সেঞ্চুরির এত কাছে গিয়েও পেলেন না লিটন

আর মাত্র ৫ রান। তাহলেই টেস্ট ক্যারিয়ারে প্রথমবারের মতো সেঞ্চুরির আনন্দে মাততে পারবেন। কিন্তু এলো না সেই উপলক্ষ। শতকের কাছে গিয়েও হতাশায় পুড়তে হলো লিটন দাসকে। ৯৫ রানে আউট হয়ে গেছেন এই উইকেটকিপার।

হারারে টেস্টের প্রথম দুই সেশনে জিম্বাবুয়ের দাপটের পর শেষ সেশনে দাপট দেখালো মাহমুদউল্লাহ ও লিটন জুটি। দুই ব্যাটসম্যানের শত রানের জুটিতে প্রাথমিক বিপর্যয় কাটিয়ে ওঠে সফরকারী বাংলাদেশ। জিম্বাবুয়ের বোলারদের তোপের মুখে টপ অর্ডারের ব্যর্থতার দিনে গুরুদায়িত্ব পালন করেছেন লিটন। ‘প্রিয়’ প্রতিপক্ষ জিম্বাবুয়েকে পেয়ে অনেকটা ওয়ানডে ধাঁচে সাদা পোশাকে প্রথম সেঞ্চুরির দিকে ছুটছিলেন তিনি। কিন্তু ডোনাল্ড তিরিপানোর বলে সেঞ্চুরি থেকে মাত্র ৫ রান দূরে থাকতে সাজঘরে ফেরেন এই উইকেটকিপার।

জিম্বাবুয়ে মানেই লিটনের ব্যাটে রানের ফুলঝুরি। ২০১৯ সালে করোনার আগে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ঘরের মাঠে সিরিজে সব ফরম্যাটেই রানের বন্যা বইয়ে দিয়েছিলেন লিটন। ওয়ানডেতে দুই সেঞ্চুরির আগে টেস্টে এক ইনিংসে ব্যাটিং করে পেয়েছিলেন হাফসেঞ্চুরির দেখা। সেই লিটন গত কয়েক সিরিজ ধরে রান খরায় ভুগেছেন। দেশের বাইরে নিউজিল্যান্ড ও শ্রীলঙ্কাতে রান পাননি। দেশে ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও শ্রীলঙ্কার বিপক্ষেও ব্যাটে রান ছিল না। এমনকি ঢাকা প্রিমিয়ার লিগ ক্রিকেটেও সুবিধা করতে পারেননি লিটন। এমন ফর্মহীনতা নিয়েই জিম্বাবুয়ে সফরে গিয়েছেন ডানহাতি এই ব্যাটসম্যান।

বুধবার হারারেতে শুরু থেকেই দারুণ ব্যাটিং করেছেন লিটন। বাঁহাতি স্পিনার মিল্টন শুম্বার বল স্লগ সুইপে মিড উইকেট দিয়ে বাউন্ডারিতে মেরে হাফসেঞ্চুরির মাইলফলকে পৌঁছান তিনি। হাফসেঞ্চুরির পর কিছুটা স্লো ব্যাটিং করতে থাকেন। একটু একটু করে এগিয়ে যাচ্ছিলেন সেঞ্চুরির দিকে। কিন্তু পৌঁছাতে পারেননি। তিরিপানোর বল খেলেছিলেন ফাইন লেগে। কিন্তু লাফিয়ে ওঠা বল তালুবন্দি করে লিটনকে সাজঘরে ফেরান ভিক্তর নিয়াউচি। আউট হওয়ার আগে লিটন ১৪৭ বলে ১৩ চারে করেন ৯৫ রান।

টেস্ট ক্রিকেট ৪২ ইনিংস ব্যাট করে এখন পর্যন্ত এই ফরম্যাটে সেঞ্চুরির দেখা পাননি লিটন। আজই খেললেন ক্যারিয়ার সেরা ইনিংস। এই ফরম্যাটে এর আগে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ৯৪ রান করে আউট হয়েছিলেন ডানহাতি ব্যাটসম্যান। সব মিলিয়ে সাদা পোশাকে লিটনের হাফসেঞ্চুরি ৯টি। ২৯.৯৭ গড়ে তার রান ১ হাজার ২২৯।