পিনারের আঘাতে প্রথম সেশনে বাংলাদেশের প্রাপ্তি ৩ উইকেট। চট্টগ্রাম টেস্টের তৃতীয় দিনের লাঞ্চ বিরতির আগে ওয়েস্ট ইন্ডিজের স্কোর ৬২ ওভারে ৫ উইকেটে ১৮৯।
ক্রিজে ছিলেন ৩৪ রান করা জার্মেইন ব্ল্যাকউড ও ১২ রান করা জোশুয়া দা সিলভা। প্রথম ইনিংসে বাংলাদেশ করেছে ৪৩০ রান। সেই হিসাবে ক্যারিবিয়ানরা পিছিয়ে ২৪১ রানে।
এবার মিরাজের আঘাত
মূল কাজটা বোলিংয়েই করে থাকেন মেহেদী হাসান মিরাজ। তবে চট্টগ্রাম টেস্টে ব্যাট হাতেও নিজের সামর্থ্যের প্রমাণ দিয়েছেন ঝলমলে সেঞ্চুরিতে। এবার ‘আসল’ কাজ বোলিংয়েও সাফল্য পেলেন ডানহাতি স্পিনার।
চট্টগ্রাম টেস্টের তৃতীয় দিনে উইকেট উদযাপন করলেন মিরাজ। তিনি ফিরিয়েছেন ৪০ রান করা কাইল মায়ার্সকে। চমৎকার ব্যাটিংয়ে একটু একটু করে উইকেটে মানিয়ে নিয়ে ক্যারিবিয়ান ব্যাটসম্যান অস্বস্তি বাড়াচ্ছিলেন স্বাগতিকদের। যদিও মিরাজের ঘূর্ণিতে বেশিদূর আর যেতে পারেননি। এই স্পিনারের বলে এলবিডাব্লিউ হওয়ার আগে ৬৫ বলের ইনিংসটি মায়ার্স সাজান ৭ বাউন্ডারিতে।
তার বিদায়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজ হারিয়েছে পঞ্চম উইকেট। ক্যারিবিয়ানদের স্কোর ৫৩ ওভারে ৫ উইকেটে ১৬৪। ব্যাট করছিলেন জার্মেইন ব্ল্যাকউড (২১*) ও জোশুয়া দা সিলভা (০*)।
ভয় ছড়ানো ব্র্র্যাথওয়েটকে থামালেন নাঈম
দিনের প্রথম বলে উইকেট হারালেও ওয়েস্ট ইন্ডিজকে পথে রেখেছিলেন অধিনায়ক ক্রেগ ব্র্যাথওয়েট। হাফসেঞ্চুরি পূরণ করে সেঞ্চুরির পথে হেঁটে অস্বস্তি বাড়াচ্ছিলেন তিনি। ভয় ছড়ানো এই ওপেনারকে থামালেন নাঈম হাসান।
বোল্ড করে ব্র্যাথওয়েটকে প্যাভিলিয়নে পাঠিয়েছেন এই তরুণ ডানহাতি স্পিনার। আউট হওয়ার আগে ক্যারিবিয়ান অধিনায়ক খেলে যান ৭৬ রানের ইনিংস। ৪৯ রান নিয়ে তৃতীয় দিন শুরু করে পেয়ে যান টেস্ট ক্যারিয়ারের ২০তম হাফসেঞ্চুরি। ৬৫ বলে মাইলফলকটিতে পৌঁছানোর পর সেঞ্চুরির আশাও জাগিয়েছিলেন। কিন্তু নাঈমের শিকার হয়ে ফিরতে হয়েছে তাকে। ১১১ বলের ইনিংসটি তিনি সাজিয়েছেন ১২ বাউন্ডারিতে।
তার বিদায়ের পর ক্রিজে ছিলেন কাইল মায়ার্স (৩২*) ও জার্মেইন ব্ল্যাকউড (৩*)। আর ওয়েস্ট ইন্ডিজের স্কোর ছিল ৪৪ ওভারে ৪ উইকেটে ১৩৭ রান।
উইকেট উদযাপনে শুরু বাংলাদেশের
শুরুটা যেমন প্রত্যাশা ছিল, তার চেয়ে বেশিই পেয়ে গেল বাংলাদেশ! চট্টগ্রাম টেস্টের তৃতীয় দিনের শুরুতেই উইকেট উদযাপনের মুহূর্ত এনে দিলেন তাইজুল ইসলাম। দিনের প্রথম বলে সাফল্য পেয়েছেন বাঁহাতি স্পিনার।
দ্বিতীয় দিনের শেষ বিকেলে ক্রেগ ব্র্যাথওয়েট ও এনক্রুমা বনার প্রতিরোধ গড়েছিলেন। তাই এই জুটি যত দ্রুত ভাঙা যায়, ততই মঙ্গল হতো স্বাগতিকদের জন্য। দিনের শুরুতেই প্রয়োজন ছিল ব্রেক থ্রু। বল হাতে নেওয়া তাইজুল প্রথম বলেই সেটি এনে দিলেন বনারকে ফিরিয়ে।
বাঁহাতি স্পিনারের বাঁক খাওয়া বল বনারের ব্যাটে লেগে জমা পড়ে স্লিপে দাঁড়ানো নাজমুল হোসেন শান্তর হাতে। দুর্দান্ত শুরুতে উইকেট উদযাপনে মাতে বাংলাদেশ। প্যাভিলিয়নে ফেরার আগে বনার ৫৯ বলে ২ বাউন্ডারিতে করেন ১৭ রান।
বনার ফিরলেও হাফসেঞ্চুরি পূরণ করেছেন অধিনায়ক ব্র্যাথওয়েট। ৪৯ রান নিয়ে দিন শুরু করে পেয়েছেন টেস্ট ক্যারিয়ারের ২০তম হাফসেঞ্চুরি।