বৃষ্টিতে ফিল্ডিংয়ের পর হিসাবের গোলমাল, মানতে পারছেন না ডোমিঙ্গো

নেপিয়ারের জয়-পরাজয় ছাপিয়ে ক্রিকেট বিশ্বে আলোচনায় বাংলাদেশের টার্গেট নিয়ে ম্যাচ সংশ্লিষ্টদের হিসাবের গোলমাল পাকিয়ে ফেলার বিষয়টি। লিটন দাস ও নাঈম শেখ যখন মাঠে নামলেন তখনও নির্দিষ্ট করে জানতেন না আসলে লক্ষ্য কত। ১.৩ ওভার যাওয়ার পর জানা যায় জিততে ১৬ ওভারে বাংলাদেশকে করতে হবে ১৭০।

হিসাবে তালগোল পাকিয়ে ফেলায় ভীষণ বিরক্ত ও ক্ষুব্ধ বাংলাদেশ দল। মাহমুদউল্লাহ ম্যাচ পরবর্তী পুরস্কার বিতরণী মঞ্চে ‘এ রকম হতেই পারে’ বলে বিতর্ক চাপিয়ে রাখার সঙ্গে পরিস্থিতি মেনে নেওয়ার চেষ্টা করলেও বাংলাদেশ কোচ রাসেল ডোমিঙ্গো কিন্তু ঠিকই ক্ষোভ ঝেরেছেন। সংবাদ সম্মেলনে তিনি স্পষ্টই বলেছেন, কোনও দল মাঠে নামার পর জয়ের টার্গেট জানবে, এমনটা মোটেও হতে পারে।

বাংলাদেশ কোচ প্রথমে আঙুল তুলেছেন বৃষ্টির মধ্যেও আম্পায়ারদের খেলা চালিয়ে যাওয়ার দিকে। ডোমিঙ্গোর বক্তব্য, ‘আমি আমার জীবনে কোনও দলকে বৃষ্টি মাথায় নিয়ে এতক্ষণ ফিল্ডিং করতে দেখিনি। বৃষ্টি হচ্ছিল, বল ভেজা এবং পিচ্ছিল ছিল। কোনও অজুহাত দিচ্ছি না, কিন্তু মনে হচ্ছিল কন্ডিশনের বিচারে কিছুই আমাদের পক্ষে ছিল না। খুবই হতাশাজনক একটি রাত।’

তারপর তিনি এসেছেন ডাকওয়ার্থ-লুইসে লক্ষ্য নির্ধারণে তালগোল পাকিয়ে ফেলার দিকে। প্রতি ওভার শেষে ডিএলএস অনুযায়ী লক্ষ্য কত, সেটির কোনও তালিকাও দেওয়া হয়নি বাংলাদেশকে। বরং ডোমিঙ্গো যে বর্ণনা দিয়েছেন, তাতে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট ম্যাচে এমন অবস্থা মোটেও কাম্য নয়।

বাংলাদেশ কোচ বললেন, ‘দেখুন আমি আগে কখনও এমন ম্যাচ দেখিনি, যেখানে ম্যাচ শুরু হয়ে গিয়েছে, কিন্তু আমরা আমাদের ডিএলএস (ডাকওয়ার্থ-লুইস) লক্ষ্য জানতাম না। কেউ জানতো না ৫ ওভার পর আমাদের কত করতে হবে। চূড়ান্ত লক্ষ্য পাওয়ার আগে কখনোই খেলা শুরু করা উচিত হয়নি। তাদের তরফ থেকে ব্যাখ্যা দেওয়া হয়েছে, তারা প্রিন্ট আউট পেতে অপেক্ষা করছিল এবং একই সঙ্গে হিসাব কষতেও। তাদের নাকি দেরি হয়ে গেছে। এটা কোনও কথাই হতে পারে না, আজকের বিষয়টি খুবই হতাশাজনক।’

নেপিয়ারে টস হেরে ব্যাটিংয়ে নেমে দুই দফা বৃষ্টি বাগড়ায় ১৭.৫ ওভারে ৫ উইকেটে ১৭৩ রান সংগ্রহ করে নিউজিল্যান্ড। পরে ১৬ ওভারে ১৭০ রানের লক্ষ্যে ১৪২ রান করে বাংলাদেশ হেরেছে ২৮ রানে।