এমনিতেই কঠিন টার্গেট, এর ওপর আবার নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে এত রান করার ইতিহাস নেই বাংলাদেশের। সব মিলিয়ে হোয়াইটওয়াশ এড়ানোর চ্যালেঞ্জটা কষ্টসাধ্য। কঠিন সেই চ্যালেঞ্জে খেলতে নেমে ম্যাট হেনরির তোপে দিশেহারা বাংলাদেশ। খোঁচা মেরে তামিম ইকবাল প্যাভিলিয়নে ফেরার পর এই পেসার একে একে তুলে নিয়েছেন সৌম্য সরকার ও লিটন দাসের উইকেটও।
ওয়েলিংটনের ওয়ানডে জিততে বাংলাদেশকে করতে হবে ৩১৯ রান। শুরুটা অবশ্যই ভালো হওয়া প্রয়োজন ছিল। কিন্তু অধিনায়ক তামিম দায়িত্বের ভার বইতে পারলেন না। ৯ বলে মাত্র ১ রান করে সাজঘরে ফেরেন হেনরির প্রথম শিকার হয়ে। বাড়তি বাউন্স পাওয়া বলে খোঁচা মেরে আউট হয়েছেন এই ওপেনার। ব্যাট বাইরে নিয়ে যতক্ষণে বুঝেছেন বল ছেড়ে দেবেন, ততক্ষণে ব্যাট ছুঁয়ে গেছে বল। আর সেটি গ্লাভাসবন্দি করতে মোটেও ভুল হয়নি টম ল্যাথামের।
তামিমের বিদায়ের পর আরেকবার ব্যর্থ সৌম্য। দ্রুত রান তোলার মানসিকতা নিয়ে নামা বাঁহাতি ব্যাটসম্যান উড়িয়ে মারতে গিয়ে ফাইন লেগে ধরা পড়েন ট্রেন্ট বোল্টের হাতে। হেনরির দ্বিতীয় শিকারে পরিণত হওয়ার আগে ৬ বলে করতে পারেন মোটে ১ রান।
বাংলাদেশের দুর্দশা এখানেই থামেনি। দারুণ খেলতে থাকা লিটন বোল্টের দুর্দান্ত এক ক্যাচে প্যাভিলিয়নে ফিরলে সফরকারীরা ২৬ রান তুলতে হারায় ৩ উইকেট। এবারও বোলার সেই হেনরি। কিউই পেসারের লেন্থ বলে থার্ডম্যানে ঝাঁপিয়ে পড়ে একহাতে দেখার মতো এক ক্যাচ নিয়েছেন বোল্ট। তাতে ২১ রানে শেষ হয় লিটনের ইনিংস। ২১ বলের ইনিংসটি সাজান ৩ বাউন্ডারিতে।
টপ অর্ডারের তিন ব্যাটসম্যানকে হারানো বাংলাদেশের স্কোর ১৪ ওভারে ৩ উইকেটে ৪০ রান।
হোয়াইটওয়াশ এড়াতে রেকর্ড গড়তে হবে বাংলাদেশকে
শুরুর পূর্বাভাস ছিল অন্যরকম। মনে হয়েছিল, নিউজিল্যান্ডকে হয়তো অল্পকে বেঁধে রাখতে পারবে বাংলাদেশ। কিন্তু শেষের দৃশ্যপটে লেখা ছিল অন্যকিছু। তাই ডেভন কনওয়ে ও ড্যারিল মিচেলের অভিষেক সেঞ্চুরিতে রান পাহাড়ে চাপা পড়লো তামিম ইকবালরা। আগেই সিরিজ হারানো বাংলাদেশকে হোয়াইটওয়াশ এড়াতে গড়তে হবে নতুন রেকর্ড।
কনওয়ে খেলেছেন ১২৬ রানের অসাধারণ ইনিংস। আর ইনিংসের শেষ বলে সেঞ্চুরি পাওয়া মিচেল অপরাজিত ছিলেন ১০০ রানে। এই দুই ব্যাটসম্যানের বীরত্বে ওয়েলিংটনের তৃতীয় ওয়ানডেতে নির্ধারিত ৫০ ওভারে ৬ উইকেটে ৩১৮ রান করেছে নিউজিল্যান্ড। জিততে হলে তাই রেকর্ড গড়তে হবে বাংলাদেশকে। ওয়ানডেতে কিউইদের বিপক্ষে এত বড় স্কোর নেই সফরকারীদের।
নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ স্কোর ৩০৯ রানের। ২০১৩ সালে ফতুল্লায় কিউইদের দেওয়া ৩০৭ রানের জবাবে এই স্কোর করেছিল তারা। আর যদি নিউজিল্যান্ডের মাটিতে খেলা ওয়ানডে হিসাব করা হয় তাহলে স্কোরটা আরও কম। নিউজিল্যান্ডে ৫০ ওভারের ক্রিকেটে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ সংগ্রহ ২৮৮। ২০১৫ সালের বিশ্বকাপে হ্যামিল্টনে করেছিল তামিমরা।