সাদা পোশাকে দারুণ সময় কাটাচ্ছেন তামিম ইকবাল। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে শেষ টেস্টে হাফসেঞ্চুরি পেয়েছিলেন। এরপর ক্যান্ডিতে প্রথম টেস্টের দুই ইনিংসেও করেছেন ফিফটি। আজও হাফসেঞ্চুরি পেলেন, কিন্তু প্রায় সব ইনিংসই আক্ষেপে মোড়ানো। কেন? সবশেষ তিন ইনিংসে সেঞ্চুরির সম্ভাবনা জাগিয়েও যে তিন অঙ্কের ঘরে যেতে পারেননি তিনি।
ক্যান্ডি টেস্টের তৃতীয় দিনে বাংলাদেশের ইনিংসের শুরু থেকেই আগ্রাসী ছিলেন তামিম। স্কোরবোর্ডে যখন বাংলাদেশের রান ৮৬, তখন তামিমের ব্যক্তিগত স্কোরই ৭৯ বলে ৬৫। বোঝাই যাচ্ছে শুরু থেকেই কতটা আগ্রাসী ছিলেন বাঁহাতি এই ওপেনার। ওয়ানডে ক্রিকেটে কিছুটা ধীরস্থির ব্যাটিং করলেও লাল বলের ক্যারিয়ারের মারমুখী তামিমকেই পাওয়া যায়। শ্রীলঙ্কার বোলারদের শাসন করে নিজের হাফসেঞ্চুরির সঙ্গে দলের রানও বাড়িয়ে নিয়েছেন তিনি।
৫৭ বলে পাওয়া হাফসেঞ্চুরি সেঞ্চুরিতে রূপ দেওয়ার পথে ছিলেন তামিম। কিন্তু প্রথম টেস্টের মতো দ্বিতীয় টেস্টেও ৯০’র ঘরে গিয়ে পথ হারালেন বাঁহাতি ওপেনার। আবার তিনি ‘নার্ভাস নাইন্টিজের’ শিকার। এর আগে প্রথম টেস্টের দ্বিতীয় ইনিংসে বৃষ্টি বাধায় সেঞ্চুরির সুযোগ হাতছাড়া হয়েছিল। পরিসংখ্যান বলছে, ওয়ানডে ও টেস্ট মিলিয়ে মোট ছয়বার তামিম আউট হয়েছেন ৯০’র ঘরে। এর আগে সাদা পোশাকে ২০১৩ সালে ঢাকায় নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে করেছিলেন ৯৫। বাকি তিনটি ওয়ানডেতে। ২০১০ সালে জিম্বাবুয়ে, ২০১৫ বিশ্বকাপে স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে ও ২০১৭ চ্যাম্পিয়নস ট্রফিতে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে তামিম আউট ৫ রানের আক্ষেপ নিয়ে।
সব মিলিয়ে গত দুই বছরে ১৩ ইনিংস ধরে সেঞ্চুরির দেখা নেই তার। শনিবার শুরুর তামিমের সঙ্গে শেষের তামিমের বিস্তর ফারাক। ৮০ রান হতেই তামিমকে দেখা গেছে ‘নার্ভাস’ ব্যাটিংয়ে। বেশ কয়েকবার লাইন মিস করেছেন, দিয়েছেন হাফচান্সও। শেষ পর্যন্ত নবীন স্পিনার প্রবীণ জয়াবিক্রমার কাছেই পরাস্ত হন। তার ঘূর্ণি বল রক্ষণাত্মক ভঙ্গিতে খেলছিলেন, কিন্তু বলটি তামিমের ব্যাট ছুঁয়ে চলে যায় স্লিপে দাঁড়ানো লাহিরু থিরিমানের হাতে। আর তাতেই শেষ হয় তামিমের ৯২ রানের ইনিংসটি।
১৫০ বলে ইনিংসে ছিল ১২টি চারের মার। এদিন এই ইনিংস খেলার পথে আরেকটি মাইলফলক স্পর্শ করেছেন তামিম। হাফসেঞ্চুরির পথে ৭ বাউন্ডারি মেরে পৌঁছে যান ৬০০ বাউন্ডারির মাইলফলকে। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ চার (৫৫৪) এসেছে মুশফিকুর রহিমের ব্যাটে।
গত ১৩ ইনিংসে তামিমের ৬ ইনিংসেই আছে হাফসেঞ্চুরি। যার মধ্যে পাঁচবার ৭০ রানের ইনিংস খেলেছেন। কিন্তু দুর্ভাগ্য একটিকেও সেঞ্চুরিতে রূপ দিতে পারেননি এই ওপেনার। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে সাতটি হাফসেঞ্চুরি থাকলেও সেঞ্চুরির নেই একটিও।
বাংলাদেশের সেরা ওপেনারের সবচেয়ে বেশি সেঞ্চুরি ইংল্যান্ডের বিপক্ষে। ৬ ম্যাচে ইংলিশদের বিপক্ষে সেঞ্চুরি তিনটি। ম্যানচেস্টারে ২০১০ সালে স্বাগতিকদের বিপক্ষে পরপর দুই টেস্টে সেঞ্চুরির দেখা পান তামিম। সমান ম্যাচে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে সেঞ্চুরি দুটি। এছাড়া ভারত, পাকিস্তান, ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে একটি করে সেঞ্চুরি আছে তামিমের। এখন পর্যন্ত অস্ট্রেলিয়া, শ্রীলঙ্কা ও দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে সেঞ্চুরির দেখা পাননি তামিম।
তার ক্যারিয়ারসেরা ইনিংসটি পাকিস্তানের বিপক্ষে। ২০১৫ সালে খুলনা টেস্টে একমাত্র ডাবল সেঞ্চুরিটি পান তামিম। ৪৪৮ মিনিট ক্রিজে থেকে ২৭৮ বলে ২০৬ রানের ইনিংস খেলেছিলেন ড্যাশিং ওপেনার।
ক্যান্ডি টেস্টে রান সংখ্যায় তিনবার একে অন্যকে ছাড়িয়ে গেছেন তামিম-মুশফিক। গত কয়েকটি সিরিজ ধরেই বাংলাদেশের দুই ক্রিকেটারের মধ্যে দেশের হয়ে টেস্টের শীর্ষ রান সংগ্রাহকের লড়াই চলছে।
গত দেড় বছরে টেস্ট ক্রিকেট বাংলাদেশের শীর্ষ রান সংগ্রাহকের লড়াইটা হচ্ছে তাদের। এই সময়টাতে অন্তত ছয়বার মুশফিক-তামিমের মধ্যে টেস্টের সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহকের শীর্ষস্থান বদল হয়েছে। ক্যান্ডিতে প্রথম টেস্টেই তিনদফা বদল হয়েছে। তবে শনিবার আরও একটি হাফসেঞ্চুরি করে অনেকটাই এগিয়ে গেলেন তামিম। বাংলাদেশের সেরা এই ওপেনারের বর্তমান রান ৪ হাজার ৭৬৪।