‘দুঃসাহসিক’ তাসকিন আর ছুটির আনন্দে হারিয়ে যাওয়া

স্বাভাবিক চলাফেরা ভুলেই গিয়েছিলেন মুশফিক-তামিমরা। তবে নিউজিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চে ১৪ দিনের কোয়ারেন্টিন শেষ করে বাংলাদেশের ক্রিকেটাররা স্বাভাবিক জীবনের স্বাদ নিচ্ছেন। কুইন্সটাউনে দুই দিন অনুশীলন শেষে শনিবার ক্রিকেটারদের ছুটি দিয়েছিল টিম ম্যানেজমেন্ট। সেই ছুটিটা প্রাণভরে উপভোগ করেছেন সবাই। কুইন্সটাউনের স্বগীয় সৌন্দর্যের সুধা পান করার সুযোগটা কেউই হারাতে চাননি।

নিউজিল্যান্ডের সাউথ আইল্যান্ডসের কুইন্সটাউন পরিচিত রোমাঞ্চকর সব খেলার জন্য। বাঞ্জি জাম্পিং, হোয়াইট ওয়াটার রাফটিং, জেট বোট রাইড, হাইকিং, স্কিইং, স্কাই ডাইভিং, হর্স ট্রেকিং, ক্যানিয়ন সুইংগিং ও স্নো বোর্ডিংয়ের জন্য পর্যটকরা এখানে ছুটে যান। শনিবার সেই কুইন্সটাউনে ক্রিকেটাররা উপভোগ করছেন ‘মুক্ত’ জীবনযাপনের আনন্দ। সবচেয়ে বেশি আনন্দ করতে দেখা গেছে তাসকিন আহমেদকে। ছুটির দিনের পুরোটাই নিজের করে নিয়েছেন দ্রুতগতির এই পেসার।

মুক্ত হয় তাসকিন যেন পাখির মতো উড়তে চাইলেন। ‘পাখি’ হওয়ার শখ পূরণ করতেই তাসকিন ঝুঁকলেন বাঞ্জি জাম্পিংয়ের দিকে! অন্য কোনও ক্রিকেটার অবশ্য ভয়ঙ্কর এই জাম্পিংয়ে অংশ নেননি। ১৯৮৬ সালে অকল্যান্ড গ্রীনহাইট ব্রীজ থেকে জাম্প করে বাণিজ্যিকভাবে এই রোমাঞ্চকর খেলার সূচনা করেন নিউজিল্যান্ডের এ. জে. হ্যাকেট।

সেই কুইন্সটাউনেই বাঞ্জি জাম্পিংয়ে অংশ নিলেন তাসিকন। বাঞ্জি জাম্পিং মূলত পায়ে দড়ি বেঁধে উল্টো হয়ে পাহাড় থেকে ঝাঁপিয়ে পড়ার আনন্দ উপভোগ করে রোমাঞ্চকর অনুভূতি নেওয়া।

কুইন্সটাউনের বিভিন্ন জায়গা ঘুরে বেড়ানোর পাশাপাশি জেট বোটিংয়েও অংশ নিয়েছিলেন তাসকিন। তাসকিনের বোটে দুই সতীর্থ মেহেদী হাসান ও নাঈম শেখ ছাড়াও টিম ম্যানেজমেন্টের সদস্যরা ছিলেন। শট ওভার বোটে করে দ্রুতগতিতে দুই পাহাড়ের খাঁজে খাঁজে আঁকাবাঁকা পথে ঘণ্টায় ৮০ কিলোমিটার বেগে চলতে হয়। নদীর দুই পাশে বড় বড় পাথর থাকায় এটি একটি ভয়ঙ্কর গিরিখাতে রূপ নিয়েছে।

