‘নির্ভুল’ ক্রিকেটের মঞ্চ ভুলে ভরা

গত দুই দিন তামিম-মাহমুদউল্লাহ গলায় গলা মিলিয়ে নির্ভুল ক্রিকেট খেলার সুর তুলেছিলেন। কিন্তু ‘নির্ভুল’ ক্রিকেটের মঞ্চে এসে সেই সুর বেসুরো রূপ নিলো শেষ ওয়ানডেতে! যেভাবে ভুলগুলো শুধরে নির্ভুল ক্রিকেট খেলার কথা, সেখানে আগের দুই ম্যাচের চেয়েও বাজে ক্রিকেট খেললেন তামিম-মাহমুদউল্লাহরা।

শুক্রবার নির্ভুল ক্রিকেট খেলে শ্রীলঙ্কাকে হোয়াইওয়াশ করার স্বপ্ন নিয়ে মাঠে নেমেছিল পুরো দল। কিন্তু শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত পুরো দলকেই হতাশাজনক পারফরম্যান্স করতে দেখা গেছে। যার ফলে ৯৭ রানের বড় ব্যবধানে হার সঙ্গী হয়েছে স্বাগতিকদের।

ভাগ্য ভালো যে গত ম্যাচে টপ অর্ডারের ব্যর্থতার পরও কেবলমাত্র মুশফিকের দৃঢ়তায়ই সিরিজ নিশ্চিত করে ফেলেছিল বাংলাদেশ। তবে সিরিজ নিশ্চিত করার পরও অসন্তুষ্টি ছিল তামিমের কণ্ঠে! কারণ একটাই, সিরিজ জিতলেও প্রথম দুটি ম্যাচে ‘পারফেক্ট’ ক্রিকেট খেলতে পারেনি সবাই। তাইতো তামিম-মাহমুদউল্লাহরা শেষ ম্যাচটিতে ‘পারফেক্ট’ ক্রিকেট উপহার দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছিলেন। কিন্তু শেষটা পারফেক্টতো হলোই না, উল্টো শেষ ম্যাচটিতে এসে চরম হতাশা উপহার দিয়েছেন ক্রিকেটাররা। ব্যাটিং-বোলিং-ফিল্ডিং মিলে কোনও বিভাগেই আগের দুই ম্যাচকে ছাড়িয়ে যেতে পারেনি লাল-সবুজ জার্সীধারীরা।

প্রথম দুই ম্যাচে ফিল্ডিংয়ে উন্নতি চোখে পড়লেও শেষ ম্যাচে এসে খেই হারালেন বাংলাদেশের ফিল্ডাররা। গ্রাউন্ডস ফিল্ডিংয়ের পাশাপাশি বেশ কিছু ক্যাচও মিস করেছেন আফিফ-মোস্তাফিজ-মাহমুদউল্লাহরা। লঙ্কান স্কোরবোর্ডকে সমৃদ্ধ করতে অধিনায়ক কুশল মেন্ডিসের ভূমিকাটাই বেশি। তার ১২০ রানের সুবাদেই শ্রীলঙ্কা ২৮৬ রানের বড় সংগ্রহ দাঁড় করায়। অথচ ৬৬ রানেই ফিরে যেতে পারতেন কুশল মেন্ডিস। শর্ট থার্ডম্যানে মোস্তাফিজের ক্যাচ মিসে এগিয়ে যেতে থাকেন লঙ্কান এই অধিনায়ক। এরপর ব্যক্তিগত ৭৯ রানে দ্বিতীয়বারও সুযোগ দিয়েছিলেন। কিন্তু আফিফ হোসেন সেই সুযোগটি কাজে লাগাতে পারেননি।

