ঘূর্ণি জাদুতে চেপে ধরেছে বাংলাদেশ

শুরুটাই হলো স্পিন আক্রমণ দিয়ে। সাফল্য আসতেও খুব বেশিক্ষণ অপেক্ষায় থাকতে হলো না। তৃতীয় ওভারের তৃতীয় বলেই বাংলাদেশ পেয়ে গেল প্রথম উইকেট। কয়েক ওভার যেতে আবারও ধরা দিলো সাফল্য। তাতে দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাটিংয়ে নামা ওয়েস্ট ইন্ডিজকে চেপে ধরেছে মেহেদী হাসান মিরাজ-নাঈম হাসানরা।

বাংলাদেশ প্রথম ইনিংসে ২৯৬ রানে অলআউট হয়েছে। ফলে ১১৩ রানে এগিয়ে থেকে দ্বিতীয় ইনিংস শুরু করে ক্যারিবিয়ানরা। যদিও শুরুটা মোটেও ভালো হয়নি সফরকারীদের। ২০ রানে হারিয়েছে ২ উইকেট। ফিরে গেছেন ক্রেগ ব্র্যাথওয়েট ও শেন মোসেলি।

বাংলাদেশের উইকেট উদযাপনের শুরুটা নাঈমকে দিয়ে। প্রথম ইনিংসে উইকেটশূন্য থাকা এই স্পিনার নিজের দ্বিতীয় ওভারেই পেয়েছেন সাফল্য। উইকেটকিপার লিটন দাসের গ্লাভসবন্দী করে ফিরিয়েছেন ব্যাথওয়েটকে। ক্যাবিরিয়ান অধিনায়ক ফেরার আগে করেন ৬ রান।

শুরুর ওই ধাক্কা কাটিয়ে ওঠার আগে আবার উইকেট হারায় সফরকারীরা। এবার বাংলাদেশকে আনন্দর উপলক্ষ এনে দেন মিরাজ। ৭ রান করা মোসেলিকে ফিরিয়ে তিনি নিজেও আনন্দের ভেলায় ভেসে গেছেন। ক্যারিবিয়ান এই ব্যাটসম্যানকে আউট করে পেয়েছেন টেস্ট ক্যারিয়ারের শততম উইকেট। শুধু কী তাই, একটা রেকর্ডও গড়ে ফেলেছেন মিরাজ। বাংলাদেশের দ্রুততম ১০০ উইকেটের মালিক তো এখন তিনিই।

তারপরও ৩০০ হলো না বাংলাদেশের

নানা সময় বাঁক বদল হয়েছে ঢাকা টেস্টে বাংলাদেশের ইনিংস। কখনও মনে হয়েছে ২০০ রানও করতে পারবে না, কখনও আবার ওয়েস্ট ইন্ডিজকে টপকে লিড নেওয়ার স্বপ্নও উঁকি দিয়েছে। বিশেষ করে, লিটন দাস ও মেহেদী হাসান মিরাজের জুটি বড় আশাই জাগিয়েছিল। চাপের মধ্যে তাদের দারুণ দুটি ইনিংসের পরও ৩০০ করতে পারেনি বাংলাদেশ। প্রথম ইনিংসে অলআউট হয়েছে ২৯৬ রানে। তাই ওয়েস্ট ইন্ডিজ ১১৩ রানে এগিয়ে থেকে শুরু করবে দ্বিতীয় ইনিংস।

ঢাকা টেস্টের তৃতীয় দিনের দ্বিতীয় সেশনে উইকেট অক্ষত রেখেছিল বাংলাদেশ। কিন্তু শেষ সেশনের শুরুতেই আবার সব এলোমেলো। লিটনের বিদায়ের পর তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়ে লোয়ার অর্ডার। ১৫ রানে শেষ ৪ উইকেট হারিয়েছে স্বাগতিকরা। প্রথম ইনিংসে বাংলাদেশকে ৩০০’র নিচে অলআউট করতে সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছেন রাকিম কর্নওয়াল। ক্যারিবিয়ান স্পিনার ৭৪ রান দিয়ে পেয়েছেন ৫ উইকেট। ৩ উইকেট নিয়েছেন শ্যানন গ্যাব্রিয়েল। ২টি শিকার আলজারি জোসেফের।

হাফসেঞ্চুরি পেয়েছেন বাংলাদেশের তিন ব্যাটসম্যান- লিটন দাস (৭১), মেহেদী হাসান মিরাজ (৫৭) ও মুশফিকুর রহিম (৫৪)।