পরিস্থিতি বিবেচনায় খেলেই শান্ত-সাদমানের সেঞ্চুরি

ইনজুরির কারণে বেশ কয়েকটি সিরিজ মিস করেছিলেন সাদমান ইসলাম। তবে প্রত্যাবর্তন ম্যাচে ফিরেই দেখা পেয়েছেন সেঞ্চুরির। জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে প্রথম ইনিংসে ব্যর্থ হলেও দ্বিতীয় ইনিংসে ছুঁয়েছেন তিন অঙ্কের ম্যাজিক ফিগার। সাদমানের প্রথম সেঞ্চুরির দিনে তিন অঙ্কের দেখা পেয়েছেন নাজমুল হোসেন শান্তও। তবে দুজনের সেঞ্চুরির ধরন ছিল একেবারেই ভিন্ন। একমাত্র টেস্টের চতুর্থ দিন শেষে দুজনেই জানালেন, কেউই সেঞ্চুরির চিন্তা থেকে ব্যাটিং করেননি! পরিস্থিতি বিবেচনা করেই ইনিংস বিল্ডআপ করেছেন মাত্র।

শুক্রবার তৃতীয় দিনের শেষ সেশনে সাইফের সঙ্গে দুই ঘণ্টার মতো ব্যাটিং করেছেন সাদমান। চতুর্থ দিনে তো প্রতিরোধ গড়ে নিজের প্রথম সেঞ্চুরিটাও তুলে নিয়েছেন। ১৮০ বলে ৮ বাউন্ডারিতে সেঞ্চুরি ইনিংসটি সাজান তিনি। শেষ পর্যন্ত ১৯৬ বলে ৯ চারে ১১৫ রানে অপরাজিত থেকেছেন। নিজের এই ইনিংস নিয়ে সাদমানের মূল্যায়ন, ‘কালকে আমি নটআউট ছিলাম। আজকে (শনিবার) সকাল বেলা আমার পরিকল্পনা ছিল বল বাই বল খেলার। আলহামদুল্লিলাহ আজকে আমি আমার প্রথম সেঞ্চুরির দেখা পেলাম। ব্যক্তিগতভাবে আমার ভালো লাগছে।’ 

দ্বিতীয় উইকেট জুটিতে ২২৫ বলে ১৯৬ রান করেন সাদমান-শান্ত জুটি। যা বাংলাদেশের হয়ে সর্বোচ্চ। তাতে বাংলাদেশের রান পৌঁছে যায় ১ উইকেটে ২৮৪ রানে। শান্তও পেয়ে যান ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় সেঞ্চুরির দেখা। সাদমান ধীরে সুস্থে ব্যাটিং করলেও শান্ত আক্রমণাত্মক ব্যাটিং করেছেন। সব মিলিয়ে ১১৮ বলে ৫ চার ও ৬ ছক্কায় ১১৭ রান করেন শান্ত। আক্রমণাত্মক খেলার কারণ হিসেবে শান্ত বলেছেন, ‘আজকে পরিস্থিতিটাই এমন ছিল, আমরা যদি একটু দ্রুত খেলতে পারি, তাহলে সময়টা কিছুটা বেশি পাবো। যত বেশি লক্ষ্য দিতে পারবো, ততোই আমাদের জন্য ভালো হবে। ওই পরিকল্পনা করেই গিয়েছিলাম যে, আজ ইতিবাচক ক্রিকেট খেলবো।’

শান্ত আরও যোগ করে বলেছেন, ‘উইকেটে আমরা দু’জন দুইজনকে হেল্প করছিলাম। কীভাবে আমাদের খেলা উচিত, কীভাবে আমরা এগিয়ে যাবো। একশো নিয়ে আমরা কেউই চিন্তা করিনি, পরিস্থিতি অনুযায়ী খেলার চেষ্টা করেছি।’

শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে প্রথম সেঞ্চুরি পাওয়ার পর চার টেস্টে রান পাননি শান্ত। শনিবার দ্বিতীয় সেঞ্চুরি পেয়ে জানালেন অফফর্ম নিয়ে খুব বেশি ভাবেন না তিনি, ‘আগের চার ইনিংস খারাপ হয়েছে। ক্রিকেট খেলায় সেটা হতেই পারে। অবশ্যই আমার চেষ্টা থাকে সব সময় যেন নিয়মিত রান করতে পারি। অতীত নিয়ে খুব বেশি চিন্তা করিনি।’ 

৪৭৭ রানের লক্ষ্য ছুঁড়ে দিয়ে জিম্বাবুয়ের তিন উইকেট নিয়ে তাদের ভালোই চেপে ধরেছে বাংলাদেশ। জয়ের জন্য বাংলাদেশের প্রয়োজন আর সাতটি উইকেট। অন্যদিকে জিম্বাবুয়েকে জিততে গেলে মহাসমুদ্র পাড়ি দিতে হবে। সাদমান মনে করেন, আজকের মতো আগামীকালও নিয়ন্ত্রিত বোলিং করতে পারলে দ্রুতই জয় পাওয়া সম্ভব, ‘এখন পর্যন্ত আমরা খুব ভালো অবস্থানে রয়েছি। আগামীকাল (রবিবার) যদি আমরা এমন টাইট বোলিং করতে পারি, তাহলে দ্রুততম সময়ে ওদের অলআউট করতে পারবো।’