প্রথম ম্যাচ ভুলে যাওয়ার মতো। দ্বিতীয় ম্যাচে সাইফউদ্দিনের চোট কপাল খুলে দিলেও তাসকিন আহমেদ যেন নিজের ছায়ায় বন্দি ছিলেন। আজ (শুক্রবার) শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে শেষ ওয়ানডেতেও তার বোলিং ছিল এলোমেলো। কিন্তু বাংলাদেশের সাফল্য এসেছে তার হাত ধরেই।
স্বস্তি ফেরালেন তাসকিন। টস জিতে ব্যাটিংয়ে নামা শ্রীলঙ্কার দুই ওপেনারকে থামানোই যাচ্ছিল না। আক্রমণাত্মক মেজাজে ব্যাট করে রান তুলছিলেন দ্রুত। অবশেষে সেই জুটি তাসকিন ভাঙলেন দানুশকা গুনাথিলাকাকে আউট করে। সেই উৎসব থামতে না থামতেই আবারও উইকেট শিকার তার। ওয়ান ডাউনে নামা পাথুম নিসানকাকেও প্যাভিলিয়নে পাঠিয়েছেন তাসকিন।
উদ্বোধনী জুটিতে দারুণ শুরু পায় শ্রীলঙ্কা। পাল্লা দিয়ে রান তুলছিলেন কুশল পেরেরা ও গুনাথিলাকা। তাদের প্রতিরোধে চাপ তৈরি হয় বাংলাদেশ ক্যাম্পে। অতঃপর বোল্ড করে গুনাথিলাকাকে ফেরান তাসকিন। এই পেসারের বল লঙ্কান ওপেনারের ব্যাটে লেগে আঘাত করে স্টাম্পে। তার আগে ৩৩ বলে ৫ বাউন্ডারি ও ২ ছক্কায় করেন ৩৯ রান।
গুনাথিলাকা আউট হওয়ার ৪ বল পরই আবার তাসকিনের উইকেট। রানের খাতা খোলার আগে উইকেটকিপার মুশফিকুর রহিমের গ্লাভসে আটকা পড়েন নিসানকা।
তাসকিনের জোড়া আঘাতে শ্রীলঙ্কা হারিয়েছে ২ উইকেট। ২০ ওভারে তাদের স্কোর ছিল ২ উইকেটে ১২০।
কপাল পুড়লো লিটনের, একাদশে নাঈম শেখ
ব্যর্থতার বৃত্তে ঘুরপাক খাচ্ছিলেন লিটন দাস। তবু বাংলাদেশের টিম ম্যানেজমেন্টের আশা ছিল, রানে ফিরবেন লিটন। বেশ কয়েক ম্যাচ দেখার পরও যখন সাফল্য এলো না, অবশেষে একাদশ থেকে বাদই পড়লেন এই ওপেনার। তার জায়গায় সুযোগ পেয়েছেন নাঈম শেখ।
টি-টোয়েন্টিতে নিজের সামর্থ্যের প্রমাণ দিয়েছন নাঈম। গত বছরের মার্চে ওয়ানডে অভিষেক হলেও ব্যাট হাতে নামার সুযোগ হয়নি তার। জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে বাংলাদেশের টপ অর্ডার এতটা ভালো করেছিল যে, নাঈমের আর নামতে হয়নি। ৯টি টি-টোয়েন্টি খেলার অভিজ্ঞতা থাকা বাঁহাতি ব্যাটসম্যানের জন্য তাই শ্রীলঙ্কার ম্যাচটি ভীষণ গুরুত্বপূর্ণ।
শেষ ম্যাচে বাংলাদেশের একাদশে পরিবর্তন আছে আরেকটি। দ্বিতীয় ম্যাচে মাথায় আঘাত পাওয়া মোহাম্মদ সাইফউদ্দিনের জায়গায় এসেছেন তাসকিন আহমেদ। তাসকিন আগের ম্যাচে খেললেও সেটা ছিল সাইফউদ্দিনের কনকাশন-সাব হিসেবে। শেষ ম্যাচে মূল একাদশে থেকেই মাঠে নেমেছেন তিনি।
শ্রীলঙ্কার একাদশে চারটি পরিবর্তন। যার মধ্যে তিনজনেরই অভিষেক হয়েছে মিরপুরে। ফিরেছেন উইকেটকিপার নিরোশান ডিকবেলা। আর প্রথমবার আন্তর্জাতিক ওয়ানডে খেলতে নেমেছেন পেসার বিনুরা ফার্নান্ডো এবং দুই স্পিনার রমেশ মেন্ডিস ও চামিকা করুণারত্নে। বাদ পড়েছেন লাকশান সান্দাকান, ইসরু উদানা, দাসুন শানাকা ও অশেন বান্দারা।
বাংলাদেশ একাদশ: তামিম ইকবাল (অধিনায়ক), নাঈম শেখ, সাকিব আল হাসান, মুশফিকুর রহিম (উইকেটকিপার), মাহমুদউল্লাহ, মোসাদ্দেক হোসেন, আফিফ হোসেন, মেহেদী হাসান মিরাজ, তাসকিন আহমেদ, শরিফুল ইসলাম, মোস্তাফিজুর রহমান।
শ্রীলঙ্কা একাদশ: কুশল পেরেরা (অধিনায়ক), দানুশকা গুনাথিলাকা, পাথুম নিসানকা, কুশল মেন্ডিস, নিরোশান ডিকবেলা (উইকেটকিপার), ধনাঞ্জয়া ডি সিলভা, ভানিন্দু হাসারাঙ্গা, রমেশ মেন্ডিস, চামিকা করুণারত্নে, বিনুরা ফার্নান্ডো, দুষ্মন্থ চামিরা।
টস হেরে ফিল্ডিংয়ে বাংলাদেশ
তৃতীয় ও শেষ ওয়ানডেতে বাংলাদেশের সামনে হোয়াইটওয়াশ করার সুযোগ। সেই লক্ষ্যে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে টস হেরে ফিল্ডিংয়ে বাংলাদেশ। চলতি সিরিজে এই প্রথম টস হারলেন বাংলাদেশ অধিনায়ক তামিম ইকবাল।
মেঘাচ্ছন্ন আবহাওয়া ও বাতাসের কারণে নির্ধারিত সময়ের ১০ মিনিট পর হয়েছে টস। প্রথম দুই ম্যাচে টস জিতলেও শেষ ম্যাচে হেরেছে বাংলাদেশ। বিপরীতে চলতি সিরিজে প্রথমবার টস জিতে ব্যাট করতে দ্বিতীয়বার ভাবেননি শ্রীলঙ্কান অধিনায়ক কুশল পেরেরা।
এক ম্যাচ হাতে রেখেই মঙ্গলবার শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজ নিশ্চিত করেছে বাংলাদেশ। তারপরও ক্রিকেটারদের চোখেমুখে আক্ষেপ, হতাশা! দুটি ম্যাচ জিতলেও বাংলাদেশ সেরা ক্রিকেট এখনও খেলতে পারেনি। শুক্রবার শেষ ম্যাচটি সেই আক্ষেপ পূরণের মঞ্চ। এই ম্যাচ নিয়ে তামিম-মাহমুদউল্লাহরও লক্ষ্য নিজেদের সেরা ক্রিকেটটা খেলা। তার সঙ্গে শেষ ম্যাচটি জিতলে লঙ্কানদের বিপক্ষে প্রথমবার তো বটেই, সব মিলে ১৫তম হোয়াইটওয়াশ উদযাপন করার সুযোগ পাবে লাল-সবুজ জার্সিধারীরা।