ইংলিশ ব্যাটসম্যান বেন ডাকেটকে বোল্ড করে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে উইকেটের খাতা খুলেছিলেন মেহেদী হাসান মিরাজ। এরপর একটু একটি করে পৌঁছে গেলেন শততম উইকেটের মাইলফলকে। আজ (শনিবার) ঢাকা টেস্টের তৃতীয় দিনের শেষ বিকেলে ওয়েস্ট ইন্ডিজের শেন মোসেলিকে ফিরিয়ে তাইজুল ইসলামকে সরিয়ে বাংলাদেশের দ্রুততম ১০০ উইকেট নেওয়ার রেকর্ড গড়েছেন মিরাজ।
এর আগে টেস্টে ন্যূনতম ১০০ উইকেট ছিল বাংলাদেশের তিন বোলারের। মোহাম্মদ রফিক, সাকিব আল হাসান ও তাইজুল ইসলামের পর মাইলফলকে পৌঁছালেও একটা জায়গায় সবাইকে পেছনে ফেলে দিয়েছেন মিরাজ। টেস্টে বাংলাদেশের দ্রুততম ১০০ উইকেট নেওয়ার কীর্তি এখন ডানহাতি এই স্পিনারের। ২৩ ম্যাচে ছুঁয়েছেন এই মাইলফলক।
আরও একটি রেকর্ডে নাম উঠেছে মিরাজের। বাংলাদেশের কনিষ্ঠতম বোলার হিসেবে শততম টেস্ট উইকেট পেয়েছেন তিনি। ২৩ বছর ১০৯ দিনে পেলেন ১০০ উইকেট। ২৫ বছর ২৪২ দিনে সাকিব ও ২৭ বছর ২১০ দিনে এই মাইলফলক ছুঁয়েছিলেন তাইজুল। বিশ্বের চতুর্থ কনিষ্ঠতম বোলার হিসেবে এই রেকর্ডে নাম লিখিয়েছেন মিরাজ। তার চেয়ে কম বয়সে এই কীর্তি গড়েছেন ড্যানিয়েল ভেট্টরি, হরভজন সিং ও সাকলায়েন মুশতাক।
২ উইকেট দূরে থেকে ঢাকা টেস্ট খেলতে নেমেছিলেন মিরাজ। প্রথম ইনিংসে ১ উইকেট নেওয়ার পর দ্বিতীয় ইনিংসের শুরুতেই সাফল্য পান ডানহাতি স্পিনার। মিরাজের ঘূর্ণি বুঝতে না পেরে দ্বিতীয় স্লিপে থাকা মোহাম্মদ মিঠুনের তালুবন্দী হন মোসেলি। আর তাতেই তাইজুলের চেয়ে এক ম্যাচ কম খেলে উইকেটের ‘সেঞ্চুরি’ পূরণ করেন মিরাজ।
১২ বছরের ক্যারিয়ারে ৩৩ টেস্টে ১০০ উইকেট নিয়ে থেমেছিলেন রফিক। টেস্টে দেশের হয়ে প্রথম ১০০ উইকেট শিকারের নজিরও তার। সাকিব এসে দ্বিতীয় ক্রিকেটার হিসেবে দেখা পান শততম উইকেটের। ২৮তম টেস্টে ১০০ উইকেটের দেখা পেয়েছিলেন সাকিব।
এরপর ২০১৯ সালে চট্টগ্রামে আফগানিস্তানের বিপক্ষে সাকিবকে হটিয়ে এই কীর্তির মালিক হন তাইজুল। ২৫ টেস্টে ১০০ উইকেট পেয়েছিলেন তাইজুল। দুই বছরের ব্যবধানে এবার তাইজুলকে সরিয়ে দ্রুততম ১০০ উইকেটের রেকর্ড নিজের করে নিলেন মিরাজ। ২৩ টেস্টে দুইবার ১০ উইকেট আছে এই অফস্পিনারের। ৫ উইকেট সাতবার এবং ৪ উইকেট নিয়েছেন তিনবার।
টেস্টে বাংলাদেশের দ্রুততম ১০০ উইকেট:
মেহেদী হাসান মিরাজ, ২৪ ম্যাচ
তাইজুল ইসলাম, ২৫ ম্যাচ
সাকিব আল হাসান, ২৮ ম্যাচ
মোহাম্মদ রফিক, ৩৩ ম্যাচ