ক্যান্ডি টেস্টের দ্বিতীয় দিনের অবস্থা ছিল এরকম। মেঘে ঢাকা পড়েছিল আকাশ, তাই আলোর কমতি দেখা দিয়েছিল। প্রায় একঘণ্টা আগে মাঠ থেকে উঠে গিয়েছিলেন খেলোয়াড়রা, এরপর আর ফেরা হয়নি। আজ (শনিবার) চতুর্থ দিনেও আকাশের অবস্থা একই। আলোর স্বল্পতায় বন্ধ রয়েছে খেলা।
তৃতীয় দিনে বাংলাদেশ-শ্রীলঙ্কার খেলা চলেছিল স্থানীয় সময় বিকেল ৫-৪৫ মিনিট পর্যন্ত। আর আজ সাড়ে ৩টার পরই দেখা দিয়েছে আলোর স্বল্পতা। মেঘ কেটে গিয়ে পরিপূর্ণ আলোর দেখা মিলবে কিনা, সেটা সময়ই বলে দেবে। যদি দ্বিতীয় দিনের মতো আর মাঠে না ফিরতে পারেন খেলোয়াড়রা, তাহলে ম্যাড়ম্যাড়ে টেস্ট যে নিশ্চিত ড্র হবে, তা নিয়ে আর সন্দেহ থাকবে না।
বর্তমান অবস্থায় ড্রয়ের পথেই বাংলাদেশ-শ্রীলঙ্কার প্রথম টেস্ট। চতুর্থ দিনের দুই সেশনে শ্রীলঙ্কা কোনও উইকেটই হারায়নি। আলোর স্বল্পতায় খেলা বন্ধ হওয়ার সময় স্বাগতিকদের স্কোর ছিল ১৩৯ ওভারে ৩ উইকেটে ৪৫৭ রান। ৭ উইকেটে ৫৪১ রানে ঘোষণা করা বাংলাদেশের প্রথম ইনিংসের চেয়ে পিছিয়ে ৮৪ রানে। দিমুথ করুণারত্নে ১৯২ রানে ও ধনাঞ্জয়া ডি সিলভা অপরাজিত ছিলেন ১৪১ রানে।
দুই সেশন পেরিয়ে গেলো, তবু এলো না উইকেট
যে শট যেভাবে খেলতে চাইছেন, ব্যাট ঠিক তাই শুনছে। ড্রাইভ, কাট, ডাউন দ্য উইকেট, পুল, সুইপ- লাগছে মাঝ ব্যাটে। যদিওবা কখনও মিস হচ্ছে, তাতেও কোনও বিপদ ঘটছে না। সত্যিকার অর্থে পাল্লেকেলে স্টেডিয়ামের উইকেটে বোলারদের জন্য কিছুই নেই। শুধু ওভারের পর ওভার করে যাচ্ছেন মেহেদী হাসান মিরাজ-তাইজুল ইসলামরা। বিপরীতে ব্যাটিং স্বর্গে সাবলীল দিমুথ করুণারত্নে ও ধনাঞ্জয়া ডি সিলভা।
দ্বিতীয় সেশনেও কোনও প্রাপ্তি নেই বাংলাদেশের। অর্থাৎ, ক্যান্ডি টেস্টের চতুর্থ দিনের দুই সেশন পেরিয়ে গেলেও একটি উইকেটও পায়নি সফরকারীরা। বাংলাদেশের বোলারদের রীতিমতো শাসন করছেন দুই সেঞ্চুরিয়ান করুণারত্নে-ধনাঞ্জয়া। তাদের দুর্দান্ত ব্যাটিংয়ে চা বিরতির আগে শ্রীলঙ্কার স্কোর ছিল ১৩৪ ওভারে ৩ উইকেটে ৪৪২। বাংলাদেশের চেয়ে পিছিয়ে তখন ৯৯ রানে।
করুণারত্নে ১৮৪ রানে ও ধনাঞ্জয়া অপরাজিত ছিলেন ১৩৪ রানে। চতুর্থ উইকেটে তারা গড়েছেন ২৫২ রানের অবিচ্ছিন্ন জুটি।
করুণারত্নের দেড়শ ধনাঞ্জয়ার শতক
সকালেই সেঞ্চুরি পেয়েছেন দিমুথ করুণারত্নে। ইনিংস আরও বড় করে শ্রীলঙ্কান অধিনায়ক ছুঁয়েছেন দেড়শ’র মাইলফলক। তাকে যোগ্য সঙ্গ দিয়ে ধনাঞ্জয়া ডি সিলভাও তুলে নিয়েছেন সেঞ্চুরি। তাদের আধিপত্যে ক্যান্ডি টেস্টের চতুর্থ দিনে ধুঁকছে বাংলাদেশ।
