ওভারের পর ওভার পার হলো, কিন্তু এলো না কোনও সাফল্য। ক্যান্ডি টেস্টের চতুর্থ দিনের প্রথম সেশনের পুরোটাই শ্রীলঙ্কার। লাঞ্চের আগে উইকেটশূন্য বাংলাদেশ। তাইজুল ইসলাম-মেহেদী হাসান মিরাজদের ওপর ছড়ি ঘুরিয়ে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে স্বাগতিকরা।
চতুর্থ দিনের প্রথম সেশনে হয়েছে ৩১ ওভার। আধিপত্য বিস্তার করে লঙ্কানরা উইকেট অক্ষত রেখে তুলেছে ১০২ রান। স্বভাবতই চরম হতাশায় কেটেছে বাংলাদেশের সময়। পাল্লেকেলে স্টেডিয়ামের উইকেট ব্যাটিং স্বর্গ হওয়ার পরও তৃতীয় দিনের শেষ বিকেলে আশা জাগিয়েছিল মুমিনুল হকরা। কিন্তু চতুর্থ দিনের প্রথম সেশনে উল্টো ছবি।
দিমুথ করুণারত্নের সেঞ্চুরি ও ধনাঞ্জয়া ডি সিলভার শতকের দিকে এগিয়ে যাওয়া ইনিংসে ভর করে লঙ্কানরা লাঞ্চ বিরতিতে যায় ১০৪ ওভারে ৩ উইকেটে ৩৩১ রানে। তখনও বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে স্বাগতিকরা পিছিয়ে ছিল ২১০ রানে। আর ফলোঅন থেকে ছিল ১১ রান দূরে। টেস্ট ক্যারিয়ারের ১১তম সেঞ্চুরি পূরণ করে করুণারত্নে অপরাজিত ১৩৯ রানে, আর ধনাঞ্জয়া অপরাজিত ছিলেন ৭৪ রানে। দুর্দান্ত ব্যাটিংয়ে চতুর্থ উইকেটে তারা গড়েছেন ১৪১ রানের অবিচ্ছিন্ন জুটি।
ঘরের মাঠের সুবিধা সব দলই পেতে চায়। বাংলাদেশের বিপক্ষে ক্যান্ডি টেস্টেও শ্রীলঙ্কা অধিনায়ক দিমুথ করুণারত্নের প্রত্যাশা ছিল তেমনটাই। কিন্তু উইকেটে বোলারদের জন্য কিছুই পাননি তিনি। তাই রানের পাহাড় গড়েছে বাংলাদেশ। তার জবাবটা করুণারত্নে নিজেই দিচ্ছেন ব্যাট হাতে। তৃতীয় দিনে জাগিয়ে রেখেছিলেন সেঞ্চুরির সম্ভাবনা, আর চতুর্থ দিনের সকালেই পেয়ে গেছেন তিন অঙ্কের ম্যাজিক ফিগার।
করুণারত্নের সেঞ্চুরিতে জবাবটা ভালোই দিচ্ছে শ্রীলঙ্কা। বাংলাদেশের ৭ উইকেটে ৫৪১ রানে প্রথম ইনিংস ঘোষণার পর ৩০০ ছাড়িয়েছে স্বাগতিকদের স্কোর। রান বাড়িয়ে নেওয়ার পথে নেতৃত্ব দিচ্ছেন অধিনায়ক করুণারত্নেই। বাঁহাতি এই ওপেনার পেয়েছেন টেস্ট ক্যারিয়ারের ১১তম সেঞ্চুরি। তাসকিন আহমেদের বলে ২ রান নিয়ে পৌঁছে যান তিন অঙ্কের ঘরে। গত জানুয়ারিতে দক্ষিণ আফ্রিকা সফরের পর প্রথমবার শতক পূরণ করলেন লঙ্কান অধিনায়ক।
তৃতীয় দিনের ৩ উইকেটে ২২৯ রান দিয়ে চতুর্থ দিন শুরু করেন করুণারত্নে ও ধনাঞ্জয়া ডি সিলভা। উইকেট অক্ষত রেখে তারা স্কোর বাড়িয়ে নিচ্ছেন।
মুগ্ধ করেছেন বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানরা। দুটি সেঞ্চুরি, একটি সেঞ্চুরি ছুঁই ছুঁই ইনিংস এবং দুটি হাফসেঞ্চুরি। এককথায় পরিপূর্ণ ব্যাটিং। নাজমুল হোসেন শান্ত-মুমিনুল হকদের পারফরম্যান্সের পর দেখার অপেক্ষা ছিল বোলাররা কী করেন? শুরুতে হতাশ করলেও তৃতীয় দিনের শেষ বিকেলে ঘুরে দাঁড়িয়েছিলেন মেহেদী হাসান মিরাজ-তাসকিন আহমেদরা। ব্যাটিং-স্বর্গে শ্রীলঙ্কার ৩ উইকেট তুলে নেওয়া কম প্রাপ্তি নয়। কিন্তু চতুর্থ দিনের প্রথম সেশনে মোটেও সুবিধা করতে পারেননি তারা।