প্রসঙ্গ মাহমুদউল্লাহর অবসর, বিসিবির কেউ কিছুই জানেন না!

৮ বছর আগে এই জিম্বাবুয়েতেই হওয়া মুশফিকুর রহিমের ঘটনার পুনরাবৃত্তি করলেন মাহমুদউল্লাহ! ২০১৩ সালে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজে হেরে অধিনায়কত্ব থেকে পদ্যতাগ করেন মুশফিক। যদিও বিসিবির অনুরোধে পরে অধিনায়কত্ব চালিয়ে যায়। সেই পথেই কি হাঁটছেন মাহমুদউল্লাহ?

নিজে অবসরের ঘোষণা দেননি। কিন্তু গত কয়েকদিনের যে আলোচনা ও পঞ্চম দিনের যে দৃশ্যপট, তাতে স্পষ্ট ইঙ্গিত মাহমুদউল্লাহ আর টেস্ট খেলবেন না। রবিবার ম্যাচের পঞ্চম দিনে সতীর্থরা তাকে ‘গার্ড অব অনার’ দিয়েছেন। ড্রেসিং রুম থেকে মাঠে প্রবেশের পথে তামিম, সাকিব, মুমিনুল, লিটনরা দুই পাশে দাঁড়িয়ে তাকে সম্মান জানান।

ম্যাচের দ্বিতীয় দিনে দলকে বাঁচাতে খেলেছিলেন ১৫০ রানের অপরাজিত ইনিংস। সেই ইনিংসের পরই টেস্ট না খেলার বিষয়টি ড্রেসিংরুমে সতীর্থদের সঙ্গে আলাপ করেছিলেন। পরদিন সংবাদমাধ্যমকে ভিডিও বার্তা পাঠালেও নিজের অবসর নিয়ে কোনও কথা বলেননি মাহমুদউল্লাহ। তবে নিজের সিদ্ধান্তের ব্যাপারে আগের অবস্থানেই ছিলেন বলে শোনা গেছে। ধারণা করা হচ্ছিল, ম্যাচ শেষে অধিনায়ক মুমিনুল কিংবা মাহমুদউল্লাহর মুখ থেকে তার অবসর সংক্রান্ত কোনও তথ্য জানা যাবে। কিন্তু অদ্ভুত হলেও সত্য এ সংক্রান্ত কোনও প্রশ্নই পুরস্কার বিতরণী মঞ্চে করা হয়নি! ফলে নিজের অবসর নিয়ে মাহমুদউল্লাহর কাছ থেকে কোনও প্রকার মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

মাহমুদউল্লাহর এই ঘটনায় অস্বস্তিতে আছেন বিসিবির পরিচালকরা। ম্যাচের মাঝখানে এমন সিদ্ধান্তটা তাদের পছন্দ হয়নি। নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক পরিচালক বাংলা ট্রিবিউনকে বলেছেন, ‘মাহমুদউল্লাহ আদৌ অবসরের ঘোষণা দিয়েছে কিনা আমরা (বিসিবি) জানি না। দিয়ে থাকলেও টেস্টের মাঝপথে কেন এমন সিদ্ধান্ত নিতে হবে? টিভিতে দেখেছি তাকে গার্ড অব অনার দেওয়া হয়েছে। কিন্তু এ ব্যাপারে আমরা এখনও কিছু জানি না। ক্রিকেট পরিচালনা বিভাগ রয়েছে, তারা বিষয়টি দেখবে। যত যাই হোক টেস্ট চলাকালীন সময়টাতে মাহমুদউল্লাহর এমন কিছু করা উচিত হয়নি।’

দেশের হয়ে একযুগের বেশি সময় ধরে খেলছেন মাহমুদউল্লাহ। টেস্টে বাতিলের খাতায় ফেলে দিলেও পরিসংখ্যান কিন্তু তার পক্ষেই কথা বলছে। গত তিন বছরে টেস্ট ক্রিকেটে বাংলাদেশের তিন সফল ব্যাটসম্যানের একজন তিনি। ১৩ টেস্টে ৪ সেঞ্চুরি একটি হাফসেঞ্চুরিতে ৪০.৪২ গড়ে তার রান ৮৪৯ রান। ওপরে আছেন ১ হাজার ১৯৫ রান নিয়ে মুমিনুল ও ১ হাজার ৬০ রান নিয়ে মুশফিক।

মূলত গত বছরের ফেব্রুয়ারিতে পাকিস্তানের বিপক্ষে টেস্টে হতাশাজনক পারফরম্যান্সের পর গুঞ্জন ওঠে, টেস্ট থেকে বাদ পড়ছেন মাহমুদউল্লাহ। সেই গুঞ্জন সত্যিও হয় জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ঠিক তার পরের একমাত্র টেস্টে বাদ পড়ে। এমনকি গত বছরের মার্চে বিসিবি ঘোষিত কেন্দ্রীয় টেস্ট চুক্তিতে ছিলেন না মাহমুদউল্লাহ। স্বাভাবিকভাবেই ওয়েস্ট ইন্ডিজ, নিউজিল্যান্ড ও শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে লাল বলে উপেক্ষিত ছিলেন তিনি। সব মিলিয়ে অভিমানেই তিনি টেস্ট ছাড়ার সিদ্ধান্ত।

মাহমুদউল্লাহ কিংবা বিসিবি মুখে কুলুপ এটে থাকলেও মাঠের দৃশ্য বুঝিয়ে দিয়েছে টেস্ট ক্রিকেট আর খেলছেন তিনি। ধারাভাষ্যকার শামীম আশরাফ চৌধুরী দিনের খেলা শুরুর আগে বলেছিলেন, ‘আজ সকালে এই ভদ্রলোক… মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ বাংলাদেশ স্কোয়াডের সিনিয়র ক্রিকেটার প্রথম ইনিংসে ১৫০ রান করেছিলেন। তবে তিনি প্রত্যেককে জানিয়েছেন, টেস্ট ক্রিকেট থেকে অবসর নিচ্ছেন। এজন্য সতীর্থরা তাকে গার্ড অব অনার দিয়েছে। এই টেস্টের পর বাংলাদেশ দীর্ঘদিন টেস্ট ম্যাচ খেলবে না। তার সিদ্ধান্তকে সম্মান জানিয়ে সতীর্থরা গার্ড অব অনার দিয়েছে।’