ব্যক্তিগত লক্ষ্য ঠিক করে চাপ বাড়াতে চান না মিরাজ

সবচেয়ে কম বয়সে অনন্য এক অর্জন করেছেন মেহেদী মিরাজ। দ্রুততম সময়ে বাংলাদেশি বোলারদের হয়ে একশো উইকেটের মাইলফলক স্পর্শ করেছেন। ২৫ ম্যাচে একশো উইকেট নিয়ে এতোদিন রেকর্ডের মালিক ছিলেন তাইজুল ইসলাম। এক ম্যাচ কম খেলে শনিবার তাইজুলকে হটিয়ে সেই রেকর্ড নিজের করে নিয়েছেন মিরাজ। অদূর ভবিষ্যতে কোথায় থামবেন এই অলরাউন্ডার? মিরাজ জানালেন, ব্যক্তিগত লক্ষ্য ঠিক করে নিজের চাপ বাড়াতে চান না তিনি।

ম্যাচ শেষের সংবাদ সম্মেলনে নিজের অনুভূতি জানাতে গিয়ে মিরাজ বলেছেন, ‘একশো উইকেট পেয়েছি, খুব ভালো লাগছে। তারা (রফিক, তাইজুল, সাকিব) বাঁহাতি স্পিনার হিসেবে পেয়েছে। আমি ডানহাতি অফস্পিনার হিসেবে দ্রুততম একশো উইকেট পেয়েছি, এটা আমাকে আরও ভালো করতে অনুপ্রেরণা দেবে। আমি চেষ্টা করবো, দেশের হয়ে আরও উইকেট নেওয়ার জন্য। যা আমার ক্যারিয়ারের জন্য অনেক ভালো হবে। ’

দ্রুততম একশো উইকেট শিকারি মিরাজের লক্ষ্য নিশ্চয়ই আরও বড়। তেমনটা হলে ক্যারিয়ার শেষে নামের পাশে কত উইকেট দেখলে তিনি সন্তুষ্ট হবেন? এমন প্রশ্নে মিরাজ জানালেন লক্ষ্য ঠিক করে বাড়তি চাপ নিতে চান না, ‘ভবিষ্যতের কথাতো কেউ বলতে পারে না। তবে আমার স্বপ্ন ক্যারিয়ারটাকে অনেক দূর নিয়ে যাওয়া। কত উইকেটে থামবো, কত রান করবো, এটাতো আগে থেকে বলা সম্ভব নয়। তাছাড়া লক্ষ্য কখনো নির্ধারণ করতে চাই না। এটি করতে গেলে আমার চাপ তৈরি হয়। যতদিন ক্রিকেট খেলবো, ভালো কিছুই হবে।’

মিরাজ বয়সভিত্তিক ক্রিকেটে খেলেছেন ব্যাটিং অলরাউন্ডার হিসেবে। কিন্তু আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে এসে হয়ে যান পুরোদস্তুর বোলার। ধীরে ধীরে ব্যাটিং সত্বাও বেরিয়ে আসছে এই অলরাউন্ডারের। চট্টগ্রাম টেস্টে সেঞ্চুরি করার পর ঢাকা টেস্টের প্রথম ইনিংসেও খেলেছেন গুরুত্বপূর্ণ ৫৭ রানের ইনিংস। তাহলে কী ব্যাটিংটা আবার করতে শিখেছেন মিরাজ? এই অলরাউন্ডার জানালেন, ‘বোলিংয়ের পাশাপাশি ব্যাটিংটা ভালো করতে পারলে এটা দলের জন্য সহায়ক হয়। আমি যখন আন্তর্জাতিক ক্রিকেট শুরু করেছিলাম, তখন বোলার হিসেবেই শুরু করেছিলাম। ব্যাটিংয়ে ভালো কিছু করতে পারিনি। নিজেও বিশ্বাস করি, আমি ভালো ব্যাটিং করতে পারি। দুর্ভাগ্যবশত ভালো করতে পারিনি। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে ব্যাটিংয়ে আমার উন্নতি হয়েছে।’

কীভাবে উন্নতি করলেন সেটিও জানালেন তিনি, ‘আমি কষ্টা করছি। এছাড়া সবাই আমাকে আমার ব্যাটিং স্কিল নিয়ে অনুপ্রেরণা দিয়েছেন। এই টেস্টে সবাই আমাদের পেছন থেকে উৎসাহ দিয়েছে। আমাদের সিনিয়র খেলোয়াড়, আমাদের অধিনায়ক মুমিনুল ভাই আমাকে সমর্থন করেছেন। মুশফিক ভাইও আমাকে অনুশীলনের সময় নানা রকম টিপস দিয়েছিলেন। সবকিছু মিলিয়ে আসলে ভালো ব্যাটিং হচ্ছে।’