টেস্ট ক্যারিয়ারের ১১তম সেঞ্চুরি পেয়েছেন করুণারত্নে। আর দেড়শ ছাড়ানো ইনিংস পেলেন পঞ্চমবার। এর আগে সবশেষ মাইলফলকটি তিনি ছুঁয়েছিলেন ২০১৮ সালে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে। তার সঙ্গে চতুর্থ দিন শুরু করা ধনাঞ্জয়া পেয়েছেন টেস্ট ক্যারিয়ারের সপ্তম সেঞ্চুরি। তাসকিন আহমেদের বলে বাউন্ডারি হাঁকিয়ে তিন অঙ্কের ঘরে পৌঁছান এই ব্যাটসম্যান। ১৫৩ বলে শতক পূরণ করেন ধনাঞ্জয়া।
ব্যক্তিগত সংগ্রহ বাড়িয়ে নেওয়ার সঙ্গে করুণারত্নে-ধনাঞ্জয়া গড়েছেন বড় জুটি। ইতিমধ্যে চতুর্থ উইকেটে তারা গড়েছেন ২০০ ছাড়ানোর জুটি।
শ্রীলঙ্কার আধিপত্যে মুমিনুলদের হতাশা
ওভারের পর ওভার পার হলো, কিন্তু এলো না কোনও সাফল্য। ক্যান্ডি টেস্টের চতুর্থ দিনের প্রথম সেশনের পুরোটাই শ্রীলঙ্কার। লাঞ্চের আগে উইকেটশূন্য্ বাংলাদেশ। তাইজুল ইসলাম-মেহেদী হাসান মিরাজদের ওপর ছড়ি ঘুরিয়ে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে স্বাগতিকরা।
চতুর্থ দিনের প্রথম সেশনে হয়েছে ৩১ ওভার। আধিপত্য বিস্তার করে লঙ্কানরা উইকেট অক্ষত রেখে তুলেছে ১০২ রান। স্বভাবতই চরম হতাশায় কেটেছে বাংলাদেশের সময়। পাল্লেকেলে স্টেডিয়ামের উইকেট ব্যাটিং স্বর্গ হওয়ার পরও তৃতীয় দিনের শেষ বিকেলে আশা জাগিয়েছিল মুমিনুল হকরা। কিন্তু চতুর্থ দিনের প্রথম সেশনে উল্টো ছবি।
দিমুথ করুণারত্নের সেঞ্চুরি ও ধনাঞ্জয়া ডি সিলভার শতকের দিকে এগিয়ে যাওয়া ইনিংসে ভর করে লঙ্কানরা লাঞ্চ বিরতিতে যায় ১০৪ ওভারে ৩ উইকেটে ৩৩১ রানে। তখনও বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে স্বাগতিকরা পিছিয়ে ছিল ২১০ রানে। আর ফলোঅন থেকে ছিল ১১ রান দূরে।
ঘরের মাঠের সুবিধা সব দলই পেতে চায়। বাংলাদেশের বিপক্ষে ক্যান্ডি টেস্টেও শ্রীলঙ্কা অধিনায়ক দিমুথ করুণারত্নের প্রত্যাশা ছিল তেমনটাই। কিন্তু উইকেটে বোলারদের জন্য কিছুই পাননি তিনি। তাই রানের পাহাড় গড়েছে বাংলাদেশ। তার জবাবটা করুণারত্নে নিজেই দিচ্ছেন ব্যাট হাতে। তৃতীয় দিনে জাগিয়ে রেখেছিলেন সেঞ্চুরির সম্ভাবনা, আর চতুর্থ দিনের সকালেই পেয়ে গেছেন তিন অঙ্কের ম্যাজিক ফিগার।
করুণারত্নের সেঞ্চুরিতে জবাবটা ভালোই দিচ্ছে শ্রীলঙ্কা। বাংলাদেশের ৭ উইকেটে ৫৪১ রানে প্রথম ইনিংস ঘোষণার পর ৩০০ ছাড়িয়েছে স্বাগতিকদের স্কোর। রান বাড়িয়ে নেওয়ার পথে নেতৃত্ব দিচ্ছেন অধিনায়ক করুণারত্নেই। বাঁহাতি এই ওপেনার পেয়েছেন টেস্ট ক্যারিয়ারের ১১তম সেঞ্চুরি। তাসকিন আহমেদের বলে ২ রান নিয়ে পৌঁছে যান তিন অঙ্কের ঘরে। গত জানুয়ারিতে দক্ষিণ আফ্রিকা সফরের পর প্রথমবার শতক পূরণ করলেন লঙ্কান অধিনায়ক।
তৃতীয় দিনের ৩ উইকেটে ২২৯ রান দিয়ে চতুর্থ দিন শুরু করেন করুণারত্নে ও ধনাঞ্জয়া ডি সিলভা। উইকেট অক্ষত রেখে তারা স্কোর বাড়িয়ে নিচ্ছেন।