অনূর্ধ্ব-১৯ দলের 'রহস্যবালক' জনি

ঠিক যেন ধূমকেতুর মতোই হঠাৎ করে উদয় হয়েছেন আরিফুল ইসলাম জনি। তবে হঠাৎ হাজির হলেও আবার হঠাৎ করেই হারিয়ে যেতে চান না তিনি। জামালপুরের এই সন্তান নিজের যোগ্যতা প্রমাণের মঞ্চ হিসেবে দেখছেন এবারের ঘরের মাঠে অনুষ্ঠিতব্য  আইসিসি অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপকে। আরিফুল ইসলাম জনি

একদিন হঠাৎ করেই স্কুল ক্রিকেট খেলার জন্য অনুশীলনে আমন্ত্রণ জানান এলাকার এক বড় ভাই। স্কুল ক্রিকেটে নিজের প্রথম ম্যাচ ৪ উইকেট নিয়ে শুরু তার। এরপর মাঝে অবশ্য ব্যক্তিগত কারণে অনুশীলন ছেড়ে দিয়েছিলেন। জামালপুরের স্থানীয় কোচ শ্যামল স্যারের অনুপ্রেরণায় আবারও অনুশীলনে ফেরেন তিনি। ওখান থেকেই মূলত শুরু হয় জনির ক্রিকেটার হয়ে উঠার গল্পটা। ২০১০ সালে অনুর্ধ্ব-১৪ ক্রিকেট দিয়ে জনির বয়সভিত্তিক টুর্নামেন্ট শুরু হয়।

তার বোলিং ঘূর্ণি চলতে থাকে জামালপুর জেলার হয়েই। ফরিদপুরের বিপক্ষে জামলাপুরের একটি ম্যাচ গত বছরের মাঝামাঝি বিকেএসপিতে অনুষ্ঠিত হয়। ওখানে বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৯ দলের ক্যাম্প চলছিল ঠিক তার পাশের মাঠেই। ওই ম্যাচে জনির ভালো পারফরম্যান্স দেখে তার ফোন নাম্বার রেখে দেন বিকেএসপির কোচ আখিনুজ্জামান রুশো। ফিল্ডিং অনুশীলনে ব্যস্ত জনি

এরপর একদিন হঠাৎ জনির নাম্বারে ফোন আসে। শুরু হয় জনির নতুন পথ চলা। সেই পথ চলতে গিয়ে এরই মধ্যে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে সিরিজ এবং ভারতে অনুষ্ঠিত ত্রিদেশীয় সিরিজও খেলে ফেলেন। সেখানেও ভালো পারফরম্যান্স করে নির্বাচকদের নজর কেড়ে সুযোগ পেয়েছেন অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপের স্কোয়াডে।

আইসিসি অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপে বাংলাদেশের ১৫ যোদ্ধাকে নিয়ে ধারাবাহিক প্রতিবেদন প্রকাশিত হচ্ছে বাংলা ট্রিবিউনে। আজ সোমবার থাকছে বাঁহাতি স্পিনার আরিফুল ইসলাম জনির একান্ত সাক্ষাৎকার :-

বাংলা ট্রিবিউনক্রিকেট উঠে আসা কিভাবে?

আরিফুল ইসলাম জনিআমার অনূর্ধ্ব-১৯ দলে সুয়োগ পাওয়াটা অন্য সবার মতো নয়। আমি অনূর্ধ্ব-১৫ ও অনূর্ধ্ব-১৭ দলে খেলেনি। বিকেএসপিতে অনুষ্ঠিত ন্যাশনাল চ্যাম্পিয়ন্সশিপে আমি জামালপুরের হয়ে ফরিদপুরের বিপক্ষে মাঠে নেমেছিলাম। ওই সময় দক্ষিণ আফ্রিকা সফরে যাওয়ার আগে অনূর্ধ্ব-১৯ দলের ক্যাম্প চলছিল বিকেএসপিতেই। এক ইনিংস পর রুশো স্যার আমাকে ডেকে কোথায় খেলেছি জানতে চাইলেন। সেই সঙ্গে আমার ফোন নাম্বারও রেখে দিলেন। পরবর্তী রুশো স্যার বিসিবিতে আমাকে ক্যাম্পে ডাকার ব্যাপারে অনুরোধ করেন। গত বছর আগস্টের মাঝামাঝি আমাকে সোহেল স্যার ফোন করে ক্যাম্পে আসতে বলে। এরপর থেকেই আমি অনুর্ধ্ব-১৯ দলের সঙ্গে আছি। তার আগেও অবশ্য জামালপুরে স্কুল ক্রিকেটে অংশ নিয়েছি। সেখানে প্রাথমিক অবস্থায় খেলা শুরু করেও ব্যক্তিগত কারণে আবার অনুশীলন বন্ধ করে দেই। টিমমেটদের সঙ্গে আরিফুল ইসলাম জনি

বাংলা ট্রিবিউনঅন্য টিমমেটদের থেকে আপনি তুলনামূলক কম সময় পেয়েছেন। কতটা প্রস্তুতি নিতে পেরেছেন?

