বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছিল শুধু জার্মেইন ব্ল্যাকউড-জোশুয়া দা সিলভা জুটি। তাদের বিদায়ের পর ওয়েস্ট ইন্ডিজকে গুটিয়ে দিতে মাত্র কিছু সময় লেগেছে বাংলাদেশের। চট্টগ্রাম টেস্টের প্রথম ইনিংসে ক্যারিবিয়ানদের ২৫৯ রানে অলআউট করে ১৭১ রানের বড় লিড পেয়েছে স্বাগতিকরা।
দ্বিতীয় সেশনটা হতে যাচ্ছিল ওয়েস্ট ইন্ডিজের। কিন্তু চা বিরতিতে যাওয়ার আগে জ্বলে উঠলেন বাংলাদেশের স্পিনাররা। প্রথমে নাঈম হাসান প্রতিরোধ ভাঙলেন, এরপর যোগ দিলেন মেহেদী হাসান মিরাজ। এই দুই স্পিনারের সাফল্যে দ্বিতীয় সেশনে স্বাগতিকদের প্রাপ্তি ২ উইকেট। চা বিরতি থেকে ঘুরে এসে দ্রুত ৩ উইকেট তুলে দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাটিংয়ে নেমেছে বাংলাদেশ।
সবচেয়ে সফল বোলার মিরাজ। সেঞ্চুরির পর এই স্পিনার বোলিংয়ে নিয়েছেন ৪ উইকেট। আর ২টি করে শিকার মোস্তাফিজুর রহমান, তাইজুল ইসলাম ও নাঈমের।
৫ বলের ব্যবধানে দুই সেট ব্যাটসম্যান হারায় ক্যারিবিয়ানরা। লাঞ্চ বিরতির পর প্রতিরোধ গড়া ব্ল্যাকউড ও জোশুয়া চাপে রেখেছিলেন বাংলাদেশের বোলারদের। সেই তারাই চা বিরতির আগে ফিরে গেছেন প্যাভিলিয়নে। প্রথমে জোশুয়াকে ফিরিয়ে জুটি ভাঙেন নাঈম হাসান। এরপর মিরাজ ফেরান ব্ল্যাকউডকে। লিটন দাসের গ্লাভসবন্দি হওয়ার আগে ব্ল্যাকউড খেলে গেছেন ৬৮ রানের ইনিংস। ১৪৬ বলের ইনিংসটি তিনি সাজান ৯ বাউন্ডারিতে। তাতে ক্যারিবিয়ানরা হারায় সপ্তম উইকেট।
কী চমৎকারভাবেই না শুরু হয়েছিল দিন। প্রথম ডেলিভারিতেই আসে সাফল্য। এরপর লাঞ্চের আগে আরও ২ উইকেট তুলে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে চেপে ধরে চট্টগ্রাম টেস্টের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের কাছে রাখে বাংলাদেশ। কিন্তু দ্বিতীয় সেশনে পাল্টে যায় দৃশ্যপট। ব্ল্যাকউড ও জোশুয়ার প্রতিরোধে উল্টো বাংলাদেশই পড়ে চাপে! অবশেষে এই জুটি ভেঙে স্বস্তি ফেরালেন নাঈম হাসান।
বাংলাদেশের এই ডানহাতি স্পিনার জোশুয়াকে ফিরিয়ে ভেঙেছেন ৯৯ রানের জুটি। নাঈমের বল ক্যারিবিয়ান ব্যাটসম্যানের ব্যাটে লেগে জমা পড়ে উইকেটকিপার লিটন দাসের গ্লাভসে। প্যাভিলিয়নে ফেরার আগে জোশুয়া সত্যিকার টেস্ট মেজাজে ব্যাট করে খেলেছেন ৪২ রানের ইনিংস। ১৪১ বলের ইনিংসটি সাজান তিনি ৩ বাউন্ডারি ও ১ ছক্কায়।
