খুব বেশি দিন হয়নি। সপ্তাহ তিনেক আগেই ৬ বলে ৬ ছক্কা হাঁকিয়েছিলেন কিয়েরন পোলার্ড। যাদের বিপক্ষে এই তাণ্ডব চালিয়েছিলেন ক্যারিবিয়ান ব্যাটসম্যান, সেই শ্রীলঙ্কাই এবার ছক্কার রেকর্ডের শিরোনামে। দ্বীপ দেশটির ঘরোয়া ক্রিকেটে এক ওভারে ৬ ছক্কার দেখা মিলেছে। শ্রীলঙ্কার ক্রিকেট ইতিহাসে প্রথম ব্যাটসম্যান হিসেবে যে কীর্তিটি গড়েছেন অলরাউন্ডার থিসারা পেরেরা।
শ্রীলঙ্কার লিস্ট ‘এ’ ক্রিকেটে ৬ বলে ৬ ছক্কা হাঁকিয়েছেন থিসারা। ব্লুমফিল্ড ক্রিকেট অ্যান্ড অ্যাথলেটিক ক্লাবের বিপক্ষে ১৩ বলে হার না মানা ৫২ রানের ইনিংস খেলার পথে এক ওভারে ৬ ছক্কা মেরেছেন তিনি আর্মি স্পোর্টস ক্রিকেট ক্লাবের হয়ে।
ছক্কার রেকর্ড তো বটেই, শ্রীলঙ্কার ক্রিকেট ইতিহাসের দ্বিতীয় দ্রুততম হাফসেঞ্চুরির কীর্তিও গড়েছেন থিসারা। দ্রুততম হাফসেঞ্চুরির রেকর্ডটা ধরে রেখেছেন দেশটির আরেক অলরাউন্ডার কৌশলিয়া ভিরারত্নে। ২০০৫ সালের নভেম্বরে ১৮ বলে ৬৬ রান খেলার পথে হাফসেঞ্চুরির রেকর্ডটা গড়েছিলেন তিনি।
৫০ ওভারের ম্যাচ হলেও ব্লুমফিল্ডের বিপক্ষে আর্মি স্পোর্টসের ম্যাচটি নেমে এসেছিল ৪১ ওভরে। লঙ্কান ঘরোয়া ক্রিকেটের ম্যাচটিতে যখন পাঁচ নম্বরে ব্যাটিংয়ে নামেন থিসারা, তখন বাকি ছিল মাত্র ২০ বল। তাণ্ডব তোলার জন্য ওটুকুই ছিল যথেষ্ট। বল কম থাকায় শুরু থেকেই ঝড় তোলেন ব্যাটে। তবে সবচেয়ে বেশি আক্রমণাত্মক ছিলেন শেষ ওভারে। পার্ট-টাইম বোলার ও প্রথম শ্রেণির অভিজ্ঞ ক্রিকেটার দিলহান কুরি আসেন বোলিংয়ে। তখনও জানা ছিল না তার করা প্রত্যেকটা বল উড়ে পড়বে বাউন্ডারির ওপারে। কুরির ওপর দিয়ে টর্নেডো বইয়ে দিয়ে থিসারা ৬ বলের প্রত্যেকটি রূপ দেন ছক্কায়।
থিসারার তাণ্ডবে আর্মি স্পোর্টস ৪১ ওভারে ৩ উইকেট হারিয়ে ৩১৮ রান করলেও দুর্ভাগ্য, ম্যাচটি পরিত্যক্ত হয়ে যায়। তার আগে ব্যাটিং বিপর্যয়ে পড়ে ব্লুমফিল্ড ১৭ ওভারে ৬ উইকেটে হারিয়ে করেছিল ৭৩ রান।
২০২১ সালের তিন মাসের মধ্যে ক্রিকেট বিশ্ব দুইবার দেখলো ৬ বলে ৬ ছক্কার দৃশ্য। কয়েক সপ্তাহ আগে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে টি-টোয়েন্টিতে আকিলা ধনাঞ্জয়ার এক ওভারে ৬ ছক্কা হাঁকিয়েছিলেন পোলার্ড। সব মিলিয়ে ক্রিকেট ইতিহাসের মাত্র নবম ব্যাটসম্যান হিসেবে প্রতিযোগিতামূলক ক্রিকেটে এই কীর্তি গড়েছেন থিসারা। তার আগে এই অর্জনের তালিকায় যোগ হয়েছেন গ্যারফিল্ড সোবার্স, রবি শাস্ত্রী, হার্শেল গিবস, যুবরাজ সিং, রস হোয়াইটলি, হযরতউল্লাহ জাজাই, লিও কার্টার ও পোলার্ড।