মুস্তাফিজের মতো কাটার রপ্ত করছেন মেহেদী

আর মাত্র ১৯ দিন পর আরও একটি ক্রিকেট উৎসবে মাতবে বাংলাদেশ। আগামী ২৭ জানুয়ারি ঘরের মাঠে আইসিসি অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপের আসর বসছে বাংলাদেশে। বাংলাদেশের ক্রিকেটে আক্ষেপ হয়ে আছে অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপের ট্রফি। আগের বছরগুলোতে ভালো ক্রিকেট খেলতে থাকা যুবারা শেষ পর্যন্ত টুর্নামেন্টে গিয়ে ব্যর্থ হয়েছে। মিরাজ-শান্তদের মাধ্যমেই প্রথম কোনও বৈশ্বিক শিরোপা জয়ের স্বপ্নে বিভোর বাংলাদেশ। বাঁহাতি পেসার মেহেদী হাসান রানা

যুব টুর্নামেন্টে চ্যাম্পিয়ন হতে ১৫ ক্রিকেট যোদ্ধা প্রস্তুতি নিচ্ছেন। এদেরই একজন বাঁহাতি পেসার মেহেদী হাসান রানা। চাঁদপুর শহর থেকে প্রায় ৫০ কি.মি দূরে কচুয়ায় বাড়ি মেহেদীর। সেখান থেকেই সপ্তাহে ৩-৪ দিন চাঁদপুর একাডেমিতে এসে অনুশীলন শুরু করেছেন কিশোর বয়সেই। প্রিয় বন্ধু মুস্তাফিজ বর্তমানে জাতীয় দলে খেলছেন। গত বছর দূর্দান্ত ক্রিকেট খেলা মুস্তাফিজের মতো কাটার খুব দ্রুতই রপ্ত করতে চান মেহেদী হাসান।

৩ বছর ধরে জাতীয় লিগ খেলা রানার প্রেরণা জাতীয় দলের অধিনায়ক মাশরাফি এবং প্রিয় বন্ধু মুস্তাফিজ। তাদের প্রেরণায় অনুপ্রাণিত হয়ে ঘরের মাঠে টুর্নামেন্টে সেরা ৫ বোলারের তালিকায় নিজের নাম লেখাতে চান তিনি। সেই সঙ্গে দলের জয়ে গুরুত্বপূর্ণ অবদানও রাখতে চান চাঁদপুরের এই পেসার।অনুশীলনের ফাঁকে মেহেদী হাসান রানা

আইসিসি অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপে বাংলাদেশের ১৫ যোদ্ধাকে নিয়ে ধারাবাহিক প্রতিবেদন প্রকাশিত হচ্ছে বাংলা ট্রিবিউনে। আজ বৃহস্পতিবার থাকছে বাঁহাতি পেসার মেহেদী হাসান রানার একান্ত সাক্ষাৎকার :-

বাংলা ট্রিবিউন:  আরও অনেক খেলা থাকলেও কেন ক্রিকেটে আসলেন?

মেহেদী হাসান রানাছোটবেলা থেকেই পেস বোলিংয়ের প্রতি আমার বিশেষ দূর্বলতা ছিল। ওই দূর্বলতাই আমাকে উৎসাহ যুগিয়েছে ক্রিকেটার হয়ে উঠতে। ক্রিকেটে মূলত অনূর্ধ্ব-১৬ দিয়ে আমার শুরু। এর আগেও খেলেছি। তবে এটাকে শুরু বলাই ভালো। মাঝখানে অবশ্য ভালো বোলিং হচ্ছিলো না, এ কারণে অনূর্ধ্ব-১৭ দলে ডাক পাইনি। তখন থেকে বাড়তি পরিশ্রম করেছি। যার ফল দ্রুতই পেয়েছি। জাতীয় দলের হয়ে অনুর্ধ্ব-১৮ দলে সুযোগ পেলাম। ওখানে ভালো খেলেই আবার ডাক পেলাম অনূর্ধ্ব-১৯ দলে। অবশ্য তার আগে পেস বোলিং ফাউন্ডেশন ক্যাম্পে আমাকে প্রশিক্ষণ নিতে হয়েছে। ওখানে জ্যাকি স্যার ও সরু স্যারের পরিকল্পনা মতো কাজ করে আমার অনেক উন্নতি হয়েছে। প্রিয় বন্ধু সাইফউদ্দিনের সঙ্গে সেলফি

বাংলা ট্রিবিউন:  অনেকদিন ধরে অনুশীলনের মধ্যে আছেন। কেমন প্রস্তুতি হয়েছে?

