কথা রাখছেন নাসির

মাঠের বাইরে যাই ঘটুক, তাতে থোরাই কেয়ার নাসির হোসেনের! জাতীয় লিগ শুরুর আগে বলেছিলেন, ৬ ম্যাচে অন্তত ৮০০ কিংবা হাজারের বেশি রান করতে চান তিনি। প্রথম রাউন্ডে সেঞ্চুরি করে সেই কথার যৌক্তিকতা ফুটিয়ে তুলেছিলেন, আর দ্বিতীয় ম্যাচের প্রথম ইনিংসে হাফসেঞ্চুরি করে জানিয়ে রাখলেন, তিনি ভুল কোনও কথা দেননি।

প্রথম রাউন্ডের পর খুলনার বিপক্ষে দ্বিতীয় রাউন্ডেও রংপুরের হয়ে হেসেছে নাসিরের ব্যাট। আজ (মঙ্গলবার) দ্বিতীয় দিনে নাসির খেলেছেন ৬৬ রানের ইনিংস। প্রথম স্তরের অন্য ম্যাচে সিলেটের ৩৭০ রানের জবাবে শুভাগত হোমের অলরাউন্ডস পারফরম্যান্সে ভালো অবস্থানে ঢাকা।

রাজশাহীর শহীদ কামরুজ্জামান স্টেডিয়ামে ৩ উইকেটে ১০৩ রান নিয়ে দ্বিতীয় দিন শুরু করে রংপুর। নাসির ও আরিফুল হকের জোড়া হাফসেঞ্চুরিতে ৩৬৪ রান সংগ্রহ করে তারা। নাসির খেলেছেন ৬৬ রানের ইনিংস। প্রথম রাউন্ডে সেঞ্চুরি পাওয়া এই ব্যাটসম্যান ১১৬ বলের ইনিংসটি সাজান ৯ রাউন্ডারিতে। আরিফুল অবশ্য সেঞ্চুরির কাছেই চলে গিয়েছিলেন। কিন্তু দুর্ভাগ্য, ৯৭ রানে আউট হয়ে গেছেন এই ব্যাটসম্যান। মাসুম খানের বলে এলবিডব্লিউর শিকার হন তিনি। ১৬৪ বলের ইনিংসটি আরিফুল সাজান ১১ চারে। এছাড়া ধীমান ঘোষ ৪৩, জাহিদ জাবেদ ৩২ ও তানভীর হায়দার ৩১ রান করেছেন।

খুলনার বোলারদের মধ্যে ৭৮ রানে ৪ উইকেট নিয়েছেন মাসুম খান। এছাড়া আব্দুল হালিম ও রবিউল ইসলাম ২টি করে উইকেট নিয়েছেন।

এর আগে খুলনা তাদের প্রথম ইনিংসে করেছিল ২২১ রান। ফলে ১৪৩ রানে পিছিয়ে থেকে দ্বিতীয় ইনিংস শুরু করতে হয় খুলনাকে। দিনশেষে ১ উইকেট হারিয়ে তাদের সংগ্রহ ৪ রান। রবিউল ইসলাম রানের খাতা খোলার আগেই আউট হয়েছেন। আগের ম্যাচে ক্যারিয়ারসেরা বোলিং করা রংপুরের মুকিদুল একমাত্র উইকেটটি নিয়েছে।

প্রথম স্তরের অন্য ম্যাচটি হচ্ছে কক্সবাজারের শেখ কামাল আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে। সেখানে জাকির হাসানের সেঞ্চুরি (১৫৯) এবং জাকির আলী (৬৭) ও আসাদুল্লাহ গালিবের (৬৭) হাফসেঞ্চুরিতে ৩৭০ রান করেছে সিলেট।

ঢাকার শুভাগত হোম ৮৬ রানে ৪ উইকেট নিয়েছেন। এছাড়া সুমন খান ও তাইবুর পারভেজ নিয়েছেন ২টি করে উইকেট।

বোলিংয়ে দূর্দান্ত করা শুভাগত ব্যাটিংয়েও আলো ছড়িয়েছেন। দিনশেষে ৮৯ রানে অপরাজিত তিনি। তার এই ইনিংসের ওপর ভর করে ঢাকা ৬ উইকেট হারিয়ে ২৩৯ রান সংগ্রহ করেছে। ৯৫ বলে ১১ চার ও ১ ছক্কায় শুভাগত নিজের ইনিংসটি সাজিয়েছেন। এছাড়া সাইফ হাসান ৪২ ও জয়রাজ শেখ ৪১ রানের ইনিংস খেলেছেন। বুধবার শুভাগত (৮৯) ও আরাফাত জুনিয়র (৩৯) রান নিয়ে তৃতীয় দিন শুরু করবেন।

সিলেটের রাহাতুল ফেরদৌস ৬৫ রানে ৩ উইকেট নিয়েছেন। এছাড়া প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে অভিষিক্ত বিশ্বকাপজয়ী দলের পেসার তানজিম হাসান সাকিব পেয়েছেন ২ উইকেট। অন্য উইকেটটি নিয়েছেন রুয়েল মিয়া।