ছুটির দিনটিতে দুঃসাহসিক সব অভিযাত্রায় অংশ নিয়ে দারুণ রোমাঞ্চিত তাসকিন। বাংলা ট্রিবিউনকে তিনি বলেছেন, ‘আমার জীবনের দারুণ কিছু সময় আমি কাটালাম। অবিশ্বাস্য অনুভূতি। জেট বোটিংয়ে ভয় না লাগলেও বাঞ্জি জাম্পিংয়ে অনেক ভয় পেয়েছি। তারপরও এটা হচ্ছে লাইফটাইম অর্জন। সত্যি কথা বলতে ছুটির দিনটার পুরোটা সময় প্রাণভরে উপভোগ করেছি।’

জেট বোটিংয়েও অবশ্য টিমের বেশিরভাগই অংশ নিয়েছেন। একটি বোটে নাজমুল, মোস্তাফিজ, আফিফ, রুবেল, সৌম্য, মাহমুদউল্লাহ, মুশফিক ও সাইফউদ্দিনকে দেখা গেছে মিরাজের করা লাইভ ভিডিওতে।

এছাড়া দলের সব ক্রিকেটারই কুইন্সটাউনের প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের কাছে নিজেকে সঁপে দিয়েছেন। লিটন-সৌম্যরা দলীয়ভাবে ঘুরে বেড়িয়েছেন। বেশ কিছু ছবি নিজের ফেসবুকে পোস্ট করে সৌম্য লিখেছেন, ‘সবাই মিলে মজার সময় কাটলো। আমি বলতে চাই, কুইন্সটাউন অনেক সুন্দর একটি জায়গা।’

সৌম্য শট ওভার জেট বোটে না উঠলেও দূর থেকে দুই পাহাড়ের মাঝের ওই গিরিখাতের ছবিটা ঠিকই তুলছেন।

জেট বোটের জেটিকে পেছনে ফেলে মেহেদী হাসান ছবি তুলেছেন মাহমুদউল্লাহ-মুশফিকদের সঙ্গে। নীল রঙের হাফপ্যান্ট, নীল-হলুদ কম্বিনেশনের টি-শার্ট পড়ে কুইন্সটাউন ঘুরে বেড়িয়েছেন লিটন। নিজের দুটি ছবি পোস্ট করে তিনি লিখেছেন, ‘কুইন্সটাউনে সুন্দর একটি দিন।’

ছুটির দিনটি নিজের মতো করে কাটাতে পেরে দারুণ উচ্ছ্বসিত উইকেটকিপার ব্যাটসম্যান মোহাম্মদ মিঠুন। বাংলা ট্রিবিউনকে তিনি বলেছেন, ‘দারুণ সময় কাটালাম। আমি ঘুরে বেড়িয়েছি। তাসকিন সবচেয়ে বেশি সাহস দেখিয়েছে। আজকের ছুটিটা আমাদের মানসিকভাবে অনেক স্বস্তি দেবে।’

তরুণ টপ অর্ডার ব্যাটসম্যান নাঈম শেখ তো মুগ্ধ কুইন্সটাউনের সৌন্দর্যে। মুগ্ধতা নিয়ে নিজের একটি ছবি পোস্ট করে তিনি লিখেছেন, ‘আমার চারপাশের প্রকৃতি দিয়ে পরিবেষ্টিত। এখানে একটি ছবি তোলা থেকে নিজেকে বিরত রাখা বেশ কঠিন।’

নাজমুল হোসেন শান্তও বেশ কিছু গ্রুপ ছবি পোস্ট করে লিখেছেন, ‘এখানে এসে খুশি। নিউজিল্যান্ড হচ্ছে প্রকৃতির সৌন্দর্য।’

গত ১৪ দিনের ধকল কাটিয়ে উঠতে এমন একটি দিন কার্যকরী ভূমিকা পালন করবে বলে জানালেন নিউজিল্যান্ড সফরের দলনেতা জালাল ইউনুস। বাংলা ট্রিবিউনকে তিনি বলেছেন, ‘ছেলেরা সবাই আজকে নিজের মতো করে সময় কাটিয়েছে। ওরা দারুণ খুশি। আজকের দিনটির ইতিবাচক প্রভাব সামনে পড়বে। এখানে প্রকৃতি এতটা সুন্দর, সব কিছুই ভালো লাগে।’