মেহেদী হাসান রানা:  আমাদের গ্রুপে শক্তিশালী দল শুধুমাত্র দক্ষিণ আফ্রিকা। তাদের সঙ্গে গত বছর আমরা ১৪টি ওয়ানডে ম্যাচ খেলেছি। যার মধ্যে ১১টিতেই আমরা জিতেছি। ওদের থেকে আমাদের আত্মবিশ্বাস অনেক বেশি। শুধু এই কারণে নয়। সব মিলিয়ে আমাদের প্রস্তুতি বেশ ভালো। আমরা আসলে একটি একটি ম্যাচ করে পরিকল্পনা করতে চাই। গ্রুপ পর্বে চ্যাম্পিয়ন হয়ে সুপার লিগে আমাদের চোখ।

বাংলা ট্রিবিউনবিশ্বকাপে আপনার লক্ষ্য কী?

মেহেদী হাসান রানাদলের জন্য শতভাগ দেওয়ার চেষ্টা করবো। সবার আগে দল, দলের জন্য কিছু করতে পারলেও ওই অর্জনটা ব্যাক্তিগত অর্জনের সঙ্গে এমনিতেই যোগ হবে। এই টুর্নামেন্টে ভালো পারফরম্যান্স করে নিজের যোগ্যতার প্রমাণ রাখতে চাই। এই টুর্নামেন্টে বোলারদের ভেতর সেরা পাঁচে থাকতে চাই। বলে ভেরিয়েশন আনার চেষ্টা করছি। মুস্তাফিজের মতো কাটার রপ্ত করছি।

বাংলা ট্রিবিউন:  মাশরাফি আপনাদের সঙ্গে কথা বলেছেন; তার কাছ থেকে কী অনুপ্রেরণা নিচ্ছেন?

মেহেদী হাসান রানা:  মাশরাফি ভাইয়ের কথা আমরা মন্ত্রমুগ্ধের মতো শুনেছি। তিনি বারবার বলেছেন চাপমুক্ত হয়ে খেলার কথা। এছাড়া আগের ম্যাচের ভালো পারফরম্যান্স ভুলে প্রত্যেকটি ম্যাচকে নতুন ভাবে দেখতে বলেছেন তিনি। তার প্রত্যেকটা কথাই অনুপ্রেরণা যোগায়। ফিল্ডিং অনুশীলনের সতীর্থদের সঙ্গে রানা

বাংলা ট্রিবিউন:  এই টুর্নামেন্টে আমাদের ভালো ক্রিকেট না খেলার যে আক্ষেপ আছে। সেটা দূর করা সম্ভব কিনা?

মেহেদী হাসান রানা:  অবশ্যই সম্ভব। আমরা পুরোপুরি প্রস্তুত। টুর্নামেন্টে আমরা কোনও ভুলই করতে চাই না। আমাদের কোচ থেকে শুরু করে টিম ম্যানেজম্যান্ট সবাই মিলে দারুণ পরিকল্পনা করছি।

প্রোফাইল

নাম : মেহেদী হাসান

ডাক নাম : রানা

জন্ম : ১ জানুয়ারি ১৯৯৭

জন্মস্থান : কচুয়া

উচ্চতা : ৫ ফুট ১১ ইঞ্চি

ওজন : ৭১ কেজি

পড়াশুনা : এইচএসসি দ্বিতীয় বর্ষ

প্রথম ক্লাব : চাঁদপুর একাডেমী

বর্তমান ক্লাব : শেখ জামাল ধানমণ্ডি ক্লাব

বোলিং স্টাইল : বাঁহাতি পেস বোলার

প্রিয় ক্রিকেটার : মোহাম্মদ আমির (পাকিস্তান) এবং মাশরাফি বিন মুর্তজা, মোহাম্মদ আশরাফুল ও মুশফিকুর রহিম (বাংলাদেশ)

ক্রিকেট ছাড়া অন্য প্রিয় খেলা : ব্যাডমিন্টন

প্রিয় বন্ধু : মুস্তাফিজ, মানিক ও সাইফউদ্দিন

ক্যারিয়ারের সেরা মুহূর্ত:  শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে সিরিজ জয় তাদের মাটিতে

মেহেদী হাসান রানা



ছবিসাজ্জাদ হোসেন

/এমআর/