মূল কাজটা বোলিংয়েই করে থাকেন মেহেদী হাসান মিরাজ। তবে চট্টগ্রাম টেস্টে ব্যাট হাতেও নিজের সামর্থ্যের প্রমাণ দিয়েছেন ঝলমলে সেঞ্চুরিতে। এবার ‘আসল’ কাজ বোলিংয়েও সাফল্য পেলেন ডানহাতি স্পিনার।
চট্টগ্রাম টেস্টের তৃতীয় দিনে উইকেট উদযাপন করলেন মিরাজ। তিনি ফিরিয়েছেন ৪০ রান করা কাইল মায়ার্সকে। চমৎকার ব্যাটিংয়ে একটু একটু করে উইকেটে মানিয়ে নিয়ে ক্যারিবিয়ান ব্যাটসম্যান অস্বস্তি বাড়াচ্ছিলেন স্বাগতিকদের। যদিও মিরাজের ঘূর্ণিতে বেশিদূর আর যেতে পারেননি। এই স্পিনারের বলে এলবিডব্লিউ হওয়ার আগে ৬৫ বলের ইনিংসটি মায়ার্স সাজান ৭ বাউন্ডারিতে।
দিনের প্রথম বলে উইকেট হারালেও ওয়েস্ট ইন্ডিজকে পথে রেখেছিলেন অধিনায়ক ক্রেগ ব্র্যাথওয়েট। হাফসেঞ্চুরি পূরণ করে সেঞ্চুরির পথে হেঁটে অস্বস্তি বাড়াচ্ছিলেন তিনি। ভয় ছড়ানো এই ওপেনারকে থামালেন নাঈম হাসান।
বোল্ড করে ব্র্যাথওয়েটকে প্যাভিলিয়নে পাঠিয়েছেন এই তরুণ ডানহাতি স্পিনার। আউট হওয়ার আগে ক্যারিবিয়ান অধিনায়ক খেলে যান ৭৬ রানের ইনিংস। ৪৯ রান নিয়ে তৃতীয় দিন শুরু করে পেয়ে যান টেস্ট ক্যারিয়ারের ২০তম হাফসেঞ্চুরি। ৬৫ বলে মাইলফলকটিতে পৌঁছানোর পর সেঞ্চুরির আশাও জাগিয়েছিলেন। কিন্তু নাঈমের শিকার হয়ে ফিরতে হয়েছে তাকে। ১১১ বলের ইনিংসটি তিনি সাজিয়েছেন ১২ বাউন্ডারিতে।
শুরুটা যেমন প্রত্যাশা ছিল, তার চেয়ে বেশিই পায় বাংলাদেশ! চট্টগ্রাম টেস্টের তৃতীয় দিনের শুরুতেই উইকেট উদযাপনের মুহূর্ত এনে দিলেন তাইজুল ইসলাম। দিনের প্রথম বলে সাফল্য পেয়েছেন বাঁহাতি স্পিনার।
দ্বিতীয় দিনের শেষ বিকেলে ক্রেগ ব্র্যাথওয়েট ও এনক্রুমা বনার প্রতিরোধ গড়েছিলেন। তাই এই জুটি যত দ্রুত ভাঙা যায়, ততই মঙ্গল হতো স্বাগতিকদের জন্য। দিনের শুরুতেই প্রয়োজন ছিল ব্রেক থ্রু। বল হাতে নেওয়া তাইজুল প্রথম বলেই সেটি এনে দিলেন বনারকে ফিরিয়ে।
বাঁহাতি স্পিনারের বাঁক খাওয়া বল বনারের ব্যাটে লেগে জমা পড়ে স্লিপে দাঁড়ানো নাজমুল হোসেন শান্তর হাতে। দুর্দান্ত শুরুতে উইকেট উদযাপনে মাতে বাংলাদেশ। প্যাভিলিয়নে ফেরার আগে বনার ৫৯ বলে ২ বাউন্ডারিতে করেন ১৭ রান।