ওয়ানডে সিরিজে বাংলাদেশকে হোয়াইটওয়াশের পর টি-টোয়েন্টিতেও আধিপত্য ধরে রেখেছে নিউজিল্যান্ড। সিরিজের প্রথম ম্যাচে ২১১ রানের বিশাল লক্ষ্য ছুঁড়ে দিয়েছে কিউইরা। টস জিতে ব্যাট করে তারা ৩ উইকেট হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ২১০ রান!
হ্যামিল্টনে খেলতে নেমে শুরুটা ভালোই ছিল অভিষিক্ত স্পিনার নাসুমের। তার ঘূর্ণি বল বুঝতেই পারেননি অভিষেক হওয়া কিউই ব্যাটসম্যান ফিন। ব্যাট-প্যাড গলে নাসুমের বল আঘাত হানে স্টাম্পে। গোল্ডেন ডাকে ফেরেন ফিন।
এর পর অবশ্য পাওয়ার প্লের পুরো ফায়দা নিয়েছে নিউজিল্যান্ড। বিশেষ করে ওপেনার মার্টিন গাপটিলের ঝড়ো শুরুতে ৬ ওভারে আসে ৪৮ রান। তবে সপ্তম ওভারে বিপজ্জনক গাপটিলকে ফিরিয়ে আবারও কিউইদের রাশ টেনে ধরার চেষ্টা করেছিলেন নাসুম। তার বল বাইরে এসে মারতে গিয়েছিলেন গাপটিল। ফলাফল লং অফে সৌম্য সরকারের হাতে তালুবন্দি হন ২৭ বলে ৩৫ রান করা এই ব্যাটসম্যান। আর তাতে ভাঙে গাপটিল-কনওয়ের ৫২ রানের জুটি।
তাতেও কিউইদের রান আটকানো যায়নি। কারণ স্বাগতিকদের দলে ছিলেন ডেভন কনওয়ের মতো বিধ্বংসী এক ব্যাটসম্যান। টি-টোয়েন্টিতে তার সাম্প্রতিক ফর্মই বলে দেয় সব কথা। ওয়ানডে সিরিজে যার প্রমাণও রেখেছেন। সিরিজ শুরুর আগেই বলা হচ্ছিল চোটে পড়ে বাইরে থাকা ‘কেন উইলিয়ামসনের’ আরেক প্রতিমূর্তি হবেন কনওয়ে। বাংলাদেশের ওপর ঝড় বইয়ে তার প্রমাণ দিয়েছেন অবশ্য। ৩৮ বলে পূরণ করেন হাফসেঞ্চুরি। অবশ্য যে বলটিতে ছয় মেরে হাফসেঞ্চুরি করেছেন। সেই বলে বাউন্ডারি লাইনে ক্যাচও নিয়েছিলেন শরিফুল। কিন্তু পরে রিপ্লেতে দেখা যায় তার পা বাউন্ডারি লাইন স্পর্শ করেছিল। আর সেই কনওয়ে ঝড়েই বিশাল সংগ্রহ পায় নিউজিল্যান্ড। ৫২ বলে ৯২ রানে অপরাজিত থাকেন তিনি। ইনিংসে ছিল ১১টি চার ও ৩ ছয়।
ঝড় তোলা কনওয়েকে সঙ্গ দেন অভিষেক হওয়া আরেক ব্যাটসম্যান ইউল ইয়ং। ওয়ানডেতে অভিষেক হলেও এই ফরম্যাটে প্রথম ম্যাচ খেলতে নেমেছিলেন। কনওয়ের সঙ্গে গড়েছেন ৬০ বলে ১০৫ রানের জুটি! হুমকি হয়ে দাঁড়ানো এই জুটি ভাঙেন মেহেদী। মেরে খেলতে গিয়ে আফিফের হাতে ক্যাচ দেন ইয়ং। ততক্ষণে অবশ্য ৩০ বলে ৫৩ রান তুলে ফেলেছিলেন তিনি। তাতে ছিল ৪টি ছয় ও ২টি চার। পরে বড় স্কোর গড়তে কনওয়েকে সঙ্গ দিয়েছেন গ্লেন ফিলিপস। ১০ বলে ২৪ রানে অপরাজিত থাকেন তিনি।
এই সিরিজে প্রত্যাশিতভাবে তামিম ইকবাল নেই। কিন্তু ম্যাচের আগে বড় ধাক্কা হয়ে আসে মুশফিকুর রহিমের চোটের খবর। ফলে আজকের ম্যাচে নেই অভিজ্ঞ এই উইকেটকিপার ব্যাটসম্যান। এই অবস্থাতেই অভিষেক হয়েছে দুজনের- নাসুম আহমেদ ও অনূর্ধ্ব-১৯ দলের পেসার শরিফুল ইসলাম।
বাংলাদেশের হয়ে ৩০ রানে দুটি উইকেট নিয়েছেন নাসুম। একটি মেহেদী হাসান। অভিষেক হওয়া শরিফুল ৪ ওভারে ৫০ রান দিলেও উইকেট পাননি কোনও। ৪৮ রান দিয়েছেন মোস্তাফিজ, উইকেট শূন্য ছিলেন তিনিও।