শান্তর সেঞ্চুরির পথ তৈরি হয়েছে যেভাবে

শুরুতেই উইকেট হারালো বাংলাদেশ। আরেকবার টপ অর্ডারের ব্যর্থতার গল্প লেখার ইঙ্গিতই যেন মিলছিল। কিন্তু দুর্দান্ত ব্যাটিংয়ে বাংলাদেশকে পথে ফেরান তামিম ইকবাল। নিজে সেঞ্চুরি পাননি এই ওপেনার, তবে ব্যাটিংয়ের ছন্দ ধরিয়ে দিয়ে গিয়েছিলেন নাজমুল হোসেন শান্তকে। যে পথ ধরে এগিয়ে টেস্ট ক্যারিয়ারের প্রথম শতক পেয়েছেন এই ব্যাটসম্যান।

শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে টস জিতে ব্যাটিং নেওয়ার সিদ্ধান্ত বেশ কঠিন ছিল বাংলাদেশ অধিনায়ক মুমিনুল হকের জন্য। কেননা বাংলাদেশের টপ অর্ডার ব্যাটসম্যানদের সময়টা মোটেও ভালো যাচ্ছে না, অন্যদিকে শ্রীলঙ্কার পেসাররা সাম্প্রতিক সময়ে আছেন দুর্দান্ত ফর্মে। তারপরও ঝুঁকিটা নিয়েছেন মুমিনুল। তবে তার ঝুঁকিটা বাজে কিছুর ইঙ্গিত দেয় দিনের শুরুতে সাইফ হাসানের বিদায়ে। তবে ওই জায়গা থেকে দলকে টেনে তোলেন তামিম।

বাঁহাতি ওপেনার তিন নম্বরে নামা শান্তকে সঙ্গে নিয়ে ২২৫ বলে ১৪৪ রানের জুটি গড়েন। এই জুটিতে বড় সংগ্রহের ভিতটা পায় সফরকারীরা। ৯০ রানে তামিম আউট হলেও সিনিয়রের দেখানো পথে হেঁটে সেঞ্চুরি পেয়েছেন শান্ত। প্রথম দিন শেষে তিনি অপরাজিত ১২৬ রানে।

ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনে ২২ বছর বয়সী ব্যাটসম্যান তার সেঞ্চুরির পেছনে তামিমের বড় ভূমিকার কথা জানালেন, ‘তামিম ভাই খুব ভালো ব্যাট করেছেন। তার ব্যাটিং দেখেই আমি ধারণা পেয়েছি। ওটাই আমার ব্যাটিংয়ে সাহায্য করেছে। আমি সময় নিতে পেরেছি। বলের মেধা অনুযায়ী খেলার চেষ্টা করেছি। আমার মনে হয়, ইনিংসটা খুব গোছানো ছিল। খুব বেশি তাড়াহুড়ো করিনি।’

মাঠে নামার পরই তামিম এগিয়ে এসে শান্তর সঙ্গে কথা বলেন। কী টোটকা পেয়েছিলেন, শান্ত জানালেন দিনশেষে, “উইকেটে যাওয়ার পর তামিম ভাই বলেছিলেন, ‘উইকেট ভালো, তুমি ওই অনুযায়ী ব্যাট করো।’ ওইটাই মাথায় ছিল। আমি বল দেখেছি, খেলেছি। উইকেট নিয়ে খুব বেশি চিন্তা করিনি। যদিও নতুন বলে একটু সুইং করছিল। কিন্তু ইতিবাচক ছিলাম, এটাই আসলে কাজে দিয়েছে।”

তামিমের সঙ্গে ১৪৪ রানের জুটির পর মুমিনুলের সঙ্গে অবিচ্ছিন্ন ১৫০ রানে জুটি গড়েছেন শান্ত। বৃহস্পতিবার দিনের দ্বিতীয় দিনেও মনোসংযোগ ধরে রেখে খেলতে মুখিয়ে শান্ত, ‘কালকে (বৃহস্পতিবার) প্রথম সেশনে ব্যাটিং খুব গুরুত্বপূর্ণ। চেষ্টা করবো প্রথম সেশনে কীভাবে ভালো ব্যাট করা যায়। বল দেখবো, খেলবো, যত লম্বা করা যায় (ইনিংস)।’