ভুলের ছড়াছড়ি আরও ছিল ম্যাচে। ৯৯ রানে মোস্তাফিজের বলে মিড অনে সহজ ক্যাচ দিয়েছিলেন পেরেরা। সহজ সেই ক্যাচটি নিতে পারেননি ‘পারফেক্ট’ ক্রিকেট’ খেলতে চাওয়া মাহমুদউল্লাহ। যার ফলে ৯৯ রানে জীবন পেয়ে ১২০ রান করে দলের স্কোরবোর্ড সমৃদ্ধ করতে বড় ভূমিকা রাখেন পেরেরাই। শুধু এমন ক্যাচই নয়, গ্রাউন্ড ফিল্ডিংয়ে এলোমেলো বাংলাদেশকেই দেখা গেছে।

আগের দুই ম্যাচের তুলনায় শুক্রবারের ম্যাচে উইকেটে তুলণামূলক ঘূর্ণি কম ছিল। বাংলাদেশের স্পিনারদের সাফল্য অনেকাংশে নির্ভর করে উইকেটের সুবিধার ওপর। কিন্তু আজ সুবিধা পায়নি বলেই সাকিব-মিরাজ-মোসাদ্দেকদের কঠিন সময় পার করতে হয়েছে। আগের ম্যাচে সাকিব-মিরাজরে ঘূর্ণিতে লঙ্কান ব্যাটসম্যানরা নাকানি-চুবানি খেলেও শুক্রবার তেমনটি হয়নি। এই দুই বোলারের বিপক্ষে সাবলীল ব্যাটিং করতে দেখা গেছে সফরকারী ব্যাটসম্যানদের। দু’জন ২০ ওভার বোলিং করে ৯৬ রান দিলেও উইকেটের দেখা পাননি কেউ। সেই তুলনায় পেসারদের পারফরম্যান্স বেশ ভালোই ছিল। বিশেষ করে তাসকিনের বোলিংয়ের সামনে বেগ পেতে হয়েছে লঙ্কান ব্যাটসম্যানদের। ৪৬ রানে চার উইকেট নিয়েছেন এই পেসার।

এর পর আসা যাক ব্যাটিংয়ের কথায়। ২৮৭ রানের বিশাল লক্ষ্যে খেলতে নেমে ভীষণ চাপে পড়েই শুরু করে বাংলাদেশ। ফর্মহীনতায় বাদ পড়া লিটনের বদলে একাদশে সুযোগ পেয়েছিলেন নাঈম। কিন্তু লিটনের দেখানো পথে হেঁটেই দলকে বিপদে ফেলে যান তিনি। এরপর ব্যাটিং ভুলে যাওয়া সাকিব-তামিমরা ব্যর্থ হলে খাদের কিনারায় পড়ে যায় বাংলাদেশ। এমন পরিস্থিতিতে আগের দুই ম্যাচের ত্রাতা মুশফিক শেষ ম্যাচে দলকে বাঁচাতে পারেননি। মাহমুদউল্লাহ চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয়েছেন। সবমিলিয়ে টপ অর্ডারের ব্যর্থতায় শেষ ম্যাচটি হেরে গেছে স্বাগতিক দল।

অবশ্য যাকে নিয়ে বেশি প্রত্যাশা ছিল সেই সাকিবই ছিলেন বড্ড বিবর্ণ। নিষেধাজ্ঞা থেকে ফেরার পর ব্যাটিংটাই ভুলে গেছেন সাকিব। লঙ্কানদের বিপক্ষে তিন ম্যাচের একটিতেও তাকে স্বাচ্ছন্দ্যে ব্যাটিং করতে দেখা যায়নি। যতক্ষণই ক্রিজে ছিলেন অস্বস্তি ফুটে উঠেছে। তিন ম্যাচে সাকিবের রান ১৯!

সাকিবের মতো ব্যর্থ হয়েছেন দলের তরুণ ব্যাটসম্যানরাও। লিটন, আফিফ, মেহেদীরা দলে কোন ইমফ্যাক্টই ফেলতে পারেননি। সবমিলিয়ে তাই ব্যাটিংটা ভুগিয়েছে পুরো দলকে। তাই বলতেই হচ্ছে, প্রথম দুই ম্যাচে মুশফিক ভালো না খেললে হয়তো পুরো সিরিজই হয়ে যেতে পারতো ভুলে ভরা!