আরিফুল ইসলাম জনি: সব মিলিয়ে প্রস্তুতি খারাপ হয়নি। আমি জিম্বাবুয়ে সিরিজে প্রথম ডাক পাওয়ার পর থেকে কিছুটা নার্ভাস ছিলাম। খুব অস্তত্বির মধ্যে ছিলাম। যখন একটু ভালো করলাম, আত্মবিশ্বাস ফিরে এলো। আরও ভালো করার ব্যাপারে আত্মবিশ্বাসী হয়ে উঠলাম। এরপর বিসিবি একাদশের বিপক্ষে প্রস্তুতি ম্যাচগুলোতে ভালো খেলেছি। ত্রিদেশীয় সিরিজে ২ ম্যাচে সুযোগ পেয়েছি সেখানে ভালো করেছি।সবমিলিয়ে বিশ্বকাপে ভালো করার ব্যাপারে আমি আত্মবিশ্বাসী।

বাংলা ট্রিবিউনব্যাটিংও টুকটাক করতে পারেন নিশ্চয়ই?

আরিফুল ইসলাম জনি : প্রথম বিভাগ ক্রিকেট একটি ম্যাচ ব্যাটিং করার সুযোগ পেয়েছিলাম। সেখানে ৬৬ করেছিলাম। আমি আসলে আমার দায়িত্ব যেটা সেটা নিয়েই ভাবছি। কেননা আমাদের দলে অনেক ভালো ভালো ব্যাটসম্যান রয়েছে। ব্যাটিং নিয়ে আমার বাড়তি কোনও চিন্তা নেই।

বাংলা ট্রিবিউনকতটা আশাবাদী শিরোপা জয়ের ব্যাপারে?

আরিফুল ইসলাম জনিএবার আমাদের নিজেদের কন্ডিশনে খেলা। সুযোগ সুবিধা আমাদেরই বেশি থাকবে। এবার আমরা দেশকে ভালো কিছু দিতে পারবো বলে আত্মবিশ্বাসী। জিম্বাবুয়ের সঙ্গে ম্যাচে ম্যাচ সেরার পুরস্কার হাতে জনি

বাংলা ট্রিবিউনব্যক্তিগত লক্ষ্য কি?

আরিফুল ইসলাম জনিআমার আপাতত লক্ষ্য বিশ্বকাপে ভালো পারফরম্যান্স করা। হঠাৎ সুযোগ পেয়েছি তবে হঠাৎ করে হারিয়ে যেতে চাই না। এই বিশ্বকাপের দিকে সবার নজর থাকবে। অবশ্যই চাই এমন কিছু করতে যাতে সারাজীবন মানুষ আমাকে মনে রাখে। এখানে যদি ভালো করতে পারি, সেটা ভবিষ্যতে আমার জন্যই ভালো হবে।

বাংলা ট্রিবিউনআপনি নতুন সদস্য ছিলেন। কোচ ও অধিনায়ক আপনাকে কতটুকু সাহায্য করেছে?

আরিফুল ইসলাম জনিসত্যি কথা বলতে মিরাজ আমাকে অনেক সাহায্য করেছে। নতুন হিসেবে আমাদের অনেক সুযোগ দিয়েছে। তার সাহায্য ছাড়া নতুন অবস্থায় এতোদুর আসতে পারতাম না। কোচ বাবুল স্যারও অনেক হেল্প করেছে। তার কাছ থেকে অনেক কিছু শিখছি। আসলে টিমমেট থেকে শুরু করে কোচিং স্টাপরা সবাই আমাকে অনেক সাহায্য করেছে। আরিফুল ইসলাম জনি

প্রোফাইল

নাম: আরিফুল ইসলাম জনি

ডাক নাম : জনি

জন্ম : ২০ ডিসেম্বর ১৯৯৬

জন্মস্থান : জামালপুর

উচ্চতা : ৫ ফুট ৭ ইঞ্চি

ওজন : ৫৬ কেজি

পড়াশুনা : এইচএসসি দ্বিতীয়বর্ষ

বর্তমান ক্লাব : ওল্ডডিওএইচএস

বোলিং স্টাইল : বাঁহাতি স্পিনার

প্রিয় ক্রিকেটার : হাশিম আমলা (দক্ষিণ আফ্রিকা) এবং মুশফিকুর রহিম (বাংলাদেশ)

ক্রিকেট ছাড়া অন্য প্রিয় খেলা : ফুটবল

প্রিয় ফুটবল তারকা : ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো

প্রিয় ফুটবল ক্লাব : রিয়াল মাদ্রিদ

প্রিয় বন্ধু : ফরিদ, মোশারফ ও নয়ন

ক্যারিয়ারের সেরা মুহূর্ত: জিম্বাবুয়ের সঙ্গে তৃতীয় ম্যাচে ৪ উইকেট নিয়ে ম্যাচ সেরার পুরস্কার পেয়েছিলেন

ছবি : সাজ্জাদ হোসেন

